বুধবার, ৩ মার্চ ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭

রশি দিয়ে বেঁধে রাতভর পেটালেন চেয়ারম্যান!

প্রকাশিতঃ রবিবার, জানুয়ারি ২৪, ২০২১, ১০:৫২ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : করোনাকালীন সময়ে ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম করে সমালোচিত হওয়া বাঁশখালীর সাধনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন চৌধুরী খোকার বিরুদ্ধে এবার উজ্জ্বল ভট্টাচার্য নামের এক ব্যক্তিকে রশি দিয়ে বেঁধে রেখে রাতভর পিটিয়ে, মাথা ফাটিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় রোববার (২৪ জানুয়ারি) বাঁশখালীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঈনুল ইসলামের আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী উজ্জ্বল ভট্টাচার্য। ওই মামলা গ্রহণ করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বাদীর পক্ষের আইনজীবী বাঁশখালী আইনজীবি সমিতির সভাপতি শামশুল ইসলাম চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে করোনাকালীন সময়ে ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম করায় চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন চৌধুরী খোকাকে শোকজ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। পরে মুচলেকা দিয়ে পার পেয়ে যান তিনি।

আদালতে দেয়া উজ্জ্বল ভট্টাচার্যের অভিযোগে জানা যায়, চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন চৌধুরী খোকার নির্দেশে গত ৭ জানুয়ারি সাধনপুর ইউনিয়নের বাণীগ্রামে অবস্থিত উজ্জ্বল ভট্টাচার্যকে তার দোকান থেকে চৌকিদার বশির আহমদ আরও ৬ জনের সহযোগিতায় জোরপূর্বক সিএনজি অটোরিক্সা যোগে উঠিয়ে নিয়ে চেয়ারম্যানের নিজ বাড়িতে রাত ৮টা থেকে ১টা পর্যন্ত রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন। পরে লাঠি দিয়ে চেয়ারম্যান নিজ হাতে পিটিয়ে বুকে, পিঠে, কোমরে, উভয় রানে, পায়ে ও মাথায় আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেন। ওই রাতে উজ্জ্বল ভট্টাচার্যের শারীরিক অবস্থা বেগতিক হলে তার আত্মীয়-স্বজন রক্তাক্ত অবস্থায় চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে তাকে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মাথায় ৪টি সেলাই করা হয়। চেয়ারম্যানের পিটুনিতে এখনও পুরো শরীরে ব্যথা ও মাথায় জখম রয়েছে। মাথা ফাটিয়ে দেয়ার পর চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন চৌধুরী খোকা ১০০ টাকার ৩টি নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

ভুক্তভোগী উজ্জ্বল ভট্টচার্য্য বলেন, আমার পৈত্রিক ১৬ শতক জায়গাতে আমি বিগত ২২ বছর ধরে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা চালিয়ে আসছি। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে পুজা ও জোতিষ শাস্ত্রীয় পেশায় জড়িত আছি। এলাকায় আমাকে সবাই পন্ডিত হিসেবে চেনে। আমার প্রতিবেশি ঋষিকেষ ভট্টাচার্য্য ওই সম্পত্তি দাবি করে সাধনপুর ইউপি চেয়ারম্যানকে আর্থিকভাবে প্রভাবিত করেব। চেয়ারম্যান আর্থিক সুবিধা নিয়ে চৌকিদার বশির আহমদ, প্রমীরণ দে, মুবিন, কামাল আহমদ, করুণাময় ভট্টচার্য্য, প্রেমানন্দসহ আরও ৪-৫ জনের সহযোগিতায় আমাকে জোরপূর্বক সিএনজি অটোরিক্সা করে চেয়ারম্যানের বাড়িতে উঠিয়ে নেন এবং পিটিয়ে মাথা ফেটে দেন। পরে ১০০ টাকার ৩টি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। আমি থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ প্রভাবশালী চেয়ারম্যানের কারণে মামলা নেননি। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে আমি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আজ মামলা দায়ের করেছি।

অভিযোগের বিষয়ে সাধনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন চৌধুরী খোকা বলেন, আমি উজ্জ্বল ভট্টচার্য্যকে পিটাইনি, রশি দিয়েও বাঁধিনি। কিভাবে মাথা ফেটেছে জানি না। কোন স্ট্যাম্পেও স্বাক্ষর নিইনি।