
একুশে প্রতিবেদক : মাতাল অবস্থায় প্রমার বসন্তবরণ অনুষ্ঠান বন্ধ করে জনরোষের শিকার হয়েছেন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ওয়েলফেয়ার পরিদর্শক রুবায়েত হোসেন। রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে অবশ্য ক্ষমা চেয়ে রুদ্ররোষ থেকে তিনি মুুুক্তি পান।
জানা যায়, পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের অনুমতি সাপেক্ষে শিরিষতলায় রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯ টা থেকে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রমা আবৃত্তি সংগঠন। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন হচ্ছিল। এসময় রুবায়েত নামের ওই লোক হঠাৎ এসে সাউন্ড সিস্টেম বন্ধ করে দিয়ে নাচ বন্ধ করতে বাধ্য করেন।
এসময় দুটি বেসরকারি টেলিভিশন অনুষ্ঠানটি লাইভ সম্প্রচার করছিল। সংস্কৃতির উপর আকস্মিক এই থাবায় হতবাক হয়ে যান উপস্থিত সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমকর্মীরা। এ পরিস্থিতিতে সংস্কৃতিকর্মী ও সংগঠক মো. সাজ্জাত হোসেন উক্ত রুবাইয়েতকে চ্যালেঞ্জ করেন।
এ প্রসঙ্গে সাজ্জাত হোসেন একুশে পত্রিকাকে বলেন, যখন লোকটার সাথে কথা বলছিলাম তখন তার মুখ থেকে মদের দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। কথাবার্তাও অসংলগ্ন। এবার আমি তাকে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি ভড়কে যান। এসময় বিক্ষুব্ধ লোকজন তাকে ঘিরে মারতে উদ্যত হলে এ পর্যায়ে তিনি আমার ফলোয়ার, রেলওয়ের সিবিএ নেতা এসব বলে নিজেকে রক্ষার আকুতি জানান। পরে ক্ষমা চেয়ে রুদ্ররোষ পরিস্থিতি থেকে তিনি মুক্তি পান। এরপর পুনরায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। -বলেন সাজ্জাত।
এ প্রসঙ্গে প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের সভাপতি রাশেদ হাসান বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও আমরা বসন্তবরণের অনুষ্ঠান আয়োজন করি। নিয়মমাফিক আমরা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে শিরীষতলায় অনুমতি নিই। তারা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান করতে অনুমতি দেয়। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর সাথে সাথেই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এসে বাধা দেয়।’
তবে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সিনিয়র ওয়েলফেয়ার অফিসার মো. আলী বলেন, ‘অনুমতির শর্ত ভঙ্গ করায় বাধা প্রদান করা হয়। অনুমতির সময় উচ্চস্বরে গান-বাজনা করা যাবে না বলে শর্ত দেওয়া হয়। কিন্তু তারা উচ্চস্বরে গান-বাজনা করে। এজন্য বাধা দেওয়া হয়েছে।’
