বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ ২০২১, ২০ ফাল্গুন ১৪২৭

চট্টগ্রাম সিটিতে কাউন্সিলর পদে উন্মুক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার পক্ষে আওয়ামী লীগ?

প্রকাশিতঃ সোমবার, জানুয়ারি ১৮, ২০২১, ৭:১০ অপরাহ্ণ


হোসাইন সাজ্জাদ : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে দলীয়ভাবে সমর্থন দিয়ে ৫৪ জনের তালিকা প্রকাশ করেছিল আওয়ামী লীগ। এই তালিকা থেকে বাদ পড়ে অন্তত ২০ জন রানিং কাউন্সিলর। যাদের অনেকেই তুমুল গণসম্পৃক্ত এবং জনপ্রিয়।

এ নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ, গৃহবিবাদ অনেক কিছুই হয়েছে। দলীয় সমর্থন-সমন্বয়কারী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনসহ চট্টগ্রামের শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতারা দফায় দফায় চেয়েছিলেন কথিত ‘বিদ্রোহীদের’ থামাতে।

এর মধ্যে সময় গড়িয়েছে। করোনায় পিছিয়েছে নির্বাচন। ১০ মাস পর আগের শিডিউলে আগামী ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চসিক নির্বাচন। সরগরম নির্বাচনী মাঠে আরো বেশি সক্রিয়, সপ্রতিভ সদ্যবিদায়ী কাউন্সিলরগণ (যারা দলের সমর্থন পাননি)। শাসক দলের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জরিপেও ওঠে এসেছে এই চিত্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশেষ একটি গোয়েন্দা সংস্থার চট্টগ্রামের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা রোববার (১৭ জানুয়ারি) রাতে একুশে পত্রিকাকে বলেন, আমরাও আমাদের প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরেছি। আমাদের জরিপ অনুযায়ী কোনো কোনো ওয়ার্ডে শাসক দলের সমর্থন পাওয়া ব্যক্তিদের চেয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী যাদের বলা হচ্ছে, ভোটের ময়দানে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বরং বেশি। তাই আমরা জানিয়েছি কাউন্সিলর নির্বাচন উন্মুক্ত হলেই ভালো। যার গ্রহণযোগ্যতা আছে তিনিই জনরায়ে উঠে আসবেন।

আর এই পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ চসিক নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচন উন্মুক্ত করে দেওয়ার পক্ষে বলে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। যদিও বিষয়টি মানতে নারাজ শিক্ষা উপমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সদস্য ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি নগরের দারুল ফজল মার্কেটস্থ দলীয় কার্যালয়ে এ নিয়ে নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন নওফেল। বৈঠকে বিদ্রোহী প্রার্থী এবং তাদের যারা সহযোগিতা করছেন তাদেরকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে চিঠি দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এসময় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা জিতে আসার উদাহরণ উপস্থাপন করলে নওফেল বলেন, সেখানে ২-৩ জনের বেশি জিততে পারেননি। তাই বলে কোনোভাবেই আমরা দল মনোনীতদের বিপক্ষে অবস্থান

সার্বিক বিবেচনায় কাউন্সিলর নির্বাচন উন্মুক্ত করা যায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে চসিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য চট্টগ্রাম অবস্থান করা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন একুশে পত্রিকাকে বলেন, দল কাউন্সিলর প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে এটা সত্য। যেহেতু দল থেকে কোনো কাউন্সিলর প্রার্থীকে প্রতীক দেওয়া হয়নি তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে মুরুব্বিস্থানীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, আ জ ম নাছির উদ্দীন, ব্যারিস্টার নওফেলসহ চট্টগ্রামের সিনিয়র নেতারা যদি মনে করেন যে উন্মুক্ত করে দেওয়া যায়, তবে তা মন্দ হবে না। তবে এটা নিতান্তই আমার ব্যক্তিগত মতামত।

উল্লেখ্য, চসিক নির্বাচনে অংশ নেওয়া কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় সমর্থনের বাইরে প্রায় অর্ধশত প্রার্থী আছেন, যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেলেও ২০১৫ সালে নির্বাচিত হওয়া ১২ জন কাউন্সিলরও নির্বাচন করছেন। এর মধ্যে আলকরন ওয়ার্ডের বিদ্রোহী প্রার্থী তারেক সোলেমান সেলিম আজ দুপুরে মারা যান। তিনি গত ৭ মাস ধরে বোন ক্যান্সারে ভুগছিলেন।