
চবি প্রতিনিধি : ভাষা আন্দোলনে শহীদ স্মরণে গড়ে তোলা ‘শহীদ মিনারের’ ছবি দিয়ে ব্যানার বানিয়ে বিজয় দিবস উদযাপন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কর্তৃপক্ষ; যা ক্যাম্পাসজুড়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
এমন ভুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইমেজ’ নষ্ট করছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। আবার কেউ বলছেন, এই ঘটনার ফলে শহীদ মিনার ও বিজয় দিবসের যে ভিন্নতা রয়েছে বা আমাদের যে পৃথক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে তা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদের ডিন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘বিজয় দিবস, শহীদ দিবস সবই আমাদের গৌরব। তবে দুইটির প্রেক্ষাপট ভিন্ন। একটি আমাদের ভাষা-শহীদদের স্মরণ করিয়ে দেয়, অপরটি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়ের কথা বলে।’
তিনি বলেন, ‘বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে যদি শহীদ মিনারের ছবি ব্যবহার করা হয়, তবে তা বেমানান। যদি শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধসহ আমাদের সবকিছু থাকে, তবে সেখানে অসুবিধা নাই। কারণ এটি পুরো দেশকেই উপস্থাপন করলো। তবে বিজয় দিবসে শুধু শহীদ মিনারের ছবি ব্যবহার মোটেও যৌক্তিক নয়। এটি আমার ব্যক্তিগত অভিমত।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমাকে যদি বলা হয় বিজয় দিবেসের অনুষ্ঠানের একটি ব্যানার করতে, তবে আমি সেখানে শহীদ মিনারের ছবি নয়, আমাদের বিজয় দিবসের স্মারক ব্যবহার করবো। যেহেতু আমাদের বিজয় দিবস ও শহীদ দিবসের প্রেক্ষাপট ভিন্ন।
তিনি বলেন, ‘কিন্তু যদি বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে শহীদ মিনারে ছবি ব্যবহার করা হয় তবে তা বেমানান। আর এটি যিনি তৈরি করেছেন তার ভুল নয় বরং যারা এর অনুমোদন দিয়েছেন তাদেরই ভুল। আর এই বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাব্যক্তিদের সচেতনতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।’
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন চবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক আশরাফী নিতু বলেন, ‘বিজয় দিবসের ব্যানারে শহীদ মিনারের ছবি এবং ব্যানারের পেছনে দেখা যাচ্ছে মাননীয় উপাচার্য মহোদয়কে। এটিকে শুধু ছোটো ভুল হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এটা আসলে বর্তমানে লোক দেখানো মুক্তিযুদ্ধের চেতনার একটি বাস্তব চিত্র। মুখে মুখে শুধু মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে চেতনাকে ধারণ না করলে এরকম দৃশ্যের অবতারণা হওয়াটা স্বাভাবিক।’
এই ব্যানারটি তৈরির দায়িত্বে ছিলেন উপাচার্য দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘এর আগেও শহীদ মিনারের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। আগের ধারাবাহিকতায় এই ব্যানারটি তৈরি করেছি। বিশেষ করে দেশের অনেক জায়গাতেই স্মৃতিসৌধ না থাকায় বিজয় দিবস উদযাপন করা হয় শহীদ মিনারেই। তবে আমরা এটি নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি, আগামীতে আর এমনটা হবে না আশা করি।’
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আতিকুর রহমান বলেন, ‘ব্যানার তৈরির সময় আমাদেরকে দেখানো হয়নি, ফলে অনিচ্ছাকৃতভাবে এই ভুলটা হয়ে গেছে।’
