শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

বাংলার সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যে বৌদ্ধদের অবদান রয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২১, ৭:০৮ অপরাহ্ণ


পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : বাংলার সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যে বৌদ্ধদের অবদান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

আজ শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশের বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু দ্বাদশ সংঘরাজ ড. ধর্মসেন মহাস্থবিরের জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। যার সুফল আমরা ইতিমধ্যে পাওয়া শুরু করেছি। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের যে স্লোগান দিই, যেটা আমরা বুকে ধারণ করি, তার অস্তিত্ব আমরা দেখতে পাচ্ছি পটিয়াতে। এ পটিয়াতে জন্ম নিয়েছে ক্ষণজন্মা বহু মনীষী। ১৯২৮ সালে পটিয়ার উনাইনপুরা গ্রামের পবিত্র ভূমিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বাংলাদেশের বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু দ্বাদশ সংঘরাজ ড. ধর্মসেন মহাস্থবির।

তিনি বলেন, বৌদ্ধরা বাংলাদেশে আধিবাসী। সুদীর্ঘকাল থেকে বাংলার সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যে বৌদ্ধদের অবদান রয়েছে। এ দেশের মাটি ও মানুষের সাথে মিশে আছে হাজার বছরের বৌদ্ধ ঐতিহ্য। দেশের বৌদ্ধরা বৃহত্তম জনগোষ্ঠীর সাথে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করে আসছে।

পটিয়া উপজেলার উনাইনপুরা গ্রামে ড. ধর্মসেন মহাস্থবির জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে ত্রয়োদশ সংঘরাজ জ্ঞানশ্রী মহাস্থবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, জাতীয় সংসদের হুইপ ও পটিয়ার সাংসদ সামশুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান, চট্টগ্রামের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার রাশিদুল হক, সিএমপির কমিশনার আবু সালেহ তানভীর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অরূপ বড়ুয়া, পটিয়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ড. সংঘপ্রিয় মহাথেরো, পৌরসভার মেয়র হারুনুর রশিদ ও নবনির্বাচিত মেয়র আইয়ুব বাবুল প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গতবছরের ৩১ মার্চ বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু দ্বাদশ সংঘরাজ ড. ধর্মসেন মহাস্থবির বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে নির্বান পথের অভিযাত্রী হন। মহান এ ব্যক্তির জন্মস্থান পটিয়া উপজেলার উনাইনপুরা গ্রামে লংকারামে যথাযোগ্য মর্যাদায় গত ১২ মাস সংরক্ষিত করা হয় তাঁর মরদেহ। অনুষ্ঠান শেষে সংঘরাজ ড. ধর্মসেন মহাস্থবিরের মৃতদেহ আন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

এদিকে, উক্ত অনুষ্ঠানে সারাদেশের ২২০ জন ভিক্ষুর সমর্থনে চট্টগ্রাম নগরের নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ সংঘরাজ জ্ঞানশ্রী মহাস্থবিরকে ক্রয়োদশ সংঘরাজ নির্বাচিত করা হয়। বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ গুরু দ্বাদশ সংঘরাজ ড. ধর্মসেন মহাস