বুধবার, ৩ মার্চ ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭

পুলিশের হয়রানি থেকে নারী-শিশুরা পর্যন্ত বাদ যাচ্ছে না : শাহাদাত

প্রকাশিতঃ সোমবার, জানুয়ারি ২৫, ২০২১, ২:৩২ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে পুলিশের হয়রানি থেকে নারী ও শিশুরা পর্যন্ত বাদ যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন।

সোমবার সকালে নাসিমন ভবন নগর বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

শাহাদাত হোসেন বলেন, গতকাল রাত পর্যন্ত আমাদের ৪৯ নেতাকর্মীকে তুলে নিয়ে গেছে। আজ আমার কাছে আরও ২০ জনের লিস্ট আছে। আমরা এখন রিটার্নিং অফিসারের কাছে যাব। এই ২০ জনকে আজ ছাড়তে হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগের সাত দিন থেকে কিছু অতি উৎসাহী পুলিশ এখানে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে। এর সাথে যোগ হয়েছে মাস্তান, সন্ত্রাসী আর ইয়াবা ব্যবসায়ী। আমাদের নেতাকর্মীদের নামে এখন পর্যন্ত ৯টা মামলা হয়েছে। গত ১৯ তারিখ থেকে এই মামলা ও গ্রেপ্তার শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১ হাজার জনকে মামলার আসামি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, রোববার রাতে বাকলিয়া থানায় নেত্রী মুন্নি ও তার ১২ বছরের শিশুকে ধরে নিয়ে গেছে। নাগরিক ঐক্য পরিষদের বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল করিমকে রোববার রাতে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় চকবাজার থানা পুলিশ। সঙ্গে তার ছেলেকেও ধরে নিয়ে যায়। অথচ তার ছেলে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।

গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তি না দিলে বিএনপির সব কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন বলেও জানান শাহাদাত হোসেন।

ব্যালট প্যানেলের সুরক্ষা চেয়ে শাহাদাত হোসেন বলেন, আপনারা ইতোপূর্বে দেখেছেন যে ইভিএমে ভোট হলে একটি দলের সন্ত্রাসী, মাস্তানেরা ইভিএমের পাশে থেকে গার্ড দেয়। তাদের ইচ্ছামতো ভোট দিতে বলে। এজেন্ট বের করে দেয়।আমরা এর আগে নির্বাচন কমিশনের কাছে গেছিলাম। সেখানে আমরা নয় দফা দাবি দিয়েছি। তাতে আমরা সুস্পষ্ট বলেছি যে, যেহেতু এজেন্টরা নির্বাচনের অংশ, তাই ভোটের দিন তাদের যেন সুরক্ষা দেয়া হয়।

নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে বিএনপির প্রার্থী বলেন, ‘এখন ভোটের কালচার নষ্ট হয়ে গিয়েছে। মানুষের আর ভোটের ওপর আস্থা নেই, যার প্রেক্ষিতে গত মার্চ থেকে আমরা দ্বারে দ্বারে গিয়েছি। নির্বাচনবিমুখ মানুষদের আবার ভোট কেন্দ্রে আনার চেষ্টা করেছি। কিন্তু গত সাত দিন ধরে যে অবস্থা চলছে তাতে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা যায় না।’

এর আগে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো প্রসঙ্গে শাহাদাত হোসেন বলেন, আমাদের জানানো হয়েছে যে একজন সাব ইন্সপেক্টরকে ক্লোজ করা হয়েছে। তার নাম জামাল। আর যিনি ওসি আছেন তাকেও করা হবে বলে আমাদের জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের তালিকা নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান শাহাদাত।