বুধবার, ৩ মার্চ ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭

আনোয়ারায় পরিবেশ বাঁচিয়ে নিরাপদ সবজি চাষ

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২১, ১০:২৮ অপরাহ্ণ


জিন্নাত আয়ুব, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) : আনোয়ারায় রাসায়নিক সার ও রাসায়নিক বালাইনাশক ছাড়াই ২০০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির আবাদ করে বড় সাফল্য পেয়েছেন কৃষকরা; চাষীদের এই প্রচেষ্টায় সহযোগিতা দিয়ে আসছে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিস।

উৎপাদিত সবজির মধ্যে রয়েছে বাধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, শিম, গাজর, মুলা, কাঁচা মরিচ, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, আলু, বেগুন, ধনে পাতা ইত্যাদি।

এদিকে কৃষি বিভাগের পরামর্শে শাকসবজি উৎপাদনে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার না করায় কৃষকদের খরচও কমে এসেছে। এতে নতুন করে অনেকে বিষমুক্ত সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

বিষমুক্ত সবজি চাষ করে আসা বটতলী এলাকার মো. আলী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রথম আমাকে বিষমুক্ত সবজি চাষের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। রাসায়নিক ছাড়া যে চাষাবাদ সম্ভব, তখন সেটা আমি বিশ্বাস করতে পারিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘পরে কৃষি কর্মকর্তাদের উৎসাহে আমি এই বছর প্রথমবারের মতো রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়া সবজি চাষ করি। তাদের প্রশিক্ষণ, নিয়মিত তদারকি ও সহযোগিতায় আমি এবার সাফল্য পেয়েছি। কৃষি অফিসের দেয়া ফর্মূলা অনুসরণ করে আমি লাভবান হয়েছি। এই ধারায় আগামিতেও আমি সবজি চাষ করে যাবো।’

একই প্রক্রিয়ায় বিষমুক্ত সবজি চাষ করে উপজেলা কৈনপুরা এলাকার উত্তম দাশ, মোহাম্মদপুর এলাকার মো. সোহাগ মিয়া ও গুয়াপঞ্চক এলাকার মোসলেম উদ্দীন সাফল্য পেয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।

গুয়াপঞ্চক এলাকার মোসলেম উদ্দীন বলেন, ‘আগে আমরা জমিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার করতাম। কীটনাশক স্প্রে করতাম। এর মাধ্যমে বহু বছরহাইব্রিড জাতের শাকসবজি আবাদ করেছি। এতে ফলন বেশ ভালো হতো। তবে আমরা জানাতাম না,এসব ফসল বিষাক্ত এবং এসব খেয়ে মানুষেরা নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হতেন।আমরা কৃষি বিভাগের কাছ থেকে জানতে পারি, রাসায়নিক সার, কীটনাশক প্রয়োগে জমির ফসল বিষে পরিণত হয় এবং মাটি উর্বরতা শক্তি হারিয়ে ফেলে। আমরা গেল বছর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি, আর মানুষকে বিষ খাওয়াব না। বর্তমানে আমি বিষমুক্ত সবজি চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছি।’

মোহাম্মদপুর এলাকার মো. সোহাগ বলেন, ‘কৃষি বিভাগ থেকে জৈব চাষাবাদ বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেয়েছি আমরা। বিষমুক্ত সবজি চাষের জন্য গৃহস্থালি বর্জ্য দিয়ে কম্পোস্ট সার, কেঁচো সার তৈরি করছি এখন। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে জৈব বালাইনাশক। এসব ফসলের জমিতে প্রয়োগ করে মিলছে ভালো ফল।’

এর আগে গত বছরের শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন ও বিক্রির জন্য একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন। এ নিয়ে গত বছরে ৪ ফেব্রুয়ারি ‘বিষমুক্ত সবজি মিলছে আনোয়ারায়’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করে একুশে পত্রিকা।

এ প্রকল্পের অধীনে উপজেলা কৃষি বিভাগ কৃষক-কৃষাণীদের প্রশিক্ষণ এবং উপকরণ দিয়ে সহায়তা করে যাচ্ছে। প্রতিটি দলে প্রশিক্ষিত ২৫ জন করে ২০টি দল এ ফসল উৎপাদনের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান একুশে পত্রিকাকে জানান, এ সবজি চাষে কোনো রাসায়নিক সার এবং কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না। জৈব সার এবং পোকা দমনে ফেরমেন, আঠালো ফাঁদ এবং জৈব বালাই নাশক ব্যবহার করা হয়।

বিষমুক্ত সবজিগুলো উপজেলার চাতরী, বটতলী ও সেন্টার এলাকায় শঙ্খ নামে তিনটি নিরাপদ সবজি বিপনন কেন্দ্রে বিক্রি করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে আজ মঙ্গলবার বিষমুক্ত সবজির আবাদ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জুবায়ের আহমেদ। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

আনোয়ারা ইউএনও শেখ জুবায়ের আহমেদ একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘বর্তমানে নিরাপদ সবজি পাওয়া বিরল। কৃষকরা বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করায় কৃষি পণ্য ও খাবার নিরাপদ নয়। আনোয়ারায় গত বছরের শুরুর দিকে কৃষি অফিসের সহায়তায় পরীক্ষামূলক নিরাপদ সবজির চাষাবাদ করা হয়েছিল।’

‘পরবর্তীতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের নিরাপদ সবজি চাষাবাদে উৎসাহিত করা হয়। এ বছর ২০০ বিঘা জমিতে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করা হয়েছে। এসব জমির ফসলের খাদ্যমান ও পুষ্টি সঠিকভাবে পাওয়া যাবে।’