শুক্রবার, ৫ মার্চ ২০২১, ২১ ফাল্গুন ১৪২৭

চান্দগাঁও ওয়ার্ড : আ.লীগ কাউন্সিলর প্রার্থীরও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২১, ২০২১, ৭:৫০ অপরাহ্ণ


জোবায়েদ ইবনে শাহাদত : আয়তনের দিক দিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সর্ববৃহৎ ওয়ার্ড চান্দগাঁও। এ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চেয়ারে বসতে প্রাণপণ ছুটছেন ৬ প্রার্থীই। তবে সব ছাপিয়ে গত পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা-তকমায় এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাইফুদ্দিন খালেদ সাইফু। তার প্রতীক টিফিন ক্যারিয়ার।

দলটির বিদ্রোহী প্রার্থী-নাছির উদ্দিন এয়ার কন্ডিশনার, জাহেদ গিয়াস উদ্দীন আহমেদ লাটিম ও মো. ইউসুফ ঝুড়ি এবং মো. এসরারুল হক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘুড়ি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দুবারের সাবেক কাউন্সিলর মাহবুবুল আলম।

নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে উৎসাহের পাশাপাশি বাড়ছে উৎকন্ঠা। অন্য সব ওয়ার্ডে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে উৎকন্ঠা দেখা গেলেও ৪ নম্বর চাঁন্দগাও ওয়ার্ডে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সব প্রার্থীই।

এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে আরেক প্রার্থীর অভিযোগ আর দোষারোপের রাজনীতিই যেন প্রার্থীদের প্রচারণার প্রধান উপজীব্য এখানে। অন্যান্য ওয়ার্ডে বিদ্রোহী, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগ উঠলেও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগও উঠেছে এই ওয়ার্ডে।

স্থানীয় এক ভোটার বলছেন, আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় জয় পেতে বেগ পেতে হবে সাইফুদ্দিন খালেদকে। শুধু তাই নয়, সদ্যবিদায়ী আওয়ামী মনোনীত এই কাউন্সিলর প্রার্থী নির্বাচিত হোক খোদ তা চান না প্রাক্তন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির ছেলে মুজিবুর রহমান। তাদের রেষারেষির সুবিধা যেতে পারে প্রকারান্তরে বিএনপি প্রার্থীর ঘরে।

জানা যায়, প্রাক্তন মন্ত্রীর নামফলক সরানো বিতর্ক নিয়ে মন্ত্রীপুত্রের রোষানলে পড়েন তিনি। জনশ্রুতি আছে, এর জের ধরে মুজিবুর রহমানের ইচ্ছা এবং ইশারাতেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী সক্রিয় এখানে। এরপরও দলের সমর্থন বাড়তি শক্তি সাইফুদ্দিন খালেদ সাইফুর জন্য-এমনটা মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।

তবে ভোটাররা বলছেন সদ্য বিদায়ী কাউন্সিলর সাইফুদ্দিনের সাথে আসল লড়াই হবে নগর বিএনপির সহ সভাপতি মাহবুবুল আলমের। দলের একক মনোনয়নে মিষ্টি কুমড়া প্রতীক নিয়ে নিজের প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন ২০০৫-২০১৫ সাল পর্যন্ত কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করা মাহবুবুল। প্রচার-প্রচারণায় বাধার অভিযোগ না থাকলেও তিনিও শঙ্কিত সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে।

অল্প বৃষ্টিতে জলামগ্নতা, কাঁচা ও সরু রাস্তায় পথচলা, ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার না করার মতো সমস্যাগুলো সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সকল প্রার্থী চাইছেন ভোটের পাল্লা ভারী করতে। পরিবর্তনের স্বপ্নঘুড়ি উড়িয়ে এলাকায় এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা।

