
শরীফুল রুকন : রাষ্ট্রীয় তেল বিপণন সংস্থা পদ্মা অয়েল কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে ২০০৯ সালে যোগ দিয়েছিলেন আবুল খায়ের। ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ পদটিতে কর্মরত ছিলেন তিনি। এ দীর্ঘ সময়ে পদ্মা অয়েলে নিয়োগ বাণিজ্য, অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে।
২০১৬ সালে আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির নানাবিধ’ অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রায় পাঁচ বছর আগে শুরু হওয়া এই অনুসন্ধান সম্প্রতি শেষ হয়েছে। দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হকের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আবুল খায়েরকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির নানাবিধ’ অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। গত ১৯ নভেম্বর ইস্যু হওয়া এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ চট্টগ্রামের সদরঘাটস্থ পদ্মা অয়েল কোম্পানীর প্রধান কার্যালয় ও আবুল খায়েরসহ সংশ্লিষ্টদের পাঠিয়েছে দুদক।
এদিকে পদ্মা অয়েল কোম্পানীসহ কয়েকটি রিফাইনারীর বিরুদ্ধে ‘ক্রুড অয়েল রিফাইন’ না করে সরাসরি কনডেনসেট হিসেবে বিক্রি করে সরকারি রাজস্ব ক্ষতিসাধন ও আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল। উক্ত অভিযোগও ২০১৬ সালে পৃথকভাবে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। কিন্তু দুদকের পরিচালক কাজী শফিকুল আলম (বর্তমানে তিনি দুদকে কর্মরত নেই) ও সহকারী পরিচালক সিরাজুল ইসলামের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সম্প্রতি সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। গত ১৯ নভেম্বর সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিয়ে দুদক এ তথ্যটিও জানিয়ে দিয়েছে।
জানতে চাইলে দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে বেশকিছু দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এর মধ্যে যে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে, সেগুলোতে মামলা করা হয়েছে। আর যে অভিযোগগুলোতে সত্যতা পাওয়া যায়নি, সেখানে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।’ আবুল খায়েরকে কেন অব্যাহতি দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে দুদক কর্মকর্তা সিরাজুল হক বলেন, ‘ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেল সংক্রান্ত অভিযোগটির সত্যতা পাওয়া যায়নি।’ ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থেকে আবুল খায়েরকে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক কমিটি বা সনাক-টিআইবি, চট্টগ্রামের সভাপতি আকতার কবির চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘প্রায় পাঁচ বছর ধরে অনুসন্ধান করে দুর্নীতির কিছুই না পাওয়া বিশ্বাসযোগ্য নয়। কিছু না পেলে এটা তো কয়েক মাসে শেষ করে দেয়ার কথা। দুদকের কথা অনুযায়ী আমরা যদি ধরে নিই, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ সত্য নয়। তাহলে এই দীর্ঘ সময় সৎ কর্মকর্তাদের হয়রানি করার অধিকার দুদককে কে দিল?’
তিনি আরও বলেন, ‘দুদক যতই বলুক- অভিযোগের প্রমাণ পায়নি, এটা আসলে সত্য নয়। এভাবে দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান করে অব্যাহতি দেয়ার কারণ হচ্ছে, মানুষ যাতে ওই প্রেক্ষাপট ভুলে যায়, গণমাধ্যমের দৃষ্টি যাতে সেদিকে না থাকে। আমরা বিভিন্ন সময় দেখে আসছি, প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান করে এভাবে দায়মুক্তি দেয়া হচ্ছে।’
এদিকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানাবিধ দুর্নীতির অভিযোগ’ থেকে পদ্মা অয়েলের সাবেক এমডি আবুল খায়েরকে দুদক অব্যাহতি দিলেও ২০১৩ সালের ১০ জুলাই চট্টগ্রামের সদরঘাট থানায় তিনিসহ ৯১ জনকে আসামিকে পৃথক তিনটি মামলা করেছিলেন দুদকের উপপরিচালক মো. মোরশেদ আলম। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া, নিয়োগ কমিটি গঠন ও পরীক্ষা ছাড়াই ৮৮ জন কর্মচারীকে চাকরি দেওয়ায় অভিযোগে ১৯৭৪ সালের দুদক আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারায় মামলাগুলো দায়ের করা হয়।
মামলাগুলোতে আবুল খায়ের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) হেলাল আহমেদ চৌধুরী, সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. রফিকুল হাসান ও নতুন নিয়োগ পাওয়া ৮৮ কর্মচারী। এই কর্মচারীদের নিয়োগ ভিন্ন ভিন্ন তারিখে হওয়ায় পৃথক তিন মামলা করা হয়। কিন্তু মামলাগুলোতে উল্লেখ করা অপরাধের ধরন একই রকম।
