সন্দ্বীপে ‘মিতালীগ’র দাপটে ঘরছাড়া আ.লীগ, চলছে উন্নয়ন-হরিলুট


জোবায়েদ ইবনে শাহাদত : ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মাহফুজুর রহমান মিতা। ৭ বছর পূর্ণ না হতেই শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি।

অভিযোগ আছে, টাকার পাহাড় গড়তে তিনি হাতিয়ার করেছেন দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, কমিশনবাণিজ্য, নিয়ােগবাণিজ্য, টেন্ডারবাণিজ্য, ইয়াবা-মাদক বাণিজ্যকে।

আরও অভিযোগ, জামায়াত-শিবির ও সুযােগসন্ধানী নব্য আওয়ামী লীগ দিয়ে ক্যাডারবলয় সৃষ্টি করে এমপি মিতা নিজের ক্ষমতাকে করেছেন নিরঙ্কুশ। তার অন্যায়-অনিয়মের প্রতিবাদ করায় নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে আওয়ামী লীগের দু:সময়ের বহু নেতা-কর্মীকে। এমনকি মিথ্যা মামলার আসামি হয়ে অনেকেই হয়েছেন ঘরছাড়া।

অভিযোগ আছে, সাংসদ মিতা পুর্বাচলে নিজের মালিকানাধীন রূপালী লাইফ ইনসুরেন্স লিমিটেডের নামে ৫০ কাঠা জমি, নিজ নামে পূর্বাচলে আরও ৫ কাঠার জমি, গুলশান-২ রাজউকে একটি ফ্ল্যাট, চট্টগ্রাম হাউজিং সোসাইটি ও ঢাকার মিরপুর হাউজিংয়ে ফ্ল্যাট, নােয়াখালী ও খুলনাতে প্লটের মালিক। অবৈধভাবে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ সাংসদ মিতা তার পিএস জসিম, অফিস কর্মকর্তা মাকসুদ ও ওমর ফারুকের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় পাচার করেছেন-এমনও অভিযোগ উঠে এসেছে।

অভিযোগে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বাের্ডের ১৯৭ কোটি টাকার বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আনােয়ার ল্যান্ডমার্ক, মেসার্স বিশ্বাস বিল্ডার্স ও মেসার্স ডলি কনস্ট্রাকশনের কাছ থেকে ১০ শতাংশ কমিশন আদায় করেছেন এমপি মিতা। শুধু তাই নয়, ঠিকাদারগণ কাজ শুরু করলে সেখানে অনৈতিক হস্তক্ষেপ করে নিজের লোক দিয়ে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করেন তিনি। আর এই কাজ করান তার আস্থাভাজন ছিদ্দিক, সমির মেম্বার, আলাউদ্দিন (প্রবাসী), কালাপানিয়ার টিটুকে দিয়ে। ফলে একদিকে কাজ শেষ হতে না হতে ভেঙে পড়েছে অন্যদিক।

অভিযোগ উঠেছে, সন্দ্বীপে সড়ক ও জনপদ বিভাগের বাস্তবায়নাধীন দেলােয়ার খাঁ সড়ক নির্মাণের ৭২ কোটি টাকার টেন্ডারে (টেন্ডার নম্বর- ২১৯৬৫৪) অনিয়ম করেছেন মিতা। এই রাস্তার টেন্ডারে অংশ নেন তিনজন ঠিকাদার। জানা যায়, আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদ সদস্য আফতাব খান অমির প্রতিষ্ঠান ‘র‌্যাভ-আরসি’ সর্বনিম্ন দর আহ্বান করলেও সেই প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ না দিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা জামায়াত নেতা জাহেদুর রহমান জিলামকে সাড়ে চার কোটি টাকা বেশি দরে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন মিতা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই রাস্তার টেন্ডার নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির পর নির্মাণ কাজেও চলছে ব্যাপক অনিয়ম। রাস্তা নির্মাণে জমি অধিগ্রহণের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করার লক্ষ্যে কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে জোরপূর্বক ভেঙে ফেলা হয়েছে সন্দ্বীপের বিভিন্ন বাজারের শত শত দোকান, ভবন। ক্ষতিগ্রস্ত দোকান ও বিল্ডিং মালিকেরা যখনই ভাঙার কাজে আপত্তি তুলেছেন তখনই নিজস্ব বাহিনী দিয়ে এবং পুলিশের ভয় দেখিয়ে তাদের নাজেহাল করেছেন সাংসদ মিতা।

