সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ৫ মাঘ ১৪২৭

প্রয়োজনে ‘লোহার টুপি’ পরতে হবে : বাবুনগরী

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, নভেম্বর ২৭, ২০২০, ৮:৩৩ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : রাসূল (সা.) এর সুন্নত পালন করতে প্রয়োজনে ‘লোহার টুপি’ পরতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী।

শুক্রবার সন্ধ্যায় হাটহাজারীর পাবর্তী স্কুল মাঠে আয়োজিত তাফসির মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। এখানে কোনো কিছুর অভাব নেই। এখানে তাহাজ্জুদের নামাজ আছে, চোখের অশ্রু আছে, আবার এখানে বাতিলের বিরুদ্ধে জিহাদের পরিকল্পনাও আছে।’

‘এখন আপনাদের মাথায় সুতার টুপি, ঠিক কিনা। আমার মাথায়ও সুতার টুপি। কিন্তু প্রয়োজনে রাসূলের সুন্নত আদায় করার জন্য সুতার টুপি নামিয়ে লোহার টুপি পরতে হবে।’

বাবুনগরী বলেন, রাসূলের সব কাজ সুন্নত। আমাদের নবী যখন মদিনা থেকে মক্কা শরীফে প্রবেশ করেছেন, তখন আমাদের নবীর মাথায় ছিল লোহার টুপি। কেমন নবী? নবীর সবকিছু সুন্নত। যখন যেটা করতে হয়।

এখন আস্তিক আর নাস্তিকের লড়াই চলছে উল্লেখ করে বাবুনগরী বলেন, নাস্তিকদের কবর রচনা করতে হবে। এ লড়াইয়ে আমাদের উপর আল্লাহর রহমত নাজিল হবে। নাস্তিকদের উপর আল্লাহর গজব নাজিল হবে।

হেফাজতে ইসলাম সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ঈমান আকিদা ভিত্তিক সংগঠন করে তিনি বলেন, এখানে কোন রাজনৈতিক দলের পতাকা উত্তোলন করা যাবে না। এখানে কোনো দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন হবে না। আমরা রাসূলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এসেছি। কথা পরিস্কার। আমাদের কোন ভূমিকা সরকারের বিরুদ্ধে নেই, কোন দলের বিরুদ্ধে নেই। যারা রাসূলের শত্রু, যারা আল্লাহর দুশমন, আবু জাহেলের খালাতো ভাই-তালতো ভাই তাদের বিরুদ্ধে আমাদের কঠিন ভূমিকা ছিল, থাকবে।

হেফাজত আমীর বলেন, এখন হক কথা বললে গ্রেপ্তার করে। সমস্যা নেই, গ্রেপ্তার করুক। ফাঁসির কাষ্টে গিয়েও আমাদের হক কথা বলতে হবে। চুল পরিমাণ পিছপা হবো না। নবী বলেছেন, হক কথা তিক্ত হলেও বলতে থাকো।

তিনি বলেন, এখন আবু জাহেল নেই। কিন্তু তার খালাতো ভাই, তালতো ভাইয়েরা আছে। ফ্রান্সের ম্যাক্রন হচ্ছে আবু জাহেলের খালাতো ভাই। তিনি রাসূলকে নিয়ে কটাক্ষ করে কথা বলেছেন। তিনি আমাদের নবীর শত্রু। ভারতের মোদি মসজিদ ভেঙে মূর্তির ঘর বানিয়েছে। বাবরী মসজিদকে রাম মন্দির করেছে। সেখানে আগে রাম মন্দির ছিল তার কোনো দলিল-প্রমাণ নেই।

‘বাবরী মসজিদ মোগল আমল থেকে ছিল। মোগল আমলের সমস্ত রাষ্ট্রপ্রধানরা বাবরী মসজিদকে মেনে নিয়েছেন। মহাত্মা গান্ধী মেনে নিয়েছেন। জহরলাল নেহেরু মসজিদ হিসেবে মেনে নিয়েছে। আরও অনেক হিন্দু বাবরী মসজিদকে মেনে নিয়েছেন। কিন্তু কসাই মোদি ক্ষমতায় এসে উগ্রপন্থি হিন্দুদের পরামর্শ নিয়ে বাবরী মসজিদকে রাম মন্দির বানিয়েছে।’

‘আবু জাহেলের খালাতো ভাই, নাস্তিক, মুরতাদদেরকে বলবো, যদি আমাদের কলিকার টুকরো নবী, প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) এর শানে বেয়াদবি করা হয়, কটূক্তি করা হয়, কটাক্ষ করে কথা বলা হয়, যারা এ বেয়াদবি করবে তৌহিদী জনতা, মুসলমান তাদের জিব্বা কেটে ফেলবে।’

বাবুনগরী আরও বলেন, মুসলিমের সবচেয়ে বড় শত্রু ইসকন। তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। তারা শান্তিপূর্ণ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। মদিনার সনদে দেশ চললে কাদিয়ানিরা মুসলমান হিসেবে বসবাস করতে পারে না। কাদিয়ানিরা অমুসলিম। তারা আল্লাহর কাছে কাফের, নবী-রাসূলদের কাছে, আলেমদের কাছে কাফের।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে কাদিয়ানিদের মুসলিম মনে করেন না জানিয়ে বাবুনগরী বলেন, ব্যক্তিগতভাবে করলে হবে না। সরকারিভাবে কাদিয়ানিকে কাফের ঘোষণা করতে হবে। কাদিয়ানি কাফের হলেও মুসলিমদের মসজিদ ব্যবহার করে। যার কারণে সরল মুসলমানরা কাদিয়ানিদের মুসলমান মনে করে না। পঞ্চগড়ে মুসলমান-কাদিয়ানি বিয়ে হয়ে গেছে। এটা বিয়ে হবে না, জেনা হবে। কাদিয়ানিকে মুসলমানের গোরস্তানেও দাফন করা যাবে না।

‘কাদিয়ানিদের এখনো অমুসলিম ঘোষণা না করায় তারা মুসলিম পরিচয় দিয়ে মক্কা-মদিনা গেছে। অথচ সেখানে কাফের যেতে পারে না। তারা যাওয়ায় মক্কা-মদিনার সম্মান নষ্ট হচ্ছে, পরিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে এসব কথা পরিস্কার করেছি। কাদিয়ানিরা স্বাধীনতারও শত্রু। তারা এ দেশকে কাদিয়ানি দেশ বানাতে চায়। তারা শুধু ইসলামের জন্য হুমকি নয়, দেশের জন্যও হুমকি।’ বলেন হেফাজত আমিন জুনায়েদ বাবুনগরী।