
চট্টগ্রাম : আনোয়ারা উপজেলায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক ঠিকাদারকে তুলে নিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ৬ সদস্যের প্রত্যেককে ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল্লাহ কায়সার।
আজ মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আদালতে শুনানি শেষে তিনি এ আদেশ দেন।
এর আগে আনোয়ারা থানা পুলিশ ৬ পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে প্রত্যেকের ৭ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। বিষয়টি একুশে পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পরিদর্শক হুমায়ূন কবির।
ছয় পুলিশ সদস্য হলেন- সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীরের বডিগার্ড মোরশেদ বিল্লাহ, নগর পুলিশের উপ কমিশনার গোয়েন্দা (পশ্চিম ও বন্দর) মনজুর মোরশেদের বডিগার্ড মো. মাসুদ, দামপাড়া রিজার্ভ ফোর্স অফিসে কর্মরত শাকিল খান ও এস্কান্দর হোসেন, সিএমপির সহকারী কমিশনার কর্ণফুলী কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর মনিরুল ইসলাম ও ডিবিতে (উত্তর) কর্মরত আবদুল নবী। তারা সবাই কনস্টেবল পদে কর্মরত।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাত দুইটার দিকে আনোয়ারা বৈরাগ ইউনিয়নের পূর্ব বৈরাগ এলাকার শফি তালুকদারের বাড়ি থেকে ওই ঠিকাদারকে তুলে আনার ঘটনা ঘটে।
গত শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগী ঠিকাদার আবদুল মান্নান (৩০) আনোয়ারা থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং ঘটনার সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের সংশ্লিষ্টতা পায়। গত সোমবার ঘটনাটি জানাজানি হলে নগরজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
মামলার বাদী মো. আব্দুল মান্নান এজাহারে নিজেকে একজন ঠিকাদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এজাহারে বাদী জানান, গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে কাজ শেষে গ্রামের বাড়িতে পরিবারসহ ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। আনুমানিক রাত দুইটার দিকে কয়েকজন মানুষ তার ঘরের দরজায় কড়া নাড়েন এবং তার নাম ধরে ডেকে ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য বলে। ডাকাডাকিতে পরিবারের সদস্যদের ঘুম ভেঙে যায় এবং মান্নান ঘরের দরজা খুলতেই দুই জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাকে ধরে ফেলে। তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে ঘর থেকে বের করে ২০০ ফুট দূরে নিয়ে যায়। সেখানে দুষ্কৃতদের মোটরসাইকেলে অন্যরা অবস্থান করছিল।
পরবর্তীতে তাকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে চারটি মোটরসাইকেল আটজন আনোয়ারা সদরের দিকে যেতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা পটিয়া উপজেলার ভেল্লাপাড়া ব্রিজের পূর্বপাশে কৈয়গ্রাম রাস্তার মাথা এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে নিয়ে যায় ঠিকাদারকে। ঘটনার সময় একজনের গায়ে ডিবি জ্যাকেট ছিল। আটজনের মধ্যে ছয়জন পুলিশ বলে সূত্র জানায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সেখানে তাকে নানান ভয়-ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা। একইসঙ্গে আত্মীয়-স্বজনকে টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দিতে থাকে। এ ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে জানালে তাকে গুলি করার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে ফোনে আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে এক লাখ ৮০ হাজার ৫০০ টাকা তাদের হাতে দিলে ভোর পাঁচটার দিকে তাকে ছেড়ে দেয়। এরপর মোটরসাইকেলযোগে ওই আট জন পটিয়ার দিকে পালিয়ে যায় বলে জানায় স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র। চারটি মোটরসাইকেলের মধ্যে একটি ছিল লাল রঙের পালসার ব্রান্ডের এবং বাকি তিনটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন।
এ ঘটনায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি আনোয়ারা থানায় অভিযোগ করা হলে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ ওমর ঘটনার তদন্ত শুরু করেন।
সিএমপির কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, ‘অপরাধের সঙ্গে যে জড়িত হোক না কেন কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। সে পুলিশ সদস্য হলেও, আইন সবার জন্য সমান। যারাই অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবেই।’
কমিশনার আরও জানান, তাদের সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বিভাগীয় মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন।
এর আগে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর অস্ত্র বিক্রি করার সময় চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের কনস্টেবল স্বরূপ বড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এর একদিন আগে সীতাকুণ্ডে মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে এক ড্রাইভারের কাছ থেকে দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার এসআই সাইফুল ইসলাম ও কনস্টেবল সাইফুল আলম।
একুশে/এমআর/এটি
