বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৭

কক্সবাজার সৈকতের সেই অবৈধ স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো

প্রকাশিতঃ শনিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২০, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ


কক্সবাজার প্রতিনিধি : উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের সেই ৫২টি অবৈধ স্থাপনা।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টায় উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়। মাত্র দুই ঘন্টার ব্যবধানে বিকাল পাঁচটায় অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব আবু জাফর রাশেদ।

উচ্ছেদ করা এসব স্থাপনার মধ্যে ছিল, রেস্তোরাঁ, শুটকি মাছের দোকান, ট্যুরিজম অফিস, ফার্মেসি ইত্যাদি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এ উচ্ছেদ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব আবু জাফর রাশেদ ও কক্সবাজার সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ শাহরিয়ার মোক্তার।

এর আগে শনিবার দুপুরে উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে প্রশাসন।

অভিযোগ উঠেছে, অবৈধ স্থাপনার মালিকগণ বহিরাগত হাজারো লোক ভাড়া করে এনে কাপনের কাপড় পড়িয়ে বিক্ষোভ করে ও উচ্ছেদ অভিযানে বাধা প্রদান করেন। এতে এক পর্যায়ে ব্যবসায়ী ও পুলিশের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য, সংবাদকর্মী নুরুল করিম রাসেল, শাহ আলম ও ইকবাল বাহারসহসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ব্যবসায়ীদের পক্ষের লোকজনের নিক্ষেপ করা ইটপাটকেলে তারা আহত হন।

এদিকে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুকুলসহ ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী সুগন্ধা পয়েন্টে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলে কক্সবাজার পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছিলেন দখলকারীরা।

এ প্রেক্ষিতে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল তাদেরকে উচ্ছেদের নোটিশ দেয়। পরে জসিম উদ্দিনসহ ৫২ জন একটি রিট আবেদন দায়ের করেন। একই বছরের ১৬ এপ্রিল হাইকোর্ট রুল জারি করে স্থগিতাদেশ দেন।

এর বিরুদ্ধে ভূমি মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। গত ১ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ শুনানি শেষে হাইকোর্টের রুল ও স্থগিতাদেশ খারিজ করে রায় দেন।

ফলে ওই ৫২ ব্যক্তির স্থাপনা উচ্ছেদে কোনো বাধা না থাকায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে সুগন্ধা পয়েন্টের এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়।