শুক্রবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

‘ফজরে উঠিয়া আমি দেলে দেলে বলি’

প্রকাশিতঃ বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৭, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ

ঢাকা : বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর স্বাধীন বাংলাদেশ ধ্বংসের যেমন চেষ্টা হয়েছে, তেমনি নানাসময়ে বাংলা ভাষাকেও বিকৃত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধামন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাকিস্তান আমলে বাংলাভাষার চরম বিকৃতির চেষ্টা করা হয়েছিল। বিদ্রোহী কবি নজরুলের লেখা কবিতা- “সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি…” এই কবিতাকে বিকৃত করে পাকিস্তানি ভাবধারায় “ফজরে উঠিয়া আমি দেলে দেলে বলি” লেখা এবং বলার চেষ্টা করা হয়েছিল। মহাশ্মশানকে বিকৃত করার চেষ্টা হয়েছিল ‘গোরস্থান’ লেখার মধ্যদিয়ে। পাকিস্তানি শাসকরা এতই বাংলাভাষা ও রবীন্দ্রবিদ্বেষী ছিল যে, রেডিওতে রবীন্দ্র সংগীত প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিল।

সেই প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান ছিলেন অধ্যাপক আবদুল হাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে আমিও তাঁকে পেয়েছিলাম। পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর মোনায়েম খান অধ্যাপক আবদুল হাইকে ডেকে নিয়ে বলেছিলেন, আপনি রবীন্দ্র সংগীত লিখতে পারেন না। তিনি বললেন, আমি লিখতে পারি, কিন্তু সেটা ‘হাইসংগীত’ হবে, ‘রবীন্দ্রসংগীত’ হবে না।

এভাবেই বাংলাভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বার বার ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তখনই বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ছাড়া বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি অচল। সেই পথে হেঁটেই বাংলাভাষা ও সংস্কৃতি আজ বিশ্বদরবারে সমুজ্জ্বল-বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভাপতির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জাতির ভাষা সংগ্রামের ইতিহাস জানতে নতুন প্রজন্মকে তাগিদ দিয়ে বলেছেন, আমাদের ইতিহাস ও অতীত জানতে হবে। যে ছেলে ইতিহাস-অতীত জানতে পারে না, সে সত্যিকার অর্থে বাঙালি হতে পারে না।

বক্তৃতার শুরুতে মাতৃভাষা বাংলার রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এই অধিকার আদায়ে শহীদ হওয়া জাতির সূর্যসন্তানদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন ভাষা সংগ্রাম থেকে শুরু করে স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও।

ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা সংগ্রাম, বাঙালির অধিকার আদায়ের প্রতিটি সংগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালি জাতির যে অর্জন, তার প্রত্যেকটির পেছনে আওয়ামী লীগের অবদান রয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপির সঞ্চালনায় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন।