রামপুর ওয়ার্ড : মোটা অংকে আ.লীগ প্রার্থীর সাথে বিএনপি প্রার্থীর সমোঝোতার অভিযোগ


চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ডে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থীর সাথে বিএনপি কাউন্সিলর প্রার্থীর সমঝোতার অভিযোগ ওঠেছে।

এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে আবদুস সবুর লিটন টিফিন ক্যারিয়ার, বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে লাটিম প্রতীকে প্রাক্তন কাউন্সিলর এসএম এরশাদ উল্লাহ এবং বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে শহীদ মোহাম্মদ চৌধুরী ঘুড়ি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা।

তবে শহীদ মোহাম্মদ চৌধুরী বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেলেও এলাকায় কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা কিংবা পোস্টার পর্যন্ত সাঁটেননি।

অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর কাছে থেকে নগদ ১০ লাখ ও চেকের মাধ্যমে ১০ লাখসহ সর্বমোট ২০ লাখ টাকা নিয়ে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি প্রার্থী শহীদ মোহাম্মদ চৌধুরী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির শীর্ষস্থানীয় এক নেতা একুশে পত্রিকাকে জানান, আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ পেয়ে ডা. শাহাদাত বেশ কয়েকবার শহীদকে তলব করলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে প্রকৃত সত্য চাপা দিয়ে দলের দুর্বল ভিত্তি ও বিএনপি নেতাদের অসহযোগিতার অজুহাত তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

তিনি বলেন, এই ঘটনার পর থেকে শহীদকে ঘরে পাওয়া যাচ্ছে না। গত এক সপ্তাহ ধরে গা ঢাকা দিয়ে আছেন তিনি। তার পরিবাররের লোকজনও বলছেন তিনি কোথায় গেছেন তারা জানেন না।

এ বিষয়ে মহানগর যুবদলের সহ সভাপতি আব্দুল গফুর বাবুল একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ বিষয়ে জানতে পেরে ডা. শাহাদাত হোসেন শহীদকে বেশ কয়েকবার তলব করেছেন। কিন্তু তিনি আসেননি। গত ১০ দিন আগে হঠাৎ তিনি জানান নির্বাচন করবেন না। এরপর থেকে শহীদ নিরুদ্দেশ। তার মোবাইল ফোন নাম্বারও বন্ধ।’

‘আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ অনেকেই অবগত আছেন। এটা ওপেন সিক্রেট। তার কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। কীভাবে তিনি মনোনয়ন পেলন এটাই বুঝতে পেরছি না।’-বলেন আব্দুল গফুর বাবুল।

এদিকে, গত ১৬ জানুয়ারি নির্বাচনী প্রচারে নগরের হালিশহর থানার ঈদগাহ এলাকার রূপসা বেকারির সামনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। আর এই হামলার জন্য ডা. শাহাদাত অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুস সবুর লিটনের দিকে।

অন্যদিকে, দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে এসএম এরশাদ উল্লাহ নির্বাচনের মাঠে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত থাকার ঘোষণা দেন। নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ করে মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে চেয়েছিলেন ভোট। কিন্তু গত ৯ জানুয়ারি নগর আ. লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছেন নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কথা। যদিও নির্বাচন কমিশন অফিসে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আইনী কোনও সুযোগ নেই।

এদিকে বিভিন্ন চেষ্টার পর প্রতিবেদনটি প্রকাশের শেষ মুহূর্তে শহীদ মোহাম্মদ চৌধুরীর সঙ্গে ফোনে সংযোগ করা সম্ভব হয় একুশে পত্রিকার; তিনি একুশে পত্রিকাকে বলেন, টাকার বিনিময়ে সমঝোতা বা সরে আসার প্রশ্নই আসে না। হ্যাঁ, লিটন আমাকে প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু আমি তাতে রাজি হইনি। আমার দলের কেউ যদি এই অভিযোগ করে থাকে তাহলে আমার কিছুই বলার নেই। তবে লিটন যদি বলে থাকেন তাহলে আমি চ্যালেঞ্জ করলাম। তিনি (লিটন) ফাঁকা মাঠে গোল দিতে এসব অপপ্রচার করছেন বলে তার দাবি।

বিএনপি প্রার্থী শহীদ চৌধুরী বলেন, আমি নির্বাচনী মাঠে আছি। এলাকায় আমার পোস্টারও সাঁটা হয়েছে প্রচুর। কিন্তু আবদুর সবুর লিটন তার লোকজন দিয়ে আমার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছেন। আমার লোকজনকে কোথাও দাঁড়াতে দিচ্ছেন না তারা। এই কারণে আমার নির্বাচনী প্রচারণা হয়তো কম চোখে পড়ছে। এরপরও বলি, আমি নির্বাচনেই আছি। সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দিতে পারলেই এলাকার মানুষ বিপুল ভোটে আমাকেই বেছে নিবে বলে বিশ্বাস।

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে সদ্যবিদায়ী কাউন্সিলর এসএম এরশাদ উল্লাহর সাথে যোগাযোগ করা হলে এই মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না বলে জানান তিনি। ব্যক্তিগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাকে এই বিষয়ে জড়িয়ে বিতর্কিত না করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

অর্থিক লেনদেনে বিএনপি প্রার্থীর সাথে সমঝোতার বিষয়ে জানতে চাইলে রামপুর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুস সবুর লিটন একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘বিএনপির গ্রুপিংয়ের কারণে তারা এধরনের মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। নিজেদের কোন্দলের কারণে তারা ভিত্তিহীন ও মনগড়া কথা বলছে। আর যে শহীদের সাথে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে তার সাথে আমার কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সম্পর্ক নেই।’

ডা. শাহাদাত হোসেনের গাড়িতে হামলার প্রসঙ্গে লিটন বলেন, ‘হামলার স্থানে কি ডা. শাহাদাত আমাকে দেখেছিলেন? আমার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীর মিথ্যা তকমা লাগানো হচ্ছে। মিথ্যা অভিযোগ করলে হবে না, কারণ দেশের সকল গণমাধ্যম, দায়িত্বশীল গোয়েন্দা সংস্থা আমার বিষয়ে জানেন। আর আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের দাগ থাকলে এতো যাচাই-বাছাই করার পর দল আমাকে মনোনয়ন দিতো না।’

নির্বাচন থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী এসএম এরশাদ উল্লাহর সরে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন, ভবিষ্যতেও করবেন। তাই নগর আওয়ামী লীগের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এরশাদ উল্লাহ নির্বাচন থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। নির্বাচনে আমাকে জয়ী করতে এরশাদ উল্লাহ কাজ করবেন বলেও জানান তিনি।’