শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

পটিয়ায় মণ্ডপে সরকারি ভোগ্যপণ্য বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২০, ৪:৪৯ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মণ্ডপে সরকারি ভোগ্যপণ্য বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পটিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের অভিযোগ, উপজেলার ১৮৩টি মণ্ডপে সরকারি নিয়মে ৫০০ কেজি চাল বিতরণ না করে মণ্ডপ প্রতি ১৫ হাজার ৫০০ টাকা নিতে বাধ্য করেছেন। বাজারে ৫০০ কেজি চালের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা। সে হিসেবে মণ্ডপ প্রতি সাড়ে চার হাজার টাকা কম দিয়ে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের একটি চক্র।

জানা গেছে, এবার শারদীয় দুর্গোৎসবে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় পূজারীদের মাঝে প্রসাদ বিতরণের জন্য প্রতি মণ্ডপ বাবদ ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়।

চট্টগ্রাম জেলায় এ বছর ১৫৩০টি সার্বজনিন প্রতিমা পূজা এবং ৩৮৬টি ঘট পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে পটিয়া উপজেলায় প্রতিমা পূজা মণ্ডপের সংখ্যা ছিল ১৮৩টি।

গত ১৫ অক্টোবর শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সনাতনী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিগত বছরের ন্যায় সরকারি ভোগ্যপণ্যের ডিও পৃথকভাবে পূজা মণ্ডপের সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদকের বরাবরে প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ওই ডিও’র অনুকুলে পূজা মণ্ডপের প্রতিনিধিরা ভোগ্যপণ্যেও চাল বা নগদ অর্থ গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ পটিয়া উপজেলার সভাপতি রূপক শীলের অভিযোগ, মহল বিশেষের কারসাজি এবং স্থানীয় কতিপয় রাজনৈতিক নেতার যোগসাজশে পটিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সপ্তশ্রী সাহা এবং খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কাঞ্চন মজুমদার পটিয়ার মণ্ডপগুলোকে সরকার প্রদত্ত ভোগ্যপণ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানান। সরকারি সিদ্ধান্তকে অমান্য করে মণ্ডপ প্রতি ১৫ হাজার টাকা নিতে বাধ্য করেন। কিন্তু সরকার প্রদত্ত চালের বাজার মূল্য তার চেয়ে অনেক বেশি।

জানা গেছে, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, বোয়ালখালী ও চন্দনাইশের যথাক্রমে ২১৯, ২০, ১২৩ ও ১২৩ মোট ৪৮৫ পূজা মণ্ডপ সরকার প্রদত্ত নিয়মে ভোগ্যপণ্য কিংবা ডিও গ্রহণের সুযোগ পেলেও পটিয়া ছিল ব্যতিক্রম।

পটিয়ার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের অভিযোগ, পাশ্ববর্তী উপজেলাগুলোর প্রতি পূজা মণ্ডপ কর্তৃপক্ষ ডিও হস্তান্তর করে ২০ হাজার টাকা পেলেও পটিয়ার পূজা মণ্ডপগুলোকে ১৫ হাজার টাকা করে নিতে বাধ্য করে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন সংশ্লিষ্টরা।

এ নিয়ে পূজা মণ্ডপের প্রতিনিধিরা প্রতিবাদ করেও সুরাহা পাননি। বিষয়টি নিয়ে পটিয়ায় সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

পটিয়ার ১৮৩টি পূজা মণ্ডপে সরকার প্রদত্ত নিয়ম অনুযায়ী ভোগ্যপণ্য হিসেবে চাল দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে পটিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুপ্তশ্রী সাহা বলেন, ‘পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের কোথাও ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। মণ্ডপ প্রতি ১৫ হাজার টাকা করে নিতে বাধ্য করার অভিযোগ ভিত্তিহীন।’

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ-পটিয়ার ধলঘাট ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাজীব চৌধুরী বলেন, ‘উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুপ্তশ্রী সাহার কাছে গিয়ে ভোগ্যপণ্য চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। ভোগ্যপণ্যের বিপরীতে ১৫ হাজার ৫০০ টাকা নিতে বলছেন। আমি বলেছি মণ্ডপের জন্য টাকা দরকার নেই। তিনি (সুপ্তশ্রী সাহা) বলছেন উপরের নির্দেশ। তার কিছু করার নেই।’