শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭

সরকারি খাস জায়গা চসিক বরাদ্দ দেয় কীভাবে?

প্রকাশিতঃ বুধবার, জানুয়ারি ১৩, ২০২১, ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ


চট্টগ্রাম : নগরের সুগন্ধা আবাসিক এলাকায় এক দম্পতির ৩৫ বছর ধরে দখলে থাকা জায়গাটি কীভাবে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত হলো, তা জানতে মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। সরকারি খাস জায়গা অধিগ্রহণ না করে কী প্রক্রিয়ায় ব্যক্তির নামে বন্দোবস্তি দলিল দিল সে বিষয়টিরও তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

এদিকে মুরাদপুর মৌজার অধীন আর এস ৫০৯ দাগের আন্দর ৪০ শতক জায়গাটি খাস খতিয়ানভুক্ত হওয়ার পূর্ববর্তী রেকর্ড যাচাইয়ে কাজ শুরু করেছেন চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামুনুন আহমেদ অনীক।

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে বসে একুশে পত্রিকাকে তিনি বলেন, ‘খাস খতিয়ানভুক্ত হওয়ার আগের দুটি রেকর্ড বিশেষ করে আরএস ও পিএস রেকর্ড যাচাই করে দেখতে হবে যে, জায়গাটি কোন গ্রাউন্ডে খাস হলো। বিষয়টি জানার জন্য জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিচ্ছি। এরপর দখলদারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ সূত্র জানায়, এলএ কেইস ২২৯৪৫ তারিখ-৫/১১/৩৮ মূলে মুরাদপুর মৌজার আরএস ৫১৪ দাগের আংশিক এবং ৫০৯ ও ৫১১ দাগের সমূদয় মোট ২ দশমিক ৬৮০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করেছিল তৎকালীন সরকার। ১৯৩৭, ১৯৪২ এবং ১৯৪৩ সালে আরও তিনটিসহ মোট চারটি এলএ কেইস মূলে ১৯ দশমিক ২৫২ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। এদিকে ১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৯০ সালের বিভিন্ন সময়ে বন্দোবস্তি দলিল মূলে ২১১টি প্লট বিভিন্ন ব্যক্তিকে বরাদ্দ দেয় তৎকালীন চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন।

খাস সম্পত্তি কি চসিক কাউকে দলিলমূলে বন্দোবস্তি দিতে পারে এ প্রশ্নের উত্তরে সংস্থাটির প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘সুগন্ধা আবাসিকে সরকারি কোন খাস জায়গা কাউকে বরাদ্দ দিইনি।’ একই দপ্তরের আরেকটি সূত্রের দাবি, সুগন্ধা আবাসিকে অধিগ্রহণ করা কিছু দাগের জায়গা এখনও খাস রয়ে গেছে। সেগুলো সংশোধনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি, সুগন্ধা আবাসিক এলাকায় প্রায় ৪০ কোটি টাকার সরকারি জায়গা ৩৫ বছর ধরে আবু তৈয়ব এবং রাহেলা বেগম নামে এক দম্পতি দখলে রাখার তথ্য উদঘাটন করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামুনুন আহমেদ অনিক। ভূমি মন্ত্রণালয়ের একটি অবকাঠামো নির্মাণের জন্য খাস জায়গা খুঁজতে গিয়ে সুগন্ধা আবাসিকের ২ নম্বর রোডের ‘ডি’ ব্লকে তিনি উক্ত জায়গার সন্ধান পান।

সরকারি এ কর্মকর্তা জানান, জনৈক আবু তৈয়ব এবং তার স্ত্রী রাহেলা বেগম দম্পতি ১৬৪, ১৬৫, ১৬৬ ও ১৬৮ নম্বর প্লটের মোট ৪০ শতক জায়গা খাস খতিয়ানভুক্ত। ওই দম্পতির দাবি, ১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৮৯ সালের বিভিন্ন সময়ে তৎকালীন চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন থেকে চারটি বন্দোবস্তি দলিলমূলে তারা কিনেছেন।

খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি জায়গাটি তৎকালীন চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন ওই দম্পতির নামে কীভাবে দলিল রেজিস্ট্রি দিল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা।

জেলা প্রশাসন সুত্র জানায়, তৎকালীন চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন থেকে ১৯৮৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ১৮০১১ নম্বর বন্দোবস্তি দলিলমূলে ১৬৮ নম্বর প্লট এবং ১৯৮৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৪৮৪ নম্বর বন্দোবস্তি দলিলমূলে ১৬৫ নম্বর প্লটে ৪ কাঠা করে মোট ৮ কাঠা জায়গা কিনেন রাহেলা বেগম।

একইভাবে তার স্বামী আবু তৈয়ব ১৯৮৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ১৪৮০ নম্বর বন্দোবস্তি দলিলমূলে ১৬৪ নম্বর প্লট এবং ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ ১২৪৯ নম্বর বন্দোবস্তি দলিলমূলে ১৬৬ নম্বর প্লটে ৪ কাঠা করে মোট ৮ কাঠা জায়গা কিনেন।