স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. এসরারুল হক একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘এলাকাবাসী পরিবর্তন চায়, তারা এমন একজনকে চায় যিনি পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে পারবেন। আমি মনে করি ভোটাররা আমাকেই যোগ্য বিবেচনা করে জয়ী করবেন। যেখানেই যাচ্ছি সাড়া পাচ্ছি। যাদের হেভিওয়েট বলা হচ্ছে তাদের চেয়েও ভোটের সমীকরণে এগিয়ে থাকবেন বলে আশাবাদ তার।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নাছির উদ্দিন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘বিগত সময়ে সাইফুদ্দিন এলাকায় উন্নয়ন বরাদ্দের টাকা নিয়ে নয়ছয় করেছেন। তিনি এলাকার পরিবর্তন করেছেন বললেও তার সময়ে কোনো কাজ হয়নি। দলের উপর মহলকে ম্যানেজ করে মনোনয়ন নিয়েছেন। এলাকার মানুষ যোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে আমাকেই বেছে নেবে।’

অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুল আলম এক প্রশ্নের জবাবে একুশে পত্রিকাকে বলেন, প্রচার-প্রচারণা করতে গিয়ে আমি এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমি শঙ্কিত। গতবারের নির্বাচনে কেন্দ্র দখল করে ভোট জালিয়াতি করা হয়েছিল। এবারও এমনটা হতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। তবে অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণের রায়কে আমি মাথা পেতে নিবো।

নির্বাচিত হলে এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি জলাবদ্ধতা, মাদক, সন্ত্রাসমুক্ত ওয়ার্ড গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। তবে আওয়ামী সমর্থিত ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কোন্দলের কারণে বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন বলে জানান দুবারের নির্বাচিত সাবেক এই কাউন্সিলর।

আপনার সময়কালে উন্নয়ন হলেও ময়লা-আবর্অজনা অপসারণ নিয়ে জনগণের ক্ষোভ আছে। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাইফুদ্দিন খালেদ সাইফু বলেন, এই অভিযোগ সত্য নয়ম আমার সময়কালে কখনো এধরনের সমস্যায় জনগণকে পড়তে হয়নি। বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও আবাসিকসহ বেশ কিছু এলাকা থেকে আমি ডাস্টবিন সরিয়েছি। তবে করোনার কারণে নির্বাচন পেছানো এবং আমার মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে আমি দায়িত্ব পালন করতে পারিনি। সেই সময় ছাড়া আমি আমার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ আর এলাকায় নিজ দলের একটি প্রভাবশালী অংশের বিরোধিতা ডিঙিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারবেন কি? এমন প্রশ্নের জবাবে সাইফুদ্দিন বলেন, আমার যোগ্যতার ভিত্তিতে দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আর জয় পরাজয় নিশ্চিত করবে আমার ওয়ার্ডবাসী। আর মুজিবুর রহমানের অন্যায় আবদার আমি রাখিনি বলেই তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন। আর যে বিদ্রোহী প্রার্থীরা আমার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদেরকে মুজিবুর রহমানই দাঁড় করিয়েছেন।

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি আশঙ্কা করছি নির্বাচনী কেন্দ্র দখল করে ভোটারদের ভোট প্রয়োগে বাধা দেয়া হতে পারে। কারণ এখন থেকেই বিভিন্ন স্থানে আমার পোস্টার ছেঁড়া হচ্ছে, আমার কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। তবে সুষ্ঠু ভোট হলে যারা আমার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা জামানত হারাবেন বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, ‘আমি যে পরিমাণ উন্নয়ন এলাকায় করেছি, বিগত ২০ বছরেও এমন উন্নয়ন হয়নি। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মাদক-সন্ত্রাস নির্মূলসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছি। আমি বিশ্বাস করি এলাকার মানুষ আমার এসব কর্মকাণ্ডের পুরষ্কার হিসেবে আমাকে পুনরায় জয়যুক্ত করবেন।’

এদিকে, বারবার চেষ্টা করেও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জাহেদ গিয়াস উদ্দীন আহমেদ ও মো. ইউসুফের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।