শুক্রবার, ৫ মার্চ ২০২১, ২১ ফাল্গুন ১৪২৭

দুদকের অভিযানে কক্সবাজারের তহসিলদার জয়নাল গ্রেপ্তার

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২১, ২০২১, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ


কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজার এলএ শাখায় দুর্নীতি ও নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ মহেশখালীর কালারমারছড়ার আলোচিত তহসিলদার জয়নাল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) বেলা ১২ টায় চট্টগ্রামের জিইসি মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান দুদক চট্টগ্রামের উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন।

গ্রেপ্তার জয়নাল আবেদীন কক্সবাজার শহরের পেশকারপাড়া এলাকার নুর মোহাম্মদের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) হিসেবে কর্মরত আছেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, তহসিলদার জয়নাল চলমান উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে ভূমি অধিগ্রহণ কাজে একটি সিন্ডিকেট গঠন করে দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধভাবে শত কোটি টাকা আয় করেছেন বলে অভিযোগ উঠে।

এমনকি কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় দুর্নীতি ও নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার দালালদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও জয়নালের নাম উঠে আসে। পরবর্তী অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতাও পায় দুদক।

দুদক সূত্রে আরও জানা গেছে, কক্সবাজার জেলায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রথম কাজ ভূমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে দালালদের সিন্ডিকেটটি তৈরি হয়েছে। এসব দালাল জমির মালিকদের নাম দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
বিষয়টি নজরে আসার পর দুদক আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধানে নামে।

অনুসন্ধানের শুরুতেই দুদক ও র‌্যাব যৌথ অভিযান চালিয়ে গত ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ ওয়াসিম নামের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার এক সার্ভেয়ারকে নগদ টাকাসহ গ্রেপ্তার করে। পরে তার তথ্যের ভিত্তিতে পরে গত ২২ জুলাই মো. সেলিম উল্লাহ, ৩ আগস্ট মোহাম্মদ কামরুদ্দিন ও সালাহ উদ্দিন নামের তিন দালালকে গ্রেপ্তার করে দুদক। সে সময় তাদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকার নগদ চেক ও ভূমি অধিগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ মূল নথি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী গ্রেপ্তারকৃতদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে প্রায় দেড়’শ দালালের নাম উঠে আসে।

এরই প্রেক্ষিতে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসনের এলএ শাখার ৩০ কর্মকর্তাকে এক আদেশে শাস্তিমূলক বদলি করে ভূমি মন্ত্রণালয়। তার মধ্যে জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় কর্মরত ১৯ জন সার্ভেয়ার, সাতজন কানুনগো ও চারজন অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা ছিলেন।