সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১২ মাঘ ১৪২৭

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আ. লীগের সংশোধিত কমিটি যে কোনও মুহূর্তে

দুই শীর্ষ নেতাকে কেন্দ্রে তলব

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, নভেম্বর ২৭, ২০২০, ৯:৩০ অপরাহ্ণ


জোবায়েদ ইবনে শাহাদাত : গেলো বছরের ৭ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে এম এ সালাম সভাপতি ও শেখ আতাউর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর পূর্ণাঙ্গ কমিটির জন্য ৭৫ সদস্যবিশিষ্ট খসড়া তালিকা তৈরি করে অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

কিন্তু প্রস্তাবিত কমিটিতে কারা আছেন বা নেই তা প্রকাশের পর সৃষ্টি হয় জেলার রাজনীতিতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ। সেসময় প্রস্তাবিত কমিটিতে ত্যাগীদের অবহেলা ও বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতাদের অবনমিত করার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নয়, এমন ব্যক্তিকেও কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠে প্রস্তাবিত কমিটি। আর এজন্য অভিযোগের আঙুল উঠে খোদ আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের প্রতি।

এ পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত কমিটির অসঙ্গতি, পদায়নে স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের পদবঞ্চিত নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর সংসদ ভবন কার্যালয়ে দেখা করে নিজেদের ক্ষোভ ও কষ্টের কথা তুলে ধরেন।

দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, ‘যারা প্রতিদ্বন্দ্বীদের কমিটি থেকে বাদ দেবেন তাদের কমিটি অনুমোদন করা হবে না। যারা প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাদ দেবেন, দরকার হলে তাদের কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি করা হবে।’

এরপর প্রায় ৯ মাস পর গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) দলীয় হাইকমান্ড থেকে সভাপতি এম এ সালাম ও সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমানকে কেন্দ্রে ডাকা হয়। উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত সেই বিতর্কিত কমিটি নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়।

দলীয় সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলা এই বৈঠকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি, যুগ্ম সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেনসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতা উপস্থিত ছিলেন।

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতাকে হঠাৎ কেন ডাকা হলো, কী আলোচনা হয়েছিল সেই বৈঠকে, তা জানতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় টিম সমন্বয়ক মাহবুব উল আলম হানিফের সাথে যোগাযোগ করা হয়।

শুক্রবার বিকেলে একুশে পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখে আসছি বিভিন্ন সময় ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের কারণে অনেক নেতাদের বঞ্চিত করা হয়। জেলা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে যাতে দলের কোনো সিনিয়র ও ত্যাগী নেতাদের সাথে অবিচার করা না হয়, সেটা নিশ্চিত করা আমাদের বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।’

তিনি বলেন, ‘যারা দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ, দলের দুঃসময়ে যারা কনট্রিবিউট করেছে সেরকম কিছু নেতাকে এই কমিটিতে সমন্বয় করার জন্য গতকালের বৈঠকে বলেছি। আশা করছি নতুন কমিটিতে এই সংশোধনগুলো আসবে। তারপর আমরা আবার দেখে দলের সাধারণ সম্পাদকের কাছে প্রেরণ করবো।’

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে আমরা এই মুহূর্তে কিছু জানাতে পারছি না। দলীয় হাইকমান্ড থেকে এ ব্যাপারে নির্দেশনা আছে।’

বঞ্চিত নেতাদের নতুন কমিটিতে ঠাঁই হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে এম এ সালাম বলেন, ‘আমাদের কমিটি ইতোমধ্যেই প্রস্তুত করা আছে। তবে কিছু নেতাকে এই কমিটিতে একোমোডেট করার জন্য সিনিয়র নেতারা নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কবে নাগাদ এই কমিটি প্রকাশ করা হবে তা এই মুহূর্তে জানাতে পারছি না।’

এদিকে, মিরসরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বিদায়ী কমিটির আগের কমিটির সহ সভাপতি। পরের কমিটিতে একলাফে অবনমন হয়ে তার স্থান হয় সদস্য পদে। প্রস্তাবিত কমিটিতেও তাকে রাখা হয়েছিল সদস্য হিসেবে। শুধু তাই নয়, এমন অবনমন হয়েছে বহু ত্যাগী নেতার বেলায়ও।

একুশে পত্রিকাকে এ ব্যাপারে গিয়াসউদ্দিন বলেন, ‘আমরা নেত্রীর কাছে আমাদের ক্ষোভ ও কষ্টের কথা জানিয়েছিলাম। তিনি এসব নিজে পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানিয়েছেন। তার ফলাফল আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। আশা করছি গতকালের বৈঠকের পর আমরা ন্যায্যতা ফিরে পাবো। তবে আমাকে যদি কোনও পদবি দেয়া নাও হয় তারপরও আমি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে রাজনীতি করে যাবো।’

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বিদায়ী কমিটির যুগ্ম সম্পাদক থেকে প্রস্তাবিত কমিটিতে সদস্য রাখা ইউনুস গনি চৌধুরী বলেন, ‘গতকালের বৈঠকের বিষয়ে আমি জানতে পেরেছি। তবে কী আলোচনা হয়েছে তা আমি ঠিক জানি না। যদি উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে প্রস্তাবিত কমিটিতে অবহেলিত কয়েকজনকে রাখলে সেটা আরো ফলপ্রসূ হতো।’

হইকমান্ড থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা আমি মাথা পেতে নেবো।-বলেন ইউনুস গণি চৌধুরী।