সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ৫ মাঘ ১৪২৭

মদিনা সনদে দেশ চললে ভাস্কর্য থাকতে পারে না : বাবুনগরী

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, নভেম্বর ২৭, ২০২০, ৮:০০ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন মদিনা সনদ অনুসারে দেশ চলবে। মদিনা সনদে দেশ চললে ভাস্কর্য থাকতে পারে না। মদিনায় কোন ভাস্কর্য আছে? সেখানে নবীর কোন ভাস্কর্য আছে?’

শুক্রবার সন্ধ্যায় হাটহাজারীর পাবর্তী স্কুল মাঠে আয়োজিত মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আছি। তিনি বলেছেন দেশ চলবে মদিনা সনদে। এই কথায় আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমত। আমাদের কথাও সেটা। সোনার বাংলা, ৯০ ভাগ মুসলিমদের দেশ মদিনার সনদে চলবে। রাশিয়ার, চীনের, আওয়ামী লীগের সনদে চলতে পারবে না।’

তিনি বলেন, ‘মদিনার সনদ শান্তির সনদ। ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম সন্ত্রাসীর ধর্ম নয়। বাংলাদেশকে শান্তির দেশে পরিণত করতে মদিনার সনদের বিকল্প নেই। মদিনার সনদে দেশ চললে কোনো ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ হতে পারবে না।’

ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ অনেক বেড়ে গেছে উল্লেখ করে বাবুনগরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরা আপনার দুশমন নই। আমাদেরকে আপনি দুশমন মনে করবেন না। যে নাস্তিক-মুরতাদরা আপনার ঘাড়ে বসে আছে, গাপটি মেরে আছে তারাই আপনার দুশমন।

‘বঙ্গবন্ধুকে আমরা শ্রদ্ধা করি, অন্তর থেকে ভালোবাসি। বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলেছে বঙ্গবন্ধুর মানুষ। আমি আপনাকে সতর্ক করতেছি। আপনার পাশে যেসব নাস্তিক বসে আছে তারা আপনার ক্ষতি করবে, আপনাকে মেরে ফেলবে। আমরা আপনার দুশমন নই। আমরা দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা চাই।’

ভাস্কর্য শরীয়তসম্মত নয় উল্লেখ করে বাবুনগরী বলেন, আমি কোনো দলের নাম বলছি না। যার ভাস্কর্য হোক না কেন, ভাস্কর্য শরীয়তসম্মত নয়। আমার বাবার ভাস্কর্য যদি কেউ করে আমি আগে টেনে হেঁচড়ে ফেলে দেবো।

এদিকে ওই মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা এবং হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের। কিন্তু প্রতিহতের ঘোষণার পর তিনি আসছেন না।

এ প্রসঙ্গে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, মামুনুল হক এখানে আসতেছে না। সে নিজে আসবে না। আমরা নিজেরাও আনবো না। যেখানে অশান্তি সেখানে আমরা নেই। না আসার পরও তার ছবিতে আগুন দেয়ার কারণ কী। একজন আলেমকে এভাবে অপমান করলে আল্লাহর আরশ কাঁপবে।

মামুনুল হকের ছবিতে যারা আগুন দিয়েছে তারা নবীর শত্রু দাবি করে বাবুনগরী বলেন, আপনারা তো ফ্রান্সের ম্যাক্রোর ছবি পোড়াননি। ফেসবুকে একটি ছবি দেখা গেছে, মামুনুলের ছবিতে প্রস্রাব করতেছে কুচক্রী মহল। যারা প্রস্রাব করেছে, তাদের মুখে সিগারেট। হে আল্লাহ তাদের উপর গজব নাজিল করো।

‘চট্টগ্রোমের ভাষায় বলে, বোলার বাত ডিল ন মারিস। সিদ্ধান্ত হয়েছে আসবে না। তারপরও এরকম জুলুম নির্যাতন কেন করা হল। প্রশাসনকে বলবো, যারা এসব করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন। ওস্তাদেরকে বেইজ্জতি করলে মাদ্রাসার ছাত্ররা বসে থাকতে পারে না।’ বলেন বাবুনগরী।

প্রসঙ্গত, মামুনুল হককে প্রতিহত করতে শুক্রবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান নেন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। সেখানে বিক্ষোভ করেন কয়েকশ নেতাকর্মী। দুপুরে নগর ছাত্রলীগের কর্মীদের নগরীর অক্সিজেন মোড়ে অবস্থান নেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনে বিরোধীতাকারী মামুনুল হককে চট্টগ্রামে প্রতিহতের ঘোষণা দেওয়া হয় বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে ‘জঙ্গিবাদ বিরোধী ছাত্র ও যুব ঐক্য পরিষদ’ নামের সংগঠনের সমাবেশ থেকে। এরপর রাত থেকেই মামুনুল হকের উপস্থিতি নিয়ে নানা তথ্য ছড়াতে থাকে।

আল আমিন সংস্থা নামের যে সংগঠন মাহফিলের আয়োজন করেছে তারা নিজেরা শুক্রবার সন্ধ্যায়ও ফেসবুকে প্রচার করে মামুনুল হক বক্তব্য দেবেন আজকের মাহফিলে। এছাড়া সকাল থেকে হেফাজতের কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে জানান, মামুনুল হক হাটহাজারীতে আসছেন। এতে দিনভর উত্তেজনা চলে।