শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

ডিআইজি আমেনা বেগম যখন সফল সংসারী

প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২১, ৪:৪১ অপরাহ্ণ


একুশে প্রতিবেদক : একজন চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা ও যুদ্ধরত নারীদের আইকন হিসেবে আমেনা বেগমকে কমবেশি সবাই জানেন, চিনেন। কিন্তু সেই মানুষটা স্ত্রী হিসেবে কেমন, মা হিসেবে কেমন তা আমরা জানি না।

অমর একুশে উপলক্ষে একুশে পত্রিকার আড্ডায় অংশ নিয়ে সেই কথাই জানালেন স্বামী সানিয়াত লুৎফী। সৃজনশীল ব্যবসায়ী ও নান্দনিক চিন্তার মানুষটি জানালেন স্ত্রী ও মা হিসেবেও আমেনা বেগমের শ্রেষ্ঠত্বের কথা।

আমেনা বেগম চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ছিলেন। সম্প্রতি ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেয়ে তিনি পুলিশের বিশেষ শাখার সদর দপ্তরে বদলি হয়েছেন।

গত রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে জামালখান একুশে পত্রিকা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একুশে আড্ডায় সহধর্মিণী আমেনা বেগমের পুলিশে যোগদানের গল্প শোনাতে গিয়ে সানিয়াত লুৎফী বলেন, ‘১৫ ও ১৭ তম বিসিএস পরীক্ষায় আমেনা অংশ নিলেও ভাইভা ভালো না হওয়ায় আগাতে পারেনি। তবে ১৮ তম বিসিএস এ আমেনা ভালো করে। ১৯৮৪ সালে প্রথম চারজন নারী পুলিশ নেওয়ার অনেক বছর পর বিসিএস-এ পুলিশে নারীদের উন্মুক্ত অংশগ্রহণের একটা সুযোগ দেওয়া হয়। তখন আমেনা সেটা প্রথম পছন্দ হিসেবে চিহ্নিত করে। তখন তার সাথে আমার জানাশোনা ছিল। সে আমাকে বিষয়টি জানায়। আমি বললাম দাও, ভালোই হবে।’

সানিয়াত বলেন, ‘১৮ তম বিসিএসে আমেনা পুলিশে টিকেছে। কিন্তু ট্রেনিংয়ে যাওয়ার আগে আমেনা আমাকে বলেছিল একটা কমিটমেন্টে চলে আসতে। আমি তখন কিছুই বুঝতে পারছিলাম না, তাই বলেছিলাম আগে তুমি ট্রেনিং শেষ করে আসো, তারপর দেখা যাবে। ট্রেনিং শেষে আমেনা ফিরে আসার পর পারিবারিকভাবে আমাদের বিয়ে হয়।’

তিনি বলেন, ‘অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করে আমি কীভাবে আমেনার সাথে মানিয়ে চলি, পুলিশের এত বড় দায়িত্ব সামলানোর পর আমেনা কীভাবে পরিবারের দেখাশোনা করে? উত্তরে আমি বলি, আমেনাকে যদি আমি সফল মানুষ হিসেবে দেখতে চাই, তাহলে তো আমার কিছু বিষয় মানিয়ে চলতে হবে। তার কাজের গুরুত্ব আমি বুঝি, তাই অনেক কিছু আমাকে ছাড় দিতে হয়। আর এসব আমি খুশি মনেই করেছি।’

সানিয়াত বলেন, ‘২০০৫ সালে ইউএন থেকে আমেনার ডাক আসে, যেখানে ১৫৯ জন পুরুষের মাঝে আমেনা কেবল একজনই মহিলা। তখন সে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল যাবে কি যাবে না। বললাম, আমার কোনো আপত্তি নাই। এটা সম্পূর্ণ তোমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমার কখনো এসব নিয়ে কিছুই মনে হয়নি। আমি চেষ্টা করেছি তাকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে। কারণ সে দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করে। দেশের জন্য কজন কাজ করতে পারে!’

তিনি বলেন, ‘এতো ব্যস্ততার পরও আমেনা পরিবারকে যথাসম্ভব সময় দেওয়ার চেষ্টা করে। পরিবারের সব সদস্যদের খেয়াল রাখার পাশাপাশি নিজের ভাই, কাজিনদেরও খেয়াল রাখে। অবসরে সে বাসায় থাকতে এতো পছন্দ করে যে, তাকে কোথাও ছুটি কাটানোর কথা বললে সে বলে আমি বাসায় থাকবো, সবার সাথে সময় কাটাবো। সে আমাদের চা বানিয়ে খাওয়ায়, কখনো রান্না করে খাওয়ায়। কার কোন সময়ে কী ওষুধ খেতে হবে সব কিছু সে জানে এবং বাতলে দেয়। এটাই আমেনা।’ যোগ করেন সানিয়াত লুৎফী।

একুশে আড্ডায় অন্যান্যদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও কর কমিশনার বাদল সৈয়দ, চট্টগ্রামের অতিথি খ্যাতিমান ফ্যাশন ডিজাইনার খাদিজা রহমান, একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদার, চসিকের প্রাক্তন কমিশনার ও মানবাধিকারকর্মী এডভোকেট রেহানা বেগম রানু, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া, প্রাচীন জিনিসের সৌখিন সংগ্রাহক ও শিল্পোদ্যোক্তা তারেক জুয়েল, চট্টগ্রাম জুনিয়র চেম্বারের প্রেসিডেন্ট টিপু সুলতান সিকদার, চট্টগ্রাম আইটি ফেয়ারের সত্ত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর আলম, ডেইলি স্টারের চট্টগ্রাম করসপনডেন্ট মোস্তফা ইউসুফ, লেখক-সাংবাদিক ফয়সাল করিম, জাতীয় বিতার্কিক ইশরাত জাহান ইমা, হিডেন হার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সুনেহরা জহুরা ইসলাম প্রমুখ।