সোমবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ৫ মাঘ ১৪২৭

ট্রাম্পকে ক্ষমতাচ্যুত করতে সংশোধনী প্রস্তাবে পেন্সের ‘না’

প্রকাশিতঃ বুধবার, জানুয়ারি ১৩, ২০২১, ১:২২ অপরাহ্ণ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গেল সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলে হামলার পর সোমবার ডেমোক্র্যাটরা ভাইস প্রেসিডেন্ট পেন্সকে সংবিধানের ২৫ তম সংশোধনী প্রয়োগ করে ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রস্তাব তোলে। তবে এই প্রস্তাব কার্যকরে কোন সমর্থন দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন ভাইস তিনি।

রয়টার্স এক প্রতিবেদনে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিকে চিঠি দিয়ে মঙ্গলবার তিনি বিষয়টি জানিয়েছেন।
ওই প্রস্তাব নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিনিধি পরিষদের ভোটের প্রস্তুতির মধ্যে পেন্স তার পাঠানো চিঠিতে বলেন, “এ ধরনের পদক্ষেপ আমাদের জাতির স্বার্থ সবচেয়ে ভালোভাবে রক্ষা করবে বা এটি আমাদের সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে বলে আমি মনে করি না।”

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট যদি শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে ‘অপারগ’ হন, তাহলে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভাইস-প্রেসিডেন্ট ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব নিতে পারেন।
ওই সংশোধনীর ৪ নম্বর ধারায় বলা আছে, প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা হস্তান্তর করতে না পারলে ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য তাকে ‘দায়িত্ব পালনে অপারগ’ ঘোষণা করতে পারেন।

সেক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টকে ‘দেশ শাসনে অক্ষম’ এবং ‘দায়িত্ব হস্তান্তরে অপারগ’ ঘোষণা করে প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেটের স্পিকারকে চিঠি দিতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী, তখন ক্ষমতা চলে যায় ভাইস প্রেসিডেন্টের হাতে।
এরপর নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টকে লিখিতভাবে জবাব দেওয়ার একটি সুযোগ দেওয়া হয়। তিনি যদি সেখানে ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেন, তখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার থাকে কংগ্রেসের ওপর।

আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হাউজ ও সেনেট- দুই জায়গাতেই দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হয়। আর ভোটাভুটির মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসা হওয়ার আগ পর্যন্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারেন।

ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পকে সরাতে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের প্রস্তাব তুললেও তাতে রিপাবলিকান মন্ত্রিপরিষদ যে সাড়া দেবে না, তা অনুমিতই ছিল। সে কারণে ট্রাম্পকে সরানোর চেষ্টায় ডেমোক্র্যাটরা অভিশংসনের প্রস্তাবও এগিয়ে নিচ্ছে।

আগামী ২০ জানুয়ারি নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জো বাইডেন শপথ নেবেন। ট্রাম্প ২০ জানুয়ারি দুপুরের পর থেকে আর প্রেসিডেন্ট পদেও থাকবেন না। তবে এই শপথ নেওয়াকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের সশস্ত্র সমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক সহিংসতা চালাতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্প নিজেই ওয়াশিংটনে জরুরি অবস্থার জারির অনুমতি দিয়েছেন।