সোমবার, ৮ মার্চ ২০২১, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭

প্রার্থিতা নিয়ে জিন্নাত-জোহরার জালিয়াতি, কঠোর ব্যবস্থা নেবে আ.লীগ

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২১, ৫:৫০ অপরাহ্ণ


মোহাম্মদ রফিক : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীতা নিয়ে নগর মহিলা লীগের দুই সদস্য প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন।

এমন প্রতারণা ও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) একুশে পত্রিকাকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া দুই নারী হলেন-নগর মহিলা লীগের সদস্য জিন্নাত আরা বেগম এবং ও জোহরা বেগম।

জানা যায়, ২০২০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই দুইজনকে চসিকের সংরক্ষিত আসন ২৮, ২৯, ৩৬ এবং ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।

কিন্তু পরে নানা কারণে মনোনয়ন বোর্ড তাদের প্রার্থীতা বাতিল করে নতুন করে সংরক্ষিত আসন দু’টিতে জেসমিন পারভীন জেসি এবং ফেরদৌসি আকবরকে প্রার্থী করে। এবং আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইটেও অন্য প্রার্থীদের মতো পরিবর্তিত দুই প্রার্থীর নাম সন্নিবেশ করা হয়।

কিন্তু জিন্নাত আরা বেগম এবং ও জোহরা বেগম দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নিজেদেরকে আসন দু’টির প্রার্থী দাবি করে আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রামের একটি আঞ্চলিক দৈনিকে বিজ্ঞাপন প্রচার করেন। সেই বিজ্ঞাপনে ১৯ ফেব্রুয়ারি দলের পক্ষে ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার স্বাক্ষর সম্বলিত প্রার্থী তালিকায় থাকা তাদের দুজনের নাম আলাদা করে নিয়ে বিপ্লব বড়ুয়ার স্বাক্ষরসহ ছেপে দিয়ে নিজেদেরকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মর্মে প্রচার করেন।

শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী দাবি করে আজ সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেন তারা।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া এ দুই নারীর কর্মকাণ্ডকে দলের সঙ্গে মহা-জালিয়াতি ও প্রতারণা বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চসিকের সংরক্ষিত ২৮, ২৯ ও ৩৬ নং ওয়ার্ডে ফেরদৌসি আকবর এবং ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডে জেসমিন পারভীন জেসিই প্রার্থী।

এর আগে জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত মতে উক্ত আসন দু’টিতে জিন্নাত আরা বেগম এবং ও জোহরা বেগমকে প্রার্থী করা হলেও পরে তাদের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়।

‘জিন্নাত ও জোহরা নিজেরকে দলীয় প্রার্থী দাবি আজ স্থানীয় একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন এবং চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। আওয়ামী লীগের ইতিহাসে এটি একটি বড় প্রতারণা। জিন্নাত ও জোহরা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। -বলেন বিপ্লব বড়ুয়া।

বিষয়টি নিয়ে একই রকম মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন। তিনি মঙ্গলবার বিকালে একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘জিন্নাত আরা বেগম ও জোহরা বেগম নিজেদের দলীয় প্রার্থী দাবি করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তারা দলের প্রার্থী নন। তারা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এবং সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের প্রার্থী দাবি করে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, যে পত্রিকায় তারা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন ওই পত্রিকা কর্তৃপক্ষ তাদের বিষয়ে আমাকে অথবা বিপ্লব বড়ুয়াকে জিজ্ঞেস করতে পারতেন।’

তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা পরিবর্তনের বিষয়টি মানতে নারাজ চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন। তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘এর আগে গত বছর ১৯ ফেব্রুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চসিক ২৮, ২৯, ৩৬ নং ওয়াডের (সংরক্ষিত নারী আসন) জিন্নাত আরা বেগম এবং ৭ ও ৮ নং ওয়াডে জহুরা বেগমকে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। তারা এতদিন মাঠে কাজ করেছেন। নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে তাদের প্রার্থিতা কেন বাতিল করা হবে?

হাসিনা মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমরা এটা মেনে নেব না। তাদের প্রার্থিতা বাতিলে নিশ্চয় নেপথ্যে কিছু হয়েছে৷ জিন্নাত ও জহুরা মাঠে থাকবেন। নির্বাচন থেকে তাদের সরে আসার সুযোগ নেই। সময়ও নেই।’

এর আগে আজ মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই দুই প্রার্থী বলেন, ‘দলীয় সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত দলীয় প্রার্থী হিসেবে ২৮, ২৯ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে জিন্নাত আরা বেগম (লিপি) এবং ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে জহুরা বেগমকে ঘোষণা করা হয়। সেই অনুযায়ী গত ১১ মাস ধরে আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছি। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠ গুছিয়েছি।

কিন্তু গত ১৮ জানুয়ারি চট্টগ্রামের দুটি পত্রিকায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন কমিটি-২০২১ প্রদত্ত বিজ্ঞাপনে এ দু’টি সংরক্ষিত আসনে বিদ্রোহী দুজনকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নাম প্রকাশ করা হয়। এতে আমরা সংক্ষুব্ধ এবং মর্মাহত।’

উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন করে আগামী ২৭ জানুয়ারি নির্বাচনের তারিখ ও চারটি ওয়ার্ডে পুনঃতফসিল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিষ্ক্রিয় থাকতে বারবার অনুরোধ জানান। অন্যথায় দল থেকে বহিষ্কার করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে ‘প্রভাবশালী’ কিছু নেতা প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্যে ‘বিদ্রোহী’দের পক্ষে থাকায় বিদ্রোহীদের দমানো যায়নি। চসিক নির্বাচনে অংশ নেওয়া কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় সমর্থনের বাইরে প্রায় অর্ধশত প্রার্থী আছেন, যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।