বুধবার, ৩ মার্চ ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭

বাইডেন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নেই বিজেপি ঘেঁষা কেউ

প্রকাশিতঃ সোমবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২১, ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তার সরকারের উর্ধ্বতন পদে ২০ জন ভারতীয়-আমেরিকানকে বেছে নিয়েছেন। মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে এদের কারোরই আরএসএস বা বিজেপির সাথে দূরবর্তী কোন সম্পর্কও ছিল না। আর বিজেপি বা আরএসএস-সংশ্লিষ্টতা থাকায় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাটকে জায়গা দেয়া হয়নি নতুন প্রশাসনে।

রয়টার্স জানায়, বাইডেন-শিবিরের প্রচারে এসব ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেতা বেশ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাই তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা না দেয়ায় এনিয়ে উঠেছে আলোচনা-সমালোচনা।

ধর্মনিরপেক্ষ ভারতীয়-আমেরিকান সংগঠনগুলোর চাপে বাইডেন-হ্যারিসের দল আরএসএস-বিজেপি ঘেঁষা ব্যক্তিদের প্রশাসনের বাইরে রেখেছে। মূলত, হিন্দুত্ববিরোধী সংগঠনগুলোর চাপে আরএসএস-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরকারে রাখার বিষয়ে সতর্ক ডেমোক্র্যাটরা।

আর এ সংগঠনগুলোর অব্যাহত প্রচারে হিন্দুত্ব-সমর্থক কংগ্রেস প্রার্থী প্রেস্টন কুলকার্নি নির্বাচনে পরাজিত হন। পাশাপাশি, রাজনৈতিক গুরুত্ব হারান আরেক কংগ্রেস সদস্য তুলসি গাবার্ড।

বলা হচ্ছে, বাইডেন তাঁর প্রশাসনে পরিবারের এই সতীর্থদের দূরে রাখার ব্যাপারে খুব চিন্তা ভাবনা করেছেন। ট্রাম্পের ৪ বছর পর তিনি দেশটির ঐক্য, অন্তর্ভুক্তি এবং সহিষ্ণুতার রাজনীতিতে মনোনিবেশ করছেন। তাই তিনি গোঁড়ামিকে এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্টতাকে এখানে ধর্তব্যে নিয়েছেন।

সোনাল শাহ ও অমিত জানির আরএসএস সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রায় একডজন ইন্ডিয়ান-আমেরিকান সংগঠন গড়ে ওঠায় নতুন ডেমোক্র্যাট সরকারে তাদের রাখা হয়নি।

বাইডেনের দলে রয়েছেন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক উজরা জেয়া। ২০১৪ সালে নিউইয়র্কে গৃহকর্মীর ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানী খোবরাগাড়ের গ্রেফতারের ঘটনায় জেয়ার ভূমিকা ছিল। বাইডেন প্রশাসনে স্থান পেয়েছেন সামিরা ফাজিলি।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত সামিরা যুক্তরাষ্ট্রে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল, নাগরিকপঞ্জি বা কাশ্মীর লকডাউন ইস্যুতেও প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন তিনি।

সাবেক বারাক ওবামা প্রশাসনে থাকা সোনাল শাহ এবার জায়গা পাননি। বাইডেনের ‘ইউনিটি টাস্কফোর্স’ দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। কিন্তু তার বাবা আরএসএসের অঙ্গসংগঠন ‘একাল বিদ্যালয়’-এর প্রতিষ্ঠাতা। পাশাপাশি, তিনি ‘ওভারসিস ফ্রেন্ডস অব বিজেপি-ইউএসএ’-এর প্রধান।

সোনাল শাহ নিজে আবার এ সংগঠনটির জন্য অনুদান সংগ্রহ করেছিলেন। আরএসএস-বিজেপি সংশ্লিষ্টতার জেরে বাইডেনের প্রশাসনে স্থান না পাওয়া অপর উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি হচ্ছেন অমিত জানি। তিনি বাইডেন প্রচার-শিবিরের ‘মুসলিম আউটরিচ’ কর্মসূচির সমন্বয়ক ছিলেন। কিন্তু পরে জানা যায় তিনি তার পরিবারের সঙ্গে বিজেপি ও মোদির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে বিজেপি-আরএসএস সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন কাউকে যেন প্রশাসনে রাখা না হয়, সেজন্য ১৯টি ভারতীয়-আমেরিকান সংগঠন বাইডেনের কাছে চিঠি লিখেছে।