
ঢাকা : করোনায় আক্রান্ত হয়ে ওয়েল গ্রুপের গাজীপুর কারখানার মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ও পঁচাত্তর পরবর্তী চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খান মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহে…রাজেউন)।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ইমপালস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এর আগে গত ৩ অক্টোবর তার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হলে ওয়েল গ্রুপের তত্ত্বাবধানে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতিতে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সপ্তাহে তাকে ইমপালস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিনি আইসিও ও ভেন্টিলেশনে ছিলেন। চিকিৎসকদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে সোমবার সকালে তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন।
মৃত্যকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে, মা, ভাইবোনসহ বহু আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তার মরদেহ ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আনা হচ্ছে। আজ বাদ এশা উত্তর চান্দগাঁওয়ের নিজ বাড়ি সংলগ্ন মসজিদে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রয়াতের আত্মীয় ওয়েল গ্রুপের পরিচালক সৈয়দ শহীদুল ইসলাম।
প্রয়াতের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও বাল্যবন্ধু ওয়েল গ্রুপ চেয়ারম্যান সৈয়দ নুরুল ইসলাম একুশে পত্রিকাকে শওকত আলী খানের স্মৃতিচারণ করে বলেন, পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে যখন আওয়ামী লীগের নাম উচ্চারণ করা কঠিন ছিল তখন শওকত, আমরা ছাত্রলীগ করেছি। আমি মোহরা ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি আর শওকত ছিলো পাশ্ববর্তী চান্দগাঁও ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক।
আমি পরবর্তীতে মোহরা ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগে সক্রিয় হই আর শওকত মহসীন কলেজ, কমার্স কলেজ হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ করেছে। আজকের তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদেরও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন শওকত। আমরা সবাই একসাথে ছাত্রলীগ করেছি। লড়েছি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।
শওকত আলী খানকে মিছিল-মিটিংয়ের প্রথম কাতারের কর্মী উল্লেখ করে সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত এমন নিবেদিত, অন্ত:প্রাণকর্মী আজকের দিনে সত্যিই বিরল।
প্রয়াতের আত্মার শান্তির জন্যে তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
