চট্টগ্রামে নিষ্প্রভ সময় কাটিয়েছেন কানাডা থেকে আসা সেই ব্যবসায়ী তায়বুরের স্ত্রী

একুশে প্রতিবেদক : ব্যাংকের টাকা মেরে কানাডায় সপরিবারে পালিয়ে থাকা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী এএনএম তায়েবুর রশিদের স্ত্রী মামাত ভাইয়ের বিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে অনেকটা নিষ্প্রভ সময় কাটিয়েছেন।

তিনদিনব্যাপী বিয়ে অনুষ্ঠানের একটি অনুষ্ঠানে কেবল অংশ নিয়েছেন তিনি। স্বজন-শুভার্থীরা নেচে-গেয়ে অনুষ্ঠানে উৎসব করলেও তিনি ছিলেন অপেক্ষাকৃত নিরব। বরং সবকিছু থেকে নিজেকে আড়াল করার একটা প্রবণতা লক্ষনীয় ছিল তার মাঝে। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

এর আগে গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ‘সপরিবারে কানাডায় পালানো ব্যবসায়ী তায়েবুরের স্ত্রী কঠোর গোপনীয়তায় চট্টগ্রামে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে সংশ্লিষ্টদের মাঝে তোলপাড় শুরু হয়। এরপর থেকেই  বর্ণাঢ্য বিয়ে অনুষ্ঠান থেকে কার্যত নিজেকে গুটিয়ে নেন তৈয়বুরের স্ত্রী আসমা কামরুন চুমকি। শুক্রবার রাতে রিমা কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ম রক্ষার জন্য মামাত ভাই শৌখিকের বিয়েতে অংশ নিলেও পুরোটা সময় তিনি ছিলেন মনমরা।

গত বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি ১৪৮ নম্বর ফ্লাইটে দুবাই থেকে একাই তিনি চট্টগ্রামে আসেন। উঠেন নগরের ১৫-১৬ জাকির হোসেন রোডে মামার বাসা ডা. মাজেদের ‘টুইন হাউস’ নামের বাড়িতে। বিষয়টি আজ শনিবার সন্ধ্যায় একুশে পত্রিকাকে নিশ্চিত করেন ‘টুইন হাউস’ এর দারোয়ান কাউসার।

সূত্র জানায়, আসমা কামরুন বৃহস্পতিবার বিকালে ‘টুইন হাউস’র অদূরে সুপার শপ খুলশি মাটে কেনাকাটা করেন। শুক্রবার রাতে নগরের এস এস খালেদ রোডে রীমা কমিউনিটি সেন্টারে মামাতো ভাই শৌখিকের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি।  আজ রাতে লেডিস ক্লাবে আয়োজিত শৌখিকের বৌভাত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার কথা ছিল। কিন্তু তিনি যাননি সেখানে।

টুইন হাউসের এক নিরাপত্তা কর্মী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মামাতো ভাই শৌখিকের গায়েহলুদ অনুষ্ঠানে অন্যানা অতিথিরা নেচে গেয়ে আনন্দে মেতে উঠলেও আসমা কামরুন নিজেকে আড়ালে রাখার চেষ্টা করেন। রাতভর মামা ডা. মাজেদের বাসার ভেতরেই ছিলেন। সেদিন তাকে নিয়ে একুশে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা করেন। অনেকেই একুশে পত্রিকাকে দেখে নেওয়ারও হুমকি দেন।

আসমার স্বামী তায়েবুর রশিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি কয়েকবছর আগে এবি ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা মেরে দিয়ে পরিবার নিয়ে কানাডায় আয়েশি জীবন যাপন করছেন৷ লুটের টাকায় কানাডা ছাড়াও দুবাইতে আছে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য।

জানা গেছে, গত বছর দুদক মামলা দায়েরের আগে কানাডায় পালিয়ে যান তায়েবুর রশিদ। শৌখিক মাজেদের বিয়েতে তায়েবুর নিজে না এলেও তার স্ত্রী আসমা কামরুন দুবাই থেকে একাই আসেন।

অর্থপাচার করে দুবাই ও কানাডায় বিত্ত ভৈভব গড়ে তুলেন তায়েবুর ও তার স্ত্রী আসমা। খুলশিতেও আছে তাদের একাধিক অভিজাত বাড়ি-ফ্ল্যাট ও গাড়ি। কানাডা ও দুবাইতে আছে তাদের বিলাসবহুল বাড়ি।

গত বছর ২৬ নভেম্বর এবি ব্যাংকের ২৩৬ কোটি টাকা বিদেশে পাচার ও আত্মসাতের অভিযোগে ব্যবসায়ী এএনএম তায়েবুর রশিদ এবং ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) ২১ জন সাবেক-বর্তমান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

একুশে/এমআর/এটি