টানা ৭ বার জয়ের অনন্য রেকর্ড মিন্টুর


আবছার রাফি : “মানুষ পরাজয়ের জন্য সৃষ্টি হয়নি। তাকে হয়তো ধ্বংস করা যায়, কিন্তু হারানো যায় না”- নোবেলজয়ী মার্কিন সাহিত্যিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে’র এ বিখ্যাত উক্তির আক্ষরিক অর্থেরই বাস্তব প্রতিফলন যেন একজন সাইয়্যেদ গোলাম হায়দার মিন্টু।

যিনি নিজ প্রচেষ্টায় তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন প্রচলিত রাজনীতির উত্তান-পতনের খেলায়।

বলা হয়ে থাকে, রাজনীতিকদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সবচেয়ে বড় প্যারামিটার ‘নির্বাচন’। আর এ প্যারামিটারে পরীক্ষা দিয়ে কেবল ‘পাশ’ শব্দটাকে কেউ বারবার একান্ত নিজের হস্তগত করে রাখতে পেরেছে এই নজির চট্টগ্রাম তো নেই- সারাদেশে আছে কি না সন্দেহ; যেখানে পাশ-ফেল অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িয়ে থাকে; সে জায়গায় একবার কাউন্সিল হিসেবে বিজয়ী হওয়ার পর আর পরাজয় দেখতে হয়নি চকবাজারবাসীর এ প্রিয় মুখকে।

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৬ নং চকবাজার ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে বিপুল ভোটে পূনরায় বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাইয়্যেদ গোলাম হায়দার মিন্টু।

চকবাজার ওয়ার্ডে ৪ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে দুই হাজার আট ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে সপ্তমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন মিন্টু।

ব্যাডমিন্টন র‍্যাকেট প্রতীক নিয়ে মিন্টু পেয়েছেন ২ হাজার ৭৫৫ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলোয়ার হোসেন রেডিও প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭শ’ ৪৭ ভোট।

এ নিয়ে টানা ৭ বার কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন সত্তোর্ধ্ব এ কাউন্সিলর।

এদিকে, চকবাজার এলাকার মানুষের কাছে তুমুল জনপ্রিয় একজন জনপ্রতিনিধি তো বটেই, ভোটের মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বীরাও যেন তাঁর প্রশংসা না করে পারেন না।

চকবাজার এলাকার একজন স্থায়ী বাসিন্দা একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘পর-হিতৈষী মিন্টু ভাইয়ের মতো মানুষকে কাউন্সিলর হিসেবে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। আমরণ উনাকে কাউন্সিলর হিসেবে যেন পাই সেই প্রার্থনা করছি আল্লাহর কাছে।’

এলাকার আরেক বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘সাইয়্যেদ গোলাম হায়দার মিন্টুর ভালো আচরণ ও সব সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুণেই লোকজন তাঁকে বারবার নির্বাচিত করছেন। তিনি শুধু নির্বাচনের সময় নয়, সারা বছরই লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন এবং তাঁদের কাছাকাছি থাকেন। এসব কারণে তিনি ভোটারদের দৃষ্টিতে সর্বদা একজন যোগ্য প্রার্থী।’

জানা যায়, ১৯৭৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৭টি নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রতি নির্বাচনেই জয়লাভ করেছেন তিনি। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির শাসনামলে আওয়ামী লীগ নির্বাচন বর্জন করায় সেই নির্বাচনে অংশ নেননি।

নির্লোভ-নির্মোহ জীবনযাপনে অব্যস্থ এ কাউন্সিলর ব্যক্তিজীবনে জনসেবায় এতই নিমগ্ন ছিলেন যে, জনসেবার কাজটি নিরবচ্ছিন্নভাবে করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংসারে জড়াননি তিনি। পরে ৪৮ বছর বয়সে প্রয়াত সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুরোধে সংসারজীবন শুরু করেন। তাঁর একমাত্র সন্তান এবার এসএসসি পাস করেননি।

একুশে পত্রিকাকে তিনি বলেন, জনসেবার কাজটি করতে পারছেন বলেই জনগণ পেশিশক্তি-টাকার খেলার বিপরীতে বারে বারে তাকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন। এবারও করেছেন। জনগণই আমার শক্তি, আমার পোস্টার, আমার ইশতেহার।’

একবার কাউন্সিলর হলেই অনেকে টাকা-পয়সা, ধন-সম্পত্তির মালিক হওয়া যায়। আপনি এর আগে ৬ বার কাউন্সিলর হয়ে কী করলেন?- এমন প্রশ্নের জবাবে মিন্টু বলেন, ‘আমার কিছু করা লাগে না। করপোরেশন থেকে মাসে ৩৫ হাজার টাকা সম্মানি পাই, তিনটি দোকান ঘর আছে, সেখান থেকে কিছু লাভ আসে। তাতেই আমার দিব্যি চলে যায়। আমার গাড়ি নেই, বাড়ি নেই, বিলাসিতা নেই। কাজেই খুব বেশি টাকা লাগে না আমার।’

টানা সপ্তমবারের মতো অপরাজিত থাকার আনন্দ-অনভূতি জানতে চাইলে সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি অনেক খুশি সপ্তমবারের মতো নির্বাচিত হওয়ায়। চকবাজারারবাসীর কাছে আমি চিরঋণী। অতীতের ন্যায় এলাকাবাসীর সুঃখে-দুঃখে সবার আগে এগিয়ে আসব, ইনশাআল্লাহ’।