আদালত প্রতিবেদক : বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) অনুুষ্ঠিত চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে আইনজীবীরা ‘টোকেন’ বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, সোনালী ব্যাংক ভবনের পাঁচতলায় আইনজীবী অডিটরিয়ামে ভোট গ্রহণ হয়। সকাল ৯ টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত চার হাজারের বেশি আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। কিন্তু পাঁচ তলায় বুথে গিয়ে ভোট দেয়ার আগে নিচতলায় ‘টোকেন’ সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করায় তারা পদে পদে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। ভিড়-ভাট্টা ঠেলে অপ্রয়োজনীয় টোকেন সংগ্রহ করতে গিয়ে নারী আইনজীবীদের কেউ কেউ ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একজন সিনিয়র আইনজীবী বলেন, ‘এর আগে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সময় টোকেন সিস্টেম ছিল না। আজ ভোট দিতে গিয়ে পদে পদে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি। অতীতে ভোটার নম্বর সঙ্গে নিয়ে সরাসরি বুথে গিয়ে নির্ঝন্জাটভাবে ভোট দিতে পেরেছি। এবারের নির্বাচনে টোকেন সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করায় একসঙ্গে অনেক ভোটার সেটি সংগ্রহ করার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছিলেন। সে সুযোগে বেশ কয়েকজন নারী ভোটার হেনস্থা, হয়রানির শিকার হন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার সাইফুদ্দিন খালেদ আজ সন্ধ্যায় একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। হয়রানিমুক্ত পরিবেশে ভোট দিতে এবার টোকেন সিস্টেম চালু করা হয়েছিল। তবে দুপুরের দিকে ভোটারদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় টোকেন সিস্টেম বাতিল করে দেওয়া হয়।’
আজ বুধবার রাত ৮টার দিকে এ রিপোর্ট লেখার সময় ভোট গণনা চলছিল। নির্বাচনে মোট প্রার্থী ছিল ৪০ জন। আওয়ামী লীগ সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ, বিএনপিপন্থী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদ পূর্ণ প্যানেলে নির্বাচন করেছে।
দল নিরপেক্ষ আইনজীবীদের সংগঠন সমমনা আইনজীবী সংসদ নির্বাচন করছে একটি পদে। সাধারণ আইনজীবী কল্যাণ পরিষদ থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন একজন।
