শনিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

করোনার টিকা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় দরিদ্র দেশগুলো

প্রকাশিতঃ শনিবার, নভেম্বর ২১, ২০২০, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ

ফায়সাল করিম : করোনাভাইরাস মহামারি থেকে রেহাই পেতে এখন বাজারে টিকার আসার শুভক্ষণের দিকে তাকিয়ে সারা বিশ্ব। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৫ মিলিয়ন আর মৃত ১৩ লক্ষেরও বেশি। অনেক আশা নিয়ে তাই সবাই অপেক্ষা করছে কখন একটি কার্যকর টিকা বাজারে আসবে। তবে এরইমধ্যে অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, টিকা পাওয়ার প্রতিযোগিতায় দরিদ্র দেশগুলো পিছিয়ে যেতে পারে।

বিভিন্ন টিকার প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, এদের মধ্যে অন্তত দুটি টিকা খুবই কার্যকর। এছাড়া কিছু দেশ দেরিতে তাদের পরীক্ষা শুরু করেছে এবং আরো অনেক দেশই টিকা উন্নয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে আছে। কিন্তু এই টিকাগুলোর কোনটিই এখনো অনুমোদিত হয়নি। তবে এর আগেভাগেই কিন্তু বিভিন্ন দেশ টিকার আগাম ক্রয় নিশ্চিত করে রাখছে।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান গবেষণা কেন্দ্র- নর্থ ক্যারোলিনার ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়- এসব চুক্তির উপর নজর রাখার চেষ্টা করছে। তাদের অনুমান, ইতোমধ্যে ৬.৪ বিলিয়ন ডোজ টিকা কেনা হয়ে গেছে এবং আরো ৩.২ বিলিয়ন আছে আলোচনার টেবিলে।

লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স-এর গ্লোবাল হেল্থ পলিসির সহকারী অধ্যাপক ক্লেয়ার ওয়েনহামের মতে, “অগ্রিম ক্রয় প্রক্রিয়া ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে সুপ্রতিষ্ঠিত, যেহেতু এটি পণ্য এবং তহবিল পরীক্ষার উন্নয়নে উৎসাহিত করতে সাহায্য করে থাকে। কিন্তু এর মানে হচ্ছে যে যে উৎপাদনের প্রাথমিক পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি টাকা যারা দিতে পারবে তারাই সারিতে প্রথম দিকে থাকবে।

ডিউকের গবেষণায় দেখা গেছে যে এখন পর্যন্ত কেনা টিকার অধিকাংশ উচ্চ আয়ের দেশগুলোর ঘরে গেছে। কিছু মধ্য আয়ের দেশ যাদের উৎপাদন ক্ষমতা আছে তারা উৎপাদন চুক্তির অংশ হিসেবে বৃহৎ ক্রয় চুক্তি সমঝোতা করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যান্য দেশ যাদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল আয়োজন করার কাঠামো আছে – যেমন ব্রাজিল এবং মেক্সিকো – তারা ভবিষ্যতে টিকা কেনার ক্ষেত্রে এসব সুবিধাকে লিভারেজ হিসেবে ব্যবহার করেছে।

উদাহরণস্বরূপ, ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত সব ডোজের অর্ধেক রেখে দিবে দেশটির নিজস্ব চাহিদা মেটানোর জন্য। ইতোমধ্যে, ইন্দোনেশিয়া চীনা টিকা উৎপাদকদের সাথে অংশীদারিত্ব করছে এবং ব্রাজিল করেছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে।

ডিউক বিশ্লেষণের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আন্দ্রেয়া টেইলর। তাঁর মতে, “আমরা এমন এক পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি যেখানে ধনী দেশগুলোতে টিকা থাকবে এবং দরিদ্র দেশগুলোর সেগুলোতে প্রবেশাধিকার পাওয়ার সম্ভাবনা কম।”

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, তারা নিশ্চিত নয় যে কতগুলো টিকা বাজারে আসতে পারে, অথবা কখন সেগুলো পাওয়া যাবে। এখনো চুক্তি করা হলেও তা বিতরণের বিস্তারিত বিবরণ নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

আসন্ন বই ইন্ডিয়াস ফাইট এগেইনস্ট দ্য কোভিড-১৯ মহামারীর সহ-লেখক চন্দ্রকান্ত লাহারিয়ার মতে, দরিদ্র দেশগুলোতে কতগুলো টিকা পৌঁছবে তা নির্ভর করছে কত দ্রুত এবং কোথায় তা উৎপাদিত হয় তার উপর।