অভিযোগের সত্যতা পেলেও মামলার প্রায় ছয় মাস পর ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি পদ্মা অয়েলে অবৈধভাবে নিয়োগদানের অভিযোগে করা মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের উপসহকারী পরিচালক এইচ এম আখতারুজ্জামান অভিযোগপত্র না দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
যদিও চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘তদন্তকালে জব্দ করা রেকর্ডপত্র, প্রাপ্ত তথ্যাদি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, কোনো প্রকার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে, নিয়োগসংক্রান্ত কোনো কমিটি গঠন না করে, কোনো ধরনের নিয়োগ পরীক্ষা না নিয়ে এবং যথাযথ নিয়োগ-প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ২০০৯-১০ অর্থবছরে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের বিভিন্ন পদে ৮৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অবৈধভাবে নিয়োগের বিষয়ে সাক্ষ্য-স্মারক দাখিল করা হয়েছে। সাক্ষ্য-স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক, প্রধান কার্যালয় ঢাকার স্মারক নম্বর সি ১২২, ১৩ চট্টগ্রাম অংশ (১).২৯৪৯২, তারিখ ৪-১১-১৩ মূলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দাখিল এবং পদ্মা অয়েলের অভিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল খায়ের ও অন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে সাক্ষ্য-স্মারকলিপি দাখিল করা হয়। ওই সাক্ষ্য-স্মারকের আলোকে দুদক প্রধান কার্যালয় ঢাকার স্মারক নম্বর সি ১২২, ১৩ চট্টগ্রাম অনুসন্ধান ও তদন্ত ২.৯৬২, তারিখ ১২-০১-১৪ মূলে মামলাগুলোতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।’
জানা গেছে, অভিযোগপত্র দেয়ার পরিবর্তে পদ্মা অয়েলের এমডি আবুল খায়েরসহ আসামিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তখন ঊর্ধ্বতন মহলে দুদক সুপারিশ পাঠায়। এ প্রেক্ষিতে আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ৮৮ জনকে চাকরিচ্যুত করার নির্দেশ দিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রধামন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক আবুল কালাম শামসুদ্দিন ২০১৫ সালের ২৮ জুন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়ে কার্যালয়কে অবহিত করার অনুরোধ করেন।
এরপরও অজ্ঞাত কারণে দুই বছর স্বপদে বহাল তবিয়তে থেকে যান আবুল খায়ের। অবশেষে ২০১৭ সালের ২০ মার্চ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পরিচালক (অর্থ) শংকর প্রসাদ দেব স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে পদ্মার এমডি আবুল খায়েরকে একই পদে যমুনা অয়েল কোম্পানিতে বদলি করা হয়। অন্যদিকে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা চাকরিতে এখনো বহাল আছেন; তাদের প্রায় সবাই আবুল খায়েরসহ পদ্মা অয়েলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মীয়-স্বজন, চালক ও বাসার কাজের লোক বলে অভিযোগ আছে।
এদিকে পদ্মা থেকে বদলির দুই সপ্তাহ পর ৬ এপ্রিল দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক চট্টগ্রামের সদরঘাট থানায় আবুল খায়েরসহ সাতজনকে আসামি করে অর্থ আত্মসাতের দুটি মামলা করেন। মামলার বাকি আসামিদের মধ্যে বিমানবন্দর সার্ভিস স্টেশনের প্রকল্প পরিচালক আলী হোসেন, দৌলতপুরে অফিস নির্মাণের প্রকল্প পরিচালক নুরুল আমিন, কর্মকর্তা আবদুর রহিম, সালেহিন আহমেদ আক্কাস ও ঠিকাদাররা আছেন।
এর মধ্যে একটি মামলায় পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের অধীনে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ‘জেট ফুয়েল হাইড্রেন্ট লাইন’ নির্মাণ প্রকল্পের দুই কোটি ৭৫ লাখ ৮৪ হাজার ৬২২ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়। অন্য মামলাটি করা হয়েছে খুলনার দৌলতপুরে তিনতলা অফিস ভবন নির্মাণ কাজে ৩২ লাখ ৬৭ হাজার ৯৬১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে।
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে রাষ্ট্রীয় আরেক তেল বিপণন কোম্পানি যমুনা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে অবসরোত্তর ছুটিতে যান আবুল খায়ের। যে ঘটনায় মামলা দুটি হয়েছিল, তখন তিনি পদ্মার এমডি ছিলেন। অর্থ আত্মসাতের এই দুই মামলায় আবুল খায়েরকে একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকার গুলশানের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে দুদক। যদিও কিছুদিনের মধ্যে তিনি জামিন পান।