বিআইডব্লিউটিএ’র নির্মানাধীন গুপ্তছড়া জেটি নির্মাণ দুর্নীতিতেও মাহফুজুর রহমান মিতার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূত্র মতে, ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১২ সালে নির্মাণের এক বছরের মধ্যে ভেঙে যায় জেটিটি। পরে সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে ৫২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা দিয়ে নতুন একটি জেটি নির্মাণের পরিকল্পনা নেয় সরকার। জানা যায়, এই জেটি নির্মাণের কাজটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস এস রহমানকে দেওয়ার জন্য ডিও দেন সাংসদ মিতা। অভিযোগ আছে, সাংসদ ১০ শতাংশ কমিশনের বিনিময়ে উক্ত ঠিকাদারকে কাজটি পাইয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেন।

সরকারের সিদ্ধান্ত মােতাবেক, সকল উপজেলা সদরে একটি করে মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সন্দ্বীপেও একটি মডেল মসজিদ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ঠিকাদারদের অভিযোগ, প্রকল্পের ১৪ কোটি টাকার টেন্ডারে (টেন্ডার নম্বর- ২৭৩৮২১) কোনও ঠিকাদারকে অংশ নিতে না দিয়ে সাংসদ মিতার প্রিয়ভাজন জামায়াত নেতা জাহেদুর রহমান জিলামকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়।

শুধু তাই নয়, উপজেলা সদরে মডেল মসজিদটি নির্মাণ করার কথা থাকলেও সেখানে না করে সদর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে বাউরিয়া ইউনিয়নে নিজের বাড়ির কাছে মসজিদটি নির্মাণ শুরু করেন তিনি।

অভিযোগ আছে, মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ না করে জমি দখল করা হয়েছে জালিয়াতির মাধ্যমে। আমেরিকান প্রবাসী আব্দুল মােতালিবের স্বাক্ষর নকল করে জাল দলিল তৈরির মাধ্যমে দখল করা হয়েছে মসজিদ নির্মাণের জমি।

অভিযোগ, ২০১৮ সালের সন্দ্বীপের পিআইও অফিস থেকে টেন্ডার হওয়া ২৭টি ব্রিজের কাজ এমপি মিতা তার নিজস্ব লোকজনের মধ্যে ১৫ শতাংশ টাকা কমিশনের বিনিময়ে ভাগ-বাটোয়ারা করার চেষ্টা করেন। এসময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খাদিজা এন্টারপ্রাইজ কাজগুলো করার জন্য ৫ শতাংশ কম দরে টেন্ডার দিলে জীবননাশের হুমকি দিয়ে মিতা সেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিককে সন্দ্বীপ ছাড়া করেন।

টেন্ডার ও কমিশন বাণিজ্যের হাত থেকে রক্ষা পায়নি সন্দ্বীপের শিক্ষা খাতও। অভিযোগ পাওয়া গেছে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজের টেন্ডারে কোনো ঠিকাদার সাংসদ মিতার অনুমতি ছাড়া অংশ নিতে পারেননি। নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন দেয়ার বিনিময়ে এই অধিদপ্তরের সকল টেন্ডারে এমপি মনােনিত একজন করে ঠিকাদার অংশ নেন। কমিশন নিয়ে কাজ পাইয়ে দেওয়ার ওয়াদা দিয়ে তা রক্ষা করেন মিতা। ফলে সেই কাজও পায় মিতার আশীর্বাদপুষ্ট ঠিকাদার।

অভিযোগ রয়েছে, মুস্তাফিজুর রহমান ডিগ্রি কলেজ ভবন নির্মাণের ৩ কোটি টাকার দুটি কাজ, মুস্তাফিজুর উচ্চ বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের ৩ কোটি ৫ লক্ষ টাকার কাজ (টেন্ডার নম্বর- ২৩১৩৭৯) এবং কালাপনিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের (টেন্ডার নম্বর- ২৫৯২৫৮) ৪ কোটি ১৩ লক্ষ টাকার কাজ মোটা অংকের কমিশনের বিনিময়ে একক টেন্ডারের মাধ্যমে সমীর মেম্বারকে পাইয়ে দিয়েছেন সাংসদ মিতা।

এছাড়া গাছুয়া আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের (টেন্ডার নম্বর ৩৩৮৪৯৬) ৮৫ লক্ষ টাকার কাজ ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মামুনকে, বাউরিয়া জি কে একাডেমি স্কুলের ভবন নির্মান ৩ কোটি ৫ লক্ষ টাকার কাজ ৩০ লক্ষ টাকা কমিশন নিয়ে নাদিমকে পাইয়ে দেয়ার বিষয়টিও স্থানীয়দের মুখে মুখে।

একই সাথে ৪ কোটি ১৩ লক্ষ টাকার তিনটি কাজ (কাঠগড় জি এন উচ্চ বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণ, সন্দ্বীপ মডেল হাই স্কুল ভবন নির্মাণ এবং মাইটভাঙা উচ্চ বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ) যথাক্রমে চেয়ারম্যান টিটু, ‘লুঙ্গি শামিম’ এবং আলাউদ্দিনকে পাইয়ে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে মিতার বিরুদ্ধে।

এসব কাজের টেন্ডারে অন্য কোনো ঠিকাদারকে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া ছাড়াও সন্দ্বীপে সকল উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন সাংসদ মিতাকে দিতে হয় বলেও জানান এই অধিদপ্তরের নিবন্ধিত কয়েকজন ঠিকাদার।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিগত ৬ বছরে সন্দ্বীপের গাছুয়া আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়, মুস্তাফিজুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়, মুছাপুর বদিউজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়, মুস্তাফিজুর রহমান কলেজ, সাউথ সন্দ্বীপ কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য টিআর কাবিখা বরাদ্দ হলেও সেই বরাদ্দ ভোগ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

অভিযোগ আছে, প্রকল্প কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে অগ্রিম স্বাক্ষর করিয়ে তাদের জনপ্রতি ১০ হাজার টাকা করে দিয়ে বাকি টাকা এমপির পিএস জসিম তুলে নেন। এসব টিআর বরাদ্দের টাকা দিয়েই উল্লেখিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২ লাখ টাকা দিয়ে দাতা সদস্য হন সাংসদ মিতা। শুধু টিআর কাবিখা নয়, সন্দ্বীপের সােলার প্যানেলেও দুর্নীতি হচ্ছে মিতার পিএস জসিমের মাধ্যমে।

অভিযোগের খাতায় যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ বিতরণ প্রকল্পে মাহফুজুর রহমান মিতার নয়-ছয়ের বিষয়টিও। অভিযোগ পাওয়া গেছে, সাংসদের পিএস জসিম এবং বিদ্যুৎ বিভাগের আরই সাউথ মনােতােষের মাধ্যমে সন্দ্বীপের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ বিতরণ প্রকল্প থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মাইটভাঙা জমুন আলী হাজির বাড়ি থেকে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা, মুছাপুর মান্দির বাড়ি থেকে ১ লাখ টাকাসহ বাউরিয়া, গাছুয়া, হারামিয়া, কালাপানিয়া, সন্তোষপুর ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি বাড়ি থেকে বিদ্যুৎ বিতরণের আড়ালে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইয়াবা-মাদক বাণিজ্যেও এমপি মিতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ আছে। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সন্দ্বীপে ইয়াবার বিস্তার ঘটেছে জানিয়ে একাধিক ব্যক্তি জানান, এমপির আস্থাভাজন উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমান, পৌরসভা যুবলীগ সভাপতি শাকিল উদ্দিন খােকন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাইনউদ্দিন মিশন, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি মােক্তাদের মাওলা সেলিম এবং সমির মেম্বারের ছােট ভাই জাহাঙ্গীর দক্ষিণ সন্দ্বীপ, মধ্য সন্দ্বীপ, উত্তর সন্দ্বীপ এবং পৌর এলাকায় ইয়াবার বিস্তারে ভূমিকা রাখছেন।

এদিকে, বিভিন্ন মৌসুমী মেলার আড়ালে জুয়ার আসর বসানাের অভিযোগও রয়েছে সাংসদ মিতার বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর মতে, প্রতি বছর বিজয় মেলা, স্বাধীনতা মেলা, বৈশাখী মেলার আড়ালে সাংসদ মিতা উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ছিদ্দিকুর রহমানকে দিয়ে জুয়ার আসর পরিচালনা করে থাকেন। সর্বশেষ গতবছর ধােপারহাট এলাকায় মেলার আড়ালে জুয়ার আয়ােজন করা হয় এমপির ছত্রছায়ায়।

ইতোমধ্যে এমপি মিতার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, ১০ থেকে ২০ শতাংশ হারে ঘুষ নিয়ে ঠিকাদার নিয়ােগ, অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিস্তর অভিযােগ জমা পড়েছে দুদকে।

সম্প্রতি এসব অভিযােগ তদন্ত ও অনুসন্ধানের অনুমােদন দিয়ে আগামি ৩ নভেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে দুদক প্রধান কার্যালয়। গত ৮ অক্টোবর অনুমােদন সংক্রান্ত এক চিঠিতে স্বাক্ষর করেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাে. শফিউল্লাহ। তিনি নিজেই এমপি মাহফুজুর রহমান মিতার দুর্নীতির অনুসন্ধান করবেন বলে উল্লেখ করা হয় সেই চিঠিতে। বর্তমানে অভিযোগ তদন্তে মাঠে কাজ করছে দুদকের তদন্তকারী দল। আর দুদকের জাল থেকে বাঁচতে এমপি মিতা নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সন্দ্বীপের একজন প্রাক্তন ছাত্রনেতা একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে নিজেকে খুব সহজ-সরল ও দলদরদি হিসাবে নিজেকে জাহির করলেও এমপি মিতা মুলত মারাত্মক প্রতিহিংসাপরায়ণ, দুর্নীতিবাজ। দলে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের অনুপ্রবেশের কারণে অনেকেই রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। সন্দ্বীপে আওয়ামী লীগের কোনো অস্তিত্ব নেই, আওয়ামী লীগকে তিনি ‘মিতালীগে’ পরিণত করেছেন।’

দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি হিংসাত্মক আচরণের অভিযোগ করে সন্দ্বীপের এক প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘সাংসদ মিতা দু:সময়ের দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি মারাত্মক প্রতিহিংসামূলক আচরণ করেন। বিশেষ করে ২০০৮ এর পূর্বে যারা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ছিলেন তাদেরকে বিভিন্নভাবে দমনপীড়ন করে চলেছেন। কোনও নেতা তার মতের সাথে দ্বিমত করলে ঐ নেতাকে তিনি নিজস্ব গুণ্ডাবাহিনী দিয়ে নির্যাতন করেন, মিথ্যা মামলা দেন, তাদের ব্যবসা বাণিজ্য ধ্বংস করে দেন। এমনকি সন্দ্বীপছাড়া করেন।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সন্দ্বীপের এক আওয়ামী লীগ নেতা ও ঠিকাদার একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘এমপি মিতার আশীর্বাদপুষ্টরাই কেবল সন্দ্বীপের বিভিন্ন কাজে টেন্ডার জমা দিতে পারেন। আর এসব কাজের জন তিনি ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমিশন নিয়ে থাকেন। এক কথায় মিতাই এসব কাজের অঘোষিত ঠিকাদার!’

এমপি মিতা যা বললেন

সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে এমপি মাহফুজুর রহমান মিতা একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমি একজন জনপ্রতিনিধি, সন্দ্বীপের উন্নয়ন করাই আমার কাজ এবং সেই কাজই আমি করছি। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের সময়ও এই গ্রুপটি আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছিল এবং তারাই এখন আমার বিরুদ্ধে আবার অপপ্রচার চালাচ্ছে। সামনে পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা পুণরায় অভিযোগগুলো করছে। এই অভিযোগগুলো যারা করেছে এগুলো প্রমাণ করার দায়িত্ব তাদের।

‘আর আপনারা যাদের কাছ থেকে আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগগুলো পেয়েছেন তারা দুদকের কাছেও এই অভিযোগ করেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে দুদক আমার কাছ থেকে জবাব চেয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আমি দুদককে জবাবও দেবো।’

শিবিরের সাথে সখ্যতার প্রশ্নই আসে না জানিয়ে এমপি মিতা বলেন, আমি আগেও বলেছি এবং আপনাদের পত্রিকায় তা প্রকাশিতও হয়েছে-যে কেউই আমার সাথে ছবি তুলতে পারে। কারো গায়ে বা কপালে তো লেখা থাকে না সে শিবিরকর্মী। আর যে ছবিটি নিয়ে এতো আলোচনা হচ্ছে সেটা ২০১৪ সালের তোলা। সন্দ্বীপের ছেলে পরিচয় দিয়ে তারা আমার সাথে ছবিটি তুলেছিল।

দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকতে কাউকে আমি দেশে থাকতে দিবো না, সেই সক্ষমতা কি আমার আছে? দেশটা তো মগের মুল্লুক না। দেখতে পাচ্ছেন না হাজী সেলিমের কী অবস্থা! যারা আমাকে পছন্দ করে না তারাই এসব কথা বলছে- যোগ করেন তিনি।

মিতা বলেন, মাদকের বিস্তারে আমার সংশ্লিষ্টতার যে বিষয়টি বলা হচ্ছে, সেটা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। মাদক নিয়ন্ত্রণ করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তবে মাদকের বিরুদ্ধে আমি জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক তৎপর, তারা যেখানেই মাদকের সন্ধান পাচ্ছে সেখানেই অভিযান চালাচ্ছে এবং এই অভিযান চলমান রয়েছে। আমার জানা মতে, আগের তুলনায় সন্দ্বীপে মাদকের হার অনেক কমেছে।

### সন্দ্বীপের এমপি মিতার শিবির-সখ্যতা!
### দুদকের জালে সন্দ্বীপের এমপি মিতা