চসিকের রাস্তা উন্মুক্ত করার প্রতিশোধ নেওয়া হচ্ছে কিশোর গ্যাং লেলিয়ে


মোহাম্মদ রফিক : নগরের উত্তর কুলগাঁও এলাকায় ১৩ বছর বন্ধ থাকার পর একটি রাস্তা গত ৯ নভেম্বর অভিযান চালিয়ে মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোবহান সোসাইটিতে যাওয়ার উক্ত রাস্তা উন্মুক্ত করে দেওয়ার একদিন পরেই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র জনসাধারণের চলাচলে বাধা দিচ্ছে। আর এক্ষেত্রে তারা স্থানীয় একটি কিশোর চক্রকে ব্যবহার করছে।

এ কিশোর গ্যাং এর নেতৃত দিচ্ছে স্থানীয় আব্দুস সোবহানের ছেলে আব্দুর রহিম। যিনি ২০১০ সালের ৩ এপ্রিল বায়েজিদ থানাধীন ট্যানারি বটতল এলাকায় সংঘটিত শারমীন নামে এক তরুণী হত্যা মামলার চাজশিটভুক্ত ১ নম্বর আসামি।

সোসাইটির বাসিন্দাদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত রাস্তাটি উন্মুক্ত করে দেওয়ার একদিন পর থেকে তাণ্ডব শুরু করে কিশোর গ্যাং-এর সদস্যরা। মানুষের চলাচলে বন্ধ করতে তারা রাস্তাটির প্রবেশমুখে গাড়ি রাখে আড়াআড়ি করে।

পরপর দুদিন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় আব্দুল হাকিম, সুমন, আব্দুর রহমান, আব্দুল করিম, ইউছুপসহ ৭-৮ জন কিশোর অপরাধী বিকাল ৪টার পর থেকে রাত ১০-১১টা পর্যন্ত রাস্তাটির ঢোকার মুখে লাটি নিয়ে অবস্থান করে। রাস্তার প্রবেশমুখে বড় বড় পাথরও রেখেছে তারা। লোকজন সোসাইটি যাওয়ার সময় তাদেরকে বাধা দেয় কিশোর গ্যাং-এর এসব সদস্য। পাশাপাশি নারীদের নানাভাবে হেনস্থা, ইভটিজিং করে বলেও অভিযোগ সোসাইটির একাধিক বাসিন্দার।

সোবহান সোসাইটির বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ৯ নভেম্বর চসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালত রাস্তাটির প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে মানুষ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়। এছাড়া রাস্তার সীমানা ঠিক করে কয়েকটি পিলারও গেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযান চালানোর একদিন পরে গত ১০ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পুলিশের উপস্থিতিতেই পিলার তুলে ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী প্রভাবশালী লোকজন।

পুলিশের সামনে যারা পিলার তুলছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন? ওইদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা বায়েজিদ বোস্তামি থানার এসআই রিপন সরকারকে এমন প্রশ্ন করেন ভুক্তভোগীরা। কিন্তু পুলিশের ওই সদস্য প্রভাবশালীদের পক্ষ নিয়ে তাদের সাথে উল্টো দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ।

অভিযোগে জানা যায়, চসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালতের সিদ্ধান্ত অমান্য করে পিলার উত্তেলনকারীদের বিরুদ্ধে এসআই রিপন সরকার কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে সিএমপির উপ পুলিশ কমিশনার(উত্তর) বিজয় বসাকের কাছে ঘটনার পরেরদিন সকালে মৌখিক অভিযোগ দেওয়া হয়।

কিন্তু অভিযোগ দেওয়ার এক সপ্তাহ পরেও এস আই রিপনের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি৷ এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপ পুলিশ কমিশনার(উত্তর) বিজয় বসাক বায়েজিদ থানার এসআই রিপনের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনও অভিযোগই পাননি বলে একুশে পত্রিকাকে জানান। তিনি বলেন, বিরোধীয় জায়গায় এক পক্ষের ১৪৫ ধারা জারি থাকার বিষয়টি জানি। তবে আমরা যেটা আইনসম্মত সেই ব্যবস্থা নেব।’

এদিকে সোসাইটির রাস্তায় কিশোর গ্যাং উৎপাতের বিরুদ্ধে বায়েজিদ বোস্তামি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনও প্রকার ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে বায়েজিদ থানার ওসি প্রিটন সরকার বলেন, আদালতের নির্দেশ কেউ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ আছে, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তাফা কামালের মেয়ের জামাই পরিচয় দিয়ে আবদুর রাজ্জাক নামে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি উক্ত সোসাইটিতে চলাচলের রাস্তায় নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছেন। আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন স্থানীয় তজু মিয়ার ছেলে নুরুল ইনলাম চৌধুরী, মোরশেদ ভুঁইয়ার ছেলে শামসুল হক ভুঁইয়া।

এদিকে, চসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালত উক্ত সোবহান সোসাইটির রাস্তা উন্মুক্ত করে দিলেও সেটিকে ‘বেআইনী’ আখ্যা দিয়ে বুধবার (১৮ নভেম্বর) বিকালে ঘটনাস্থলে ২০-২৫ জন নারী ও পুরুষ মানববন্ধন করেছে।

স্থানীয়রা একুশে পত্রিকাকে জানান, মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ২০-২৫ জনের অধিকাংশই পোশাক কারখানার নারীশ্রমিক। তাদেরকে মানববন্ধনে দাঁড়াতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, মানববন্ধনে অংশ গ্রহণকারী কেউ উক্ত সোসাইটি তো দুরের কথা, এলাকারই বাসিন্দা নন।