শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

একুশে পত্রিকা কার্যালয় পরিদর্শনে মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১, ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ


চট্টগ্রাম : একুশে পত্রিকা কার্যালয় পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটির নবনির্বাচিত মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় নগরের জামালখান একুশে পত্রিকা কার্যালয়ে আসেন তিনি। এ সময় তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান একুশে পত্রিকা সম্পাদক আজাদ তালুকদার ও নির্বাহী সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেহানা বেগম রানু।

পরে একুশে পত্রিকার সংবাদকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। এসময় একুশে পত্রিকায় প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদের প্রশংসা করে মেয়র বলেন, ‘একুশে পত্রিকা আমার নিয়মিত পড়া হয়। আপনাদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনা আমার খুব ভালো লাগে। আর এই বস্তুনিষ্ঠ সংবাদিকতা একুশে পত্রিকাকে অন্যান্য সংবাদপত্র থেকে এগিয়ে রেখেছে।’

পরে একুশে পত্রিকাকে দীর্ঘ ‘সাক্ষাৎকার’ দেন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী; যা একুশে পত্রিকার ফেসবুক পেইজ ও ইউটিউবে আজকে প্রকাশ করা হবে।

সাক্ষাৎকারে চট্টগ্রামকে নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়েছেন মেয়র রেজাউল করিম। শুরুতে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে আলোচনায় না থাকা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি।

রেজাউল করিম বলেন, মেয়র হওয়ার জন্য বাসনা ছিল, কিন্তু প্রতিযোগিতা ছিল না। আমার রাজনৈতিক জীবনের শেষপ্রান্তে এসে নেত্রী আমাকে মূল্যায়ন করেছেন, এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। চট্টগ্রামবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীনে যে সমন্বয় সভা হয় সেটিকে কার্যকর করতে ‘কর্তৃত্ব’ চেয়েছেন মেয়র রেজাউল করিম। তিনি বলেন, চট্টগ্রামবাসীর দুর্ভোগ কমানোর স্বার্থে সমন্বয় সভা কার্যকর করতে হবে। এজন্য সব সেবা সংস্থার ওপর মেয়রকে কর্তৃত্ব দিতে হবে। যাতে তারা জবাবদিহী করতে বাধ্য হয়। কারণ সবকিছুর দোষ মেয়রের ওপর আসে। কর্তৃত্ব থাকলে মেয়রের পক্ষে কাজ দ্রুত করা সম্ভব হবে। যে চিন্তা চেতনা নিয়ে মেয়র কাজ করতে চান সেটা সফল হবে।’

চট্টগ্রামকে নান্দনিক শহর ও মডেল শহর হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করতে চান জানিয়ে মেয়র বলেন, এখন খেলার মাঠ তেমন নেই, বিনোদনের তেমন ব্যবস্থা নেই। এজন্য তরুণরা বিপথে যাচ্ছে। তাদেরকে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা গেলে অপরাধ কমে আসবে। এজন্য উন্মুক্ত মঞ্চ, সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স করা যায়।

‘নগরে সরকারি অনেক খাস জায়গা আছে। সেখানে ছোট ছোট খেলার মাঠ করা গেলে তরুণদের মানসিক উন্নতিহবে, সৃজনশীলতা বিকশিত হবে, কাজে লাগাতে পারবে। এসব কাজে চট্টগ্রামের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে অনেক সহজ হবে।’
তিনি বলেন, জামালখানের একজন বাসিন্দা নগরের সমস্যাগুলো একটি কাগজে তুলে ধরে আমার কার্যালয়ে এসে দিয়ে গেছেন। সেখানে তিনি জলাবদ্ধতার কারণগুলো তুলে ধরেছেন। নগরবাসী যে তাদের নাগরিক দায়িত্ব পালন করছেন না সেটাও তিনি লিখেছেন। এভাবে সমস্যা তুলে ধরে পরামর্শ দেয়ার কাজটি আমার খুবই ভালো লেগেছে।

‘অনেকেই আছেন ময়লা-আবর্জনা পলিথিনে ভরে ড্রেনে ফেলছেন। এতে ড্রেনে ময়লা জমে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। নিজেই কষ্ট পান। ময়লা যদি নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলা হতো তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান এমনিতেই হয়ে যেত। এটা আপনার শহর, নিজের স্বার্থে এটাকে পরিচ্ছন্ন রাখা আপনার দায়িত্ব- এভাবে চিন্তা করতে হবে।’

দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণীর মানুষের জন্য মেয়রের দরজা খোলা জানিয়ে রেজাউল করিম বলেন, সারা জীবন আমি মানুষের পাশে ছিলাম। এখন মেয়র হয়েছি, মানুষ আমার কাছে আসতে পারবে না সেটা কখনো হবে না।

অন্যায় অনৈতিক কাজে কখনো ক্ষমতাকে ব্যবহার করবেন না জানিয়ে মেয়র বলেন, আমার মাসল পাওয়ারের প্রয়োজন নেই। আমি হঠাৎ করে এ অবস্থানে আসিনি। আমি রাজনীতি করে এ পর্যায়ে এসেছি। অতীতে চাইলে নৈতিক বিচ্যুতি ঘটিয়ে অনেক কিছু করতে পারতাম, কিন্তু করিনি। মেয়র হওয়ার পরও আমি অনৈতিক ব্যক্তিকে প্রাধান্য দেব না। কেউ আমার সরলতাকে ব্যবহার করে মাথায় কাঠাল ভেঙে খেতে চাইলে সেটা ভুল। আমি মনোনয়ন পাওয়ার পরই সেটা জানিয়ে দিয়েছি। সকল লোভ লালসার উর্ধ্বে উঠে আমি দায়িত্ব পালন করবো।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন একুশে পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার শরীফুল রুকন, স্টাফ রিপোর্টার আবছার রাফি, স্টাফ রিপোর্টার জোবায়েদ ইবনে শাহাদত, গ্রাফিক্স ডিজাইনার ইলিয়াস শাহ, মার্কেটিং স্টাফ মোক্তার হোসেন ও অফিস সহকারী খুকী নাথ প্রমুখ।