সোমবার, ৮ মার্চ ২০২১, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭

ঘুরে আসুন শত বছরের পুরনো বোস ব্রাদার্সে

প্রকাশিতঃ রবিবার, জানুয়ারি ১৭, ২০২১, ৮:২০ অপরাহ্ণ


সুমন গোস্বামী : বোস ব্রাদার্স- শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান চট্টগ্রাম নগরের নিউমার্কেটের খুব কাছে নন্দনকানন এলাকায়। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এমনকি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও জড়িয়ে আছে ঐতিহ্যবাহী বোস ব্রাদার্সের নাম।

রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অসংখ্য বরেণ্য মানুষের স্মৃতি এই বোস ব্রাদার্সকে ঘিরে। ১৯২০ সালে নন্দনকানন তুলসীধামে চার রাস্তা মোড়ে বোস ব্রাদার্স এর যাত্রা শুরু হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা শুধাংশু বিমল বোস। তিনি বোস বাবু নামে বেশ পরিচিত ছিলেন। শুরু থেকে মিষ্টি, দই, সন্দেশ বিত্রিু করতেন তিনি। পরে চা-বিস্কুটসহ নানা পণ্যের কারণে বোস ব্রাদার্স জনপ্রিয় হতে থাকে।

এই বোস ব্রাদার্সে গিয়েছেন নেতাজি সুভাষ বসু, জননেতা জহুর আহমেদ চৌধুরী, বিপ্লবী বিনোদ বিহারি চৌধুরী, প্রীতিলতা ওয়াদ্দদার। অগ্নিযুগের বিপ্লবী অধ্যাপক পুলিন দে, এম এ মান্নান, আতাউর রহমান খান কায়সার, এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, কাজেম আলী মাষ্টার, আহমদ ছফা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক ভিসি আবু ইউছুফ আলম প্রমুখ নিয়মিত যেতেন আর আড্ডা দিতেন বোস ব্রাদার্সে।

বোস ব্রাদার্স প্রতিষ্ঠাতা শুধাংশু বিমল বোস এখন বেঁচে নেই। বর্তমানে বংশপরস্পরায় এটা পরিচালনা করছেন তার ছেলে তরুণ কান্তি বোস অপু।

বিভিন্ন রকমে মিষ্টি, সন্দেশ, পেড়া, মিহিদানা, দধি, স্পন্স, কাপদধি, কালোজাম, চমচম, রসমঞ্জুরী, সুইটবল, মালাই, ক্ষাসা, টক দই, ঘি। এছাড়া বোস ব্রাদার্সে সকাল থেকে পাওয়া যায় জাল নাস্তা সিঙ্গারা, পাউরুটি, বিভিন্ন রকমে বিস্কুট আর গরুর দুধের চা।

তাই প্রতিদিন নানা পেশার মানুষ আসে ঝাল নাস্তা, গরুর দুধের চা, একই সাথে মিষ্টির স্বাদ নিতে। বোস ব্রাদার্স প্রতিদিন সকাল সাতটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত খোলা থাকে। শুরু থেকে এই নিয়মে চলছে।

বোস ব্রাদার্সের বর্তমান স্বত্বাধিকারী তরুণ কান্তি বোস বলেন, আমাদের ইচ্ছে বোস ব্রাদার্সের ঐতিহ্য ধরে রাখা। তাই এটি সংস্কার করা হচ্ছে না। ঐতিহ্যের টানে দেশ-বিদেশের মানুষ এখনও বোস ব্রাদার্সের মিষ্টি কিনতে আসছেন।