বুধবার, ৩ মার্চ ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭

চলে গেলেন আওয়ামী লীগের দুর্দিনের কাণ্ডারি তারেক সোলেমান সেলিম

প্রকাশিতঃ সোমবার, জানুয়ারি ১৮, ২০২১, ৩:৪১ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : দূরারোগ্য বোন ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধ করে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩১ নম্বর আলকরন ওয়ার্ডের চারবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর তারেক সোলেমান সেলিম।

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর ২ টায় ঢাকায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহ…রাজেউন)।

অসংখ্য রাজনৈতিক নেতাকর্মী তৈরির কারিগর তারেক সোলেমান সেলিমের মৃত্যুর বিষয়টি একুশে পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন তার ভাই তারেক ইমতিয়াজ।

তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সাথে পাঞ্জা লড়ার পর আজ দুপুর ২টায় তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুর ২ টায় পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে কোথায় তাকে দাফন করা হবে সে সিদ্ধান্ত এই রিপোর্ট লেখা অবধি হয়নি বলে জানান তিনি।

গত বছরের জুনে তারেক সোলেমান সেলিমের শরীরে বোন ক্যান্সারের অস্তিত্ব ধরা পড়ার পর ঢাকার স্কয়ার হাসপাতাল ও ডেলটা হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে কলকাতার টাটা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত সপ্তাহে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। ঢাকার ছোট্ট একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তার চিকিৎসা চলছিল। আজ সেখানেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন এককালের ডাকসাঁইটে এই ছাত্রনেতা।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী তারেক সোলেমান সেলিম ১৯৯৪ সালে ৩০ জানুয়ারির নির্বাচনে চসিকের আলকরন ওয়ার্ড থেকে প্রথম কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ২০০০ ও ২০০৫ এবং ২০১৫ সালে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন একই ওয়ার্ড থেকে। ২০১০ সালে তিনি নির্বাচন করেননি।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর কিশাের বয়সেই বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছিলেন তারেক সোলেমান সেলিম। স্বৈরচারবিরোধী আন্দোলন ও ১/১১ এর সময় সামনের সারির কর্মী ছিলেন তিনি।

১৯৭৮ সালে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় আলকরন ওয়ার্ড ছাত্রলীগ পুনর্গঠন করে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তীতে সরকারি সিটি কলেজ ও মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য হন।

২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একের পর এক মামলা। একই সময়ে তার উপর একাধিকবার প্রাণঘাতি হামলাও করা হয়। ২০০৪ সালে ২১ আগস্টের নির্মম ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে আন্দোলন করতে গিয়ে সন্ত্রাসদমন আইনে গ্রেফতার হন তিনি।

আওয়ামী লীগের দুর্দিন-দুঃসময়ের এই কর্মী চলতি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের সমর্থন পাননি। এরপরও তৃণমূলের শক্তিকে পুঁজি করে এলাকাবাসীর অনুরোধে তিনি নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ছিলেন। এলাকার মানুষ একাট্টাও হয়েছিলেন ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত সৎ, নির্লোভ, নিরহংকারী, দল ও মানুষের জন্য নিবেদিতপ্রাণ তারেক সোলেমান সেলিমকে ৫ম বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত করতে। কিন্তু তার আগেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি। যেখা থেকে আর কখনোই ফিরবেন না চট্টগ্রামের ছাত্ররাজনীতির এই আইকন।

### ‘প্লিজ, আপনি জেগে ওঠুন ঐশ্বরিকভাবে, অলৌকিক শক্তিতে’