সোমবার, ৮ মার্চ ২০২১, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭

রাঙ্গুনিয়ায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা

প্রকাশিতঃ সোমবার, জানুয়ারি ১৮, ২০২১, ১১:০৬ অপরাহ্ণ


রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় জান্নাতুল তাসলিমা বৃষ্টি (২০) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মেয়ের পরিবারের দাবি, বৃষ্টিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

সোমবার (১৮ জানুয়ারি) উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের নিয়াজপাড়া কবির আহমেদের বাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জান্নাতুল তাসলিমা বৃষ্টি একই ইউনিয়নের কাতার প্রবাসী মো. সিরাজের স্ত্রী ও উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মিয়াজীপাড়া এলাকার প্রবাসী আমির হোসেনের মেয়ে।

বেতাগী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সৈয়দ মনছুর আলম একুশে পত্রিকাকে বলেন, বৃষ্টির শশুর সকাল ১০ টার দিকে আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন তার পুত্রবধূ স্বামীর সাথে রাগারাগি করে আত্মহত্যা করেছেন। সেটা শুনে আমি বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান এবং থানায় জানাই। এরপর থানা থেকে পুলিশ এসে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়।

জান্নাতুল তাসলিমা বৃষ্টির মা একুশে পত্রিকাকে বলেন, আজ সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে মেয়ের শশুর বাড়ীর লোকেরা ফোনে জানিয়েছেন আমার মেয়ে পালিয়ে গেছে। আবার পরে বলেছে আমার মেয়ে খুব অসুস্থ, ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছে। এভাবে কয়েকটি মিথ্যা কথা বলেছিল ফোনে। মেয়ের অসুস্থতার কথা শুনে সেখানে গিয়ে দেখি লাশ বিছানায় পড়ে আছে।

তিনি বলেন, আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি কিংবা অসুস্থও হয়নি। তাকে শশুর,শাশুড়ি ও মেয়ের বড় জা মিলে ফাঁস দিয়ে বা গলা টিপে হত্যা করেছে। তার গলায় আঘাতের দাগও আছে।

শাশুড় বাড়ীর লোকদের সন্দেহ করার কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, আমার মেয়ের বিয়ের কিছুদিন পর তার স্বামী বিদেশ চলে যায়। তারপর থেকে বিভিন্ন অজুহাতে মেয়ের সাথে তার শশুর বাড়ীর লোকেরা ঝগড়া করত এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দিত। এ প্রেক্ষিতে ধারণা করছি, আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে জান্নাতুল তাসলিমা বৃষ্টির বিয়ে হয়। তবে তাদের সন্তান নেই।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব মিল্কি একুশে পত্রিকাকে বলেন, গত তিন বছর আগে ওই মহিলার বিয়ে হয়েছে। তার স্বামী দেশের বাইরে থাকেন। তিনি গলায় শাড়ী পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছেন তার শশুর বাড়ীর লোকজন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই বুঝা যাবে আসলে বিষয়টি কী। আপাতত এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা নিয়েছি। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।