মামলা দুটির সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘মামলা দুটিতে আমি অভিযোগপত্র দিয়েছি। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। মামলা এখন সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।’
এদিকে ২০১৭ সালে পদ্মা অয়েলের এমডি আবুল খায়েরের বিদায়ের পর প্রতিষ্ঠানটির একই পদে যোগ দেন মো. মাসুদুর রহমান। তিনি এখন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার আমলেও পদ্মা অয়েলে দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠে আসছে।
জানা গেছে, পদ্মা অয়েলের মোংলা বন্দরের এক প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা মোসাদ্দেক হোসেন কোম্পানির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার থাকা অবস্থায় আর্থিক অনিয়মে জড়িত ছিলেন। ১৯৯৩ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সময়ে এই অনিয়মটি সংঘটিত হয়। এই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মাহমুদ উল ইসলাম এবং সদস্য মহিউদ্দিন আহমেদ তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দেন। এতে বলা হয়, মোসাদ্দেক হোসেন কোম্পানির ৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ক্ষতির জন্য দায়ী। অথচ তিনি পদোন্নতির জন্য ২০১৯ সালের শেষের দিকে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন। তবে সেসময় তার আবেদন নাকচ হয়ে যায়। মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, এই আবেদন সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা পরিপন্থী।
এরপরও পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষ মোসাদ্দেক হোসেনকে পদোন্নতি দিয়ে কোম্পানির খুলনা জোনের প্রকল্প পরিচালক করে। গত ৯ জানুয়ারি একই ব্যক্তিকে আবার মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি দেয়ার জন্য কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন, পরিচালক আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও সদস্য করা হয়েছে আবু সালেহ ইকবাল। এই কমিটি ঘোষণা করার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এরপর গত ১৫ অক্টোবর মোসাদ্দেককে আবার কোম্পানির পরীবাগ প্রকল্পের পরিচালক পদে নিয়োগ দেয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দুর্নীতি মামলার আসামি ও দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে দায়ী করা হয়েছে এমন একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনও বহাল তবিয়তে আছেন কোম্পানিতে। শাস্তির বদলে তাদেরকে বিভিন্ন পদে পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পোস্টিং দেয়া হচ্ছে। ফলে পদ্মা অয়েলে অনিয়ম অব্যবস্থাপনা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
অভিযোগ আছে, দরপত্র ছাড়াই পদ্মা অয়েল কোম্পানীর তেল পরিবহনের জন্য মোহাম্মদ ইসহাক বাদশা এন্ড কোম্পানিকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দুই বছর পরপর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করার নিয়ম থাকলেও তা অমান্য করা হচ্ছে। এছাড়া পদ্মা অয়েল কোম্পানীর তেল পরিবহনের ভাউচারগুলো অকেজো করে রেখে এসব গাড়ি ও চালকদের পেছনে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।
২০১৭ সালের ১৪ মে তারিখে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইসহাক বাদশা এন্ড কোম্পানির একটি বিলের কপিতে দেখা যায়, পদ্মা অয়েলের ডিপো গুপ্তখাল থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার দূরত্ব হিসাব করে ভাউচারে ভাড়া নেয়া হচ্ছে। অথচ গুপ্তখাল থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের দূরত্ব মাত্র ৫ কিলোমিটার। এভাবে ৮ গুণ বেশি দূরত্ব দেখিয়ে ভাউচার ভাড়া হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ, ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে পদ্মার কর্মকর্তারা এ খাত থেকে নিয়মবর্হিভূত অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বুহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের সদরঘাটে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদুর রহমানকে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা তথ্য দিয়েছেন, এমডি ঢাকায় অবস্থান করছেন। এরপর মুঠোফোনে পদ্মার এমডি মাসুদুর রহমান একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘বর্তমানে পদ্মা অয়েলে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। নিয়ম মেনে বিল দেয়া হচ্ছে।’ দরপত্র ছাড়াই একই ঠিকাদারের সঙ্গে বারবার চুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, এসব তথ্য অফিসে গিয়ে জেনে নিতে পরামর্শ দিয়ে এড়িয়ে যান তিনি।
