সোমবার, ৮ মার্চ ২০২১, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭

এনআইডি জালিয়াতি: ইসির ‘কোটিপতি কর্মচারী’ জয়নাল জামিন পেয়েছেন

প্রকাশিতঃ রবিবার, জানুয়ারি ১৭, ২০২১, ৯:০৬ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআই) জালিয়াতির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ডবলমুরিং থানা কার্যালয়ের অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদীন জামিন পেয়েছেন; তার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার করে নামে-বেনামে কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আছে।

উচ্চ আদালতের আদেশে আজ রোববার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালত জয়নালকে জামিন দিয়েছেন। এ সংক্রান্ত আদেশটি আজ বিকেলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

রোহিঙ্গাদের এনআইডি দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদিনকে ২০১৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সাময়িক বরখাস্ত করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়। ওই দিন ভোরে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ও ল্যাপটপ গায়েব করার অভিযোগে অফিস সহায়ক জয়নালসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এবং নির্বাচন কমিশন আইনে মামলাটি করা হয়।

মামলায় জয়নাল আবেদিন, তাঁর দুই সহযোগী বিজয় দাস ও তাঁর বোন সীমা দাস এবং আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগের দিন ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে জয়নালসহ তিনজনকে আটক করে কোতোয়ালি থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে ২০০৪ সালের ১ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন কার্যালয় চট্টগ্রামে এমএলএসএস পদে যোগদান করেন জয়নাল। তখন মাসিক বেতন পেতেন ৫ হাজার ৯৬০ টাকা। গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত তিনি বেতন পেতেন ১৩ হাজার ৯০০ টাকা।

কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে জয়নালের লাখ লাখ টাকার হদিস মেলে। গত বছরের ৩০ জুলাই জেলার বাঁশখালীর গ্রামের বাড়িতে সাড়ে ৫ লাখ টাকায় পাঁচ শতক নাল জমি কেনেন। ওই জমিতে পাঁচতলার ভিত্তি দিয়ে চারতলা তোলেন। এতে খরচ হয় ৬৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে আরেকটি জায়গা কেনেন।

এভাবে জয়নালের স্থাবর–অস্থাবর ৭৩ লাখ ৫৬ হাজার ৮২২ টাকার সম্পদের হদিস পায় দুদক। এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার করে জয়নাল এই সম্পদ অর্জন করেছেন। দুদক অনুসন্ধানে এসব তথ্য পেলেও তাঁর নামে–বেনামে আরও সম্পদ থাকতে পারে। দুদকের তদন্তে তা বেরিয়ে আনার চেষ্টা রয়েছে।