চট্টগ্রামের চার সাংবাদিকসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা


চট্টগ্রাম : স্ত্রীকে সাংবাদিক বানিয়ে পরস্পর যোগসাজশে সরকারি জায়গায় প্লট সৃজন ও বরাদ্দের অভিযোগে চট্টগ্রামের সিনিয়র চার সাংবাদিকসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত ২৫ নভেম্বর দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ মামলাটি (মামলা নম্বর-১৪) দায়ের করেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. আবু সাঈদ। তবে বিষয়টি জানাজানি হয় বুধবার সন্ধ্যায়। মামলা হওয়ার বিষয়টি একুশে পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. আবু সাঈদ।

মামলার আসামিরা হলেন- চট্টগ্রাম সাংবাদিক কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুব উল আলম, সাবেক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আহমেদ, তার স্ত্রী হোসনে আরা, সাবেক কোষাধ্যক্ষ শহীদ উল আলম, তার স্ত্রী তসলিমা খানম, সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক নির্মল চন্দ্র দাশ, তার স্ত্রী তাপতী দাশ, মো. সেলিম ও মোসাম্মৎ হুমায়েরা ওয়াদুদ। এর মধ্যে মো. সেলিম হচ্ছেন ঠিকাদার। তপতী দাশ হচ্ছেন সাংবাদিক নির্মল দাশের স্ত্রী এবং মোসাম্মৎ হুমায়েরা ওয়াদুদ হচ্ছেন চট্টগ্রামের উত্তর বন বিভাগের সাবেক ডিএফও আব্দুল ওয়াদুদের স্ত্রী।

এর আগে ওই ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করতে গত ২৪ নভেম্বর দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালকের কাছে দাপ্তরিক চিঠি দিয়েছিলেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত) মো. আনোয়ারুল হক।

মামলার এজাহারে বলা হয়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অনুমোদিত লে-আউটে ১০৯টি প্লটের বিপরীতে আসামিরা নিজেরা লাভবান হওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে জালিয়াতির মাধ্যমে সিডিএর অনুমোদিত নকশা বহির্ভূতভাবে সরকারি খাসজমিসহ চারটি প্লট সৃজন করে মোট ১১৩টি প্লট সম্বলিত একটি মিথ্যা ও বানোয়াট লে-আউট/নকশা প্রণয়ন করে তা পরবর্তীতে বরাদ্দ প্রদান করে দদণ্ডবিধি আইনে অপরাধ করেছেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, ১৯৯২ সালে সাংবাদিক কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডের দায়িত্ব পাওয়ার পর আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ করে সরকারি জায়গা সমিতির সদস্য নয় এমন তিনজনের নামে প্লট বরাদ্দ এবং অবৈধভাবে প্লট বিক্রি করেছেন। ইজারা শর্তানুযায়ী প্লট বিক্রির ২৫ শতাংশ অর্থ প্রায় দুই লাখ ৩৫ হাজার টাকাও তারা আত্মসাৎ করেছেন। পারস্পরিক যোগসাজশে সরকারি পাঁচ কাঠা জমিও তারা আত্মসাৎ করেছেন।

অভিযুক্ত চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি শহীদ উল আলম বুধবার রাতে একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান (পূর্ববতী) কর্মকর্তা আমাদেরকে নোটিশ দিয়েছিলেন। সেটার জবাব দিয়েছি। পরের অনুসন্ধান কর্মকর্তা (মামলার বাদি) আমাদের কোনও প্রকার নোটিশ না দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করে দিয়েছেন। আমাদের বিরুদ্ধে সরকারি প্লট সৃজন ও বরাদ্দের যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেটা নিয়ে হাইকোর্টে দুটি রিট দায়ের হয়েছে। একটি আমরা করেছি। অপরটি করেছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক কোপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি।

তাদের দাবি, সংগঠনের সাধারণ সভায় আমাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু তাদের উক্ত দাবি সমবায় অফিস খারিজ করে দিয়েছে। কিন্তু খারিজ করার বিষয়টি তারা উচ্চ আদালতকে জানাননি। এখন আইনগতভাবে যেটা হয় সেটা হবে। – যোগ করেন শহীদ উল আলম।

মামলার অন্যতম আসামি হুমাইরা অদুদের স্বামী আব্দুল অদুদ বলেন, ‘আমরা যে প্লট নিয়েছি, সেটার নামজারি খতিয়ানসহ যাবতীয় দলিলাদি ঠিক দেখে প্লট কিনেছিলাম। এখন এর আগে প্লট সৃজন বা বরাদ্দে নিয়ম-অনিয়ম কী হয়েছে সেটার দায়ভার আমার স্ত্রীর নয়।’