শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

এক দুর্ঘটনায় সাজানো সংসার তছনছ

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ

নাটোর : নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দুই ব্যাংকার বোনের একমাত্র ভাই- আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মুন্না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে লোক প্রশাসন বিভাগে অনার্স ৩য় বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন তিনি। তাদের বাবা-মা দুজনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় গ্রামের বাড়ি নাটোরের বাগাতিপাড়ার সোনাপুর গ্রামে অবস্থান করছিলেন মুন্না। গতকাল বুধবার বিকেল ৩টার দিকে বাড়ি থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরের মাস্টারপাড়ায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। এরপর তাকে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।

সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার ভোররাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে নিভে যায় মুন্নার প্রাণ। তাকে হারিয়ে বিলাপ যেন থামছে না বাবা-মা ও বোনদের। আনন্দে ভরপুর তাদের সোনাপুরের বাড়িটিতে এখন শুধুই বিষাদের ছায়া।

মুন্নার দুই বোন উম্মে মৌসুমি ও উম্মে মেহরীন পেশায় ব্যাংকার। আরেক বোন উম্মে মুসলিমা সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার পদে কর্মরত। উম্মে মুসলিমার স্বামী তৌফিকুল ইসলাম সুনামগঞ্জ জেলায় সহকারী জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, নাটোর থেকে মুন্নার মায়ের চাটমোহর যাওয়ার কথা ছিল। মায়ের সাথে চাটমোহর যেতে সোনাপুরের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে রওনা দিয়েছিলেন মুন্না। পথে আরেকটি গাড়িকে পাশ কাটাতে গিয়ে স্লিপ করে সড়কের পাশের সুপারি গাছের সাথে ধাক্কা লেগে গুরুতর আহন হন মুন্না। আহত হওয়ার পর তিনি চিকিৎসক ও স্বজনদের বলেছিলেন, তার পেটে তীব্র ব্যাথা করছে।

মুন্নার বোন মুসলিমার স্বামী সহকারী জজ তৌফিকুল ইসলাম একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘আমার স্ত্রীর বাবার বাড়িতে আনন্দের কোনো কমতি ছিল না। মুন্না মেধাবী ছাত্র ছিল। তার স্বপ্ন ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় সেই স্বপ্নটাও নিভে গেল। ওটা তো দুর্ঘটনা নয়, আমাদের স্বপ্নকে চুরমার করে দেওয়ার যন্ত্রণা।’

তৌফিকুল ইসলামের মামা একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদার বলেন, ‘তৌফিক ও মুসলিমার বিয়েতে অংশ নিতে কিছুদিন আগে আমরা নাটোরের সোনাপুর গিয়েছিলাম। সে সময় মুন্না আমাদেরকে খুব মায়া লাগিয়েছিল। নরম, শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল। তাকে বাঁচানোর জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় মুন্না আমাদের ছেড়ে গেছেন। তাকে নিয়ে আর কিছু বলার ভাষা আমার নেই। তবে তার সাথে পরিচয় না হলে আমি হয়তো ভালো থাকতে পারতাম।’