সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১২ মাঘ ১৪২৭

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেয়া হবে আগামী সপ্তাহ থেকে

প্রকাশিতঃ সোমবার, নভেম্বর ৩০, ২০২০, ৪:১৫ অপরাহ্ণ


কক্সবাজার : কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তর শুরু হচ্ছে। প্রথম দফায় আগামী সপ্তাহ নাগাদ স্বল্পসংখ্যক রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নেওয়া হবে। এরপর পর্যাক্রমে বাকি রোহিঙ্গাদেরও সেখানে স্থানান্তর করা হবে।

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব শাহ রেজোয়ান হায়াত বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের প্রথম দফায় স্থানান্তরের দিনক্ষণ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে আগামী সপ্তাহ নাগাদ রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটি পাঠানোর যাবতীয় প্রস্তুতি রয়েছে। প্রথম দফায় স্বল্প সংখ্যক রোহিঙ্গাকে নেয়া হবে ভাসানচরে। এভাবে দফায় দফায় শিবির থেকে রোহিঙ্গাদের পাঠানো হবে।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে যারা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্যাম্পে আছেন, তাদের মধ্যে এক লাখ লোককে ভাসানচরে স্থানান্তর করতে চাইছে বাংলাদেশ সরকার।

তবে স্বেচ্ছায় না গেলে কাউকে জোর করা যাবে না বলে প্রধানমন্ত্রী কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ সিকদার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলো কেবল নিজেদের সুযোগ-সুবিধার জন্যই দীর্ঘদিন ধরে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরে নানাভাবে বাধা দিয়ে আসছে। না হলে অনেক আগেই রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো।’

তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলোর অব্যাহত চাপ এড়িয়েই সরকারকে ভাসানচরে এক লাখ রোহিঙ্গা স্থানান্তরের সঠিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে হবে।

ভাসানচর দেখে আসা এনজিও পালস-বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম কলিম বলেন, ‘ভাসানচরে না যেতে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা একদম পরিকল্পিত মিথ্যাচার। আমি সরেজমিনে ভাসানচর গিয়ে স্বচক্ষে না দেখলে এ রকম অপপ্রচার নিয়ে হয়তোবা আমাকেও বিভ্রান্তিতে থাকতে হতো।’

তিনি জানান, সরকার ভাসানচরে বসবাসের জন্য চমৎকার পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে। সেখানে প্রচুর সংখ্যক দেশীয় এনজিও রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান তিনি।