শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭

নিউমার্কেট ফুটওভার ব্রিজে দিনে হকারদের পণ্যচৌকি, রাতে মাদক

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৭, ২০২০, ৭:১৭ অপরাহ্ণ

জোবায়েদ ইবনে শাহাদত : দেখে কোনো ফার্নিচারের দোকান বা গোডাউন মনে করে ভুল করতে পারেন যে কেউ। কিন্তু না, বাস্তবে তা নয়। মূলত এটি নিউমার্কেট এলাকার ফুটওভার ব্রিজের চিত্র।

দিনের বেলা হকারদের পণ্য বিক্রিতে ব্যবহৃত চৌকির সারি সারি অবস্থান এবং সন্ধ্যার পর নেশাখোর ও মাদকাসক্তদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে ফুটওভার ব্রিজটি। যার কারণে প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও ব্রিজটি ব্যবহার করতে ভয় পান পথচারীরা।

ফুটওভার ব্রিজের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব চসিকের হলেও তা নিয়ে কোনও মাথাব্যথাই নেই কর্তৃপক্ষের -এমনটাই বলছেন পথচারীরা। প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃংখলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা স্থানীয় পুলিশের তদারকি নিয়েও।

সোমবার (১৬ নভেম্বর) জহুর হকার্স মার্কেট সংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের উপর হকারদের বেশ কিছু বড় বড় চৌকি পড়ে থাকতে দেখা যায়। ফুটওভার ব্রিজের দুপাশে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অন্তত অর্ধশত চৌকি রাখা হয়েছে। ব্রিজের বিভিন্ন জায়গায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতেও দেখা গেছে।

স্থানীয় কয়েকজন দোকানি  জানান, আগে হকারেরা ফুটপাতেই তাদের দোকান গুটিয়ে নিতো। কিন্তু গত ২৪ আগস্ট ফুটপাত ও রাস্তা পরিস্কার রাখতে হকারদের জন্য বিকাল ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়ার পর হকারেরা রাস্তায় তাদের মালামাল তেমন একটা রাখে না। রাত ৮ টা থেকে পরদিন দুপুর ৩ টা পর্যন্ত ফুটওভার ব্রিজেই স্তূপ করে রাখে তাদের মালামাল ও চৌকি।

মাঝে মাঝে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারকারী ইব্রাহিম সারোয়ার নামে একজন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘ফুটপাত ও রাস্তায় যেসব হকার বসে তারাই আসবাবপত্রগুলো রাখে এই ব্রিজের উপর। পুরো ব্রিজে এসব ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখায় আমরা ঠিকমতো হাঁটতে পারি না। রাতের বেলা তো মাদকাসক্তদের মিলনমেলা বসে ব্রিজে। চসিক কি এসব দেখে না?’

এদিকে, রাতের ফুটওভার ব্রিজে গিয়ে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃশ্য। সন্ধ্যার ৭ টার পর বেশ কয়েকজন কিশোর মাদকসেবিকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় ব্রিজের উপর। এদের সকলের হাতেই ছিল ড্যান্ডি (আঠা দিয়ে তৈরি নেশাদ্রব্য) ভর্তি পলিথিন ব্যাগ। তাদের ছবি তুলতে দেখে মুহূর্তেই পালিয়ে যায় তারা।

এমন সময় ফুটওভার ব্রিজ ধরে যাচ্ছিলেন নাসরিন জাহান। পেশায় চাকরিজীবী এই নারী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি কিছু পণ্য কিনতে এসেছিলাম এখানে। রাস্তা পার হতে ফুটওভার ব্রিজে ওঠে দেখি মাদকাসক্ত বেশ কিছু ছেলে। ভয়ে আমার গায়ে কাঁপুনি দিয়ে ওঠে। পড়িমরি করে দ্রুত পথ শেষ করে হাফ ছেড়ে বাঁচি।’

জানতে চাইলে চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের চোখেও পড়েছে। চসিক থেকে বেশ কয়েকবার এসব আসবাবপত্র ট্রাকে করে আমরা তুলে নিয়ে গেছি। কিন্তু তাদের টনক নড়ছে না। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামীকাল স্টেশন রোড থেকে জুবিলী রোড পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করবো।’

মাদকাসক্তদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশের উদাসীনতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মাদকাসক্তদের নিয়ন্ত্রণ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পুলিশ প্রশাসনের। তারা যদি এক্ষেত্রে উদাসীন থাকে তাহলে তো মাদকাসক্তরা এসব কাজ করবেই!’

এই বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘মাদকাসক্তরা যে নিউমার্কেট এলাকার আছে তা অস্বীকার করবো না। এধরনের মাদকাসক্তদের প্রায়সময় আটক করা হলেও ছাড়া পেয়ে তারা আবার নেশার কাছে ফিরে যায়। তবে এদের ধরা ছাড়াও আমাদের আরো বেশ কিছু কাজ করতে হয়। যদি স্থায়ী সমাধান করতে হয় তাহলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের শক্ত অবস্থান ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’

ফুটওভার ব্রিজে পথচারীদের নিরাপদ পথচলা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা জানাননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।