বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল করিমের ইন্তেকাল, তথ্যমন্ত্রীর শোক

চট্টগ্রাম : রাঙ্গুনিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বর্ষীয়ান সমাজ সেবক আবদুল করিম আর নেই। সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১ টায় আকস্মিক হ্রদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়ার নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে…রাজেউন)।

তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে, দুই কন্যা, পুত্রবধূ, জামাতা, নাতি-নাতনি, আত্মীয়স্বজনসহ বহু গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল করিম ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত সদালাপী, বন্ধুবৎসল ও সর্বজনগ্রাহ্য ব্যক্তি ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে পরিবারের বাধা সত্ত্বেও দেশমাতৃকায় অংশ নিতে পায়ে হেঁটে কুমিল্লা সীমান্ত হয়ে ভারতের দেমাগ্রিতে ট্রেনিংয়ে অংশ নেন তিনি। ট্রেনিং শেষে দেশকে পাকহানাদারমুক্ত করতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি সম্মুখ সমরে অংশ নেন এবং বহু দুঃসাহসিক অপারেশন পরিচালনা করেন। তিনি দীর্ঘদিন পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ছিলেন। এসময় জনকল্যাণের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি এলাকায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আবদুল করিম একুশে পত্রিকার সম্পাদক চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আজাদ তালুকদারের জেঠাতো ভাই।

এদিকে, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল করিমের আকস্মিক মৃত্যুতে রাঙ্গুনিয়ার তিন তিনবারের সাংসদ, তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ গভীর শোক ও তার শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনাা জানিয়েছেন।

সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে একুশে পত্রিকার সাথে আলাপকালে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী, দেশমাতৃকার শ্রেষ্ঠ সন্তান আবদুল করিমের মৃত্যুতে জাতি তার শ্রেষ্ঠ ও সাহসী সন্তানকে হারালো। তাঁর মৃত্যুতে দেশ ও জাতির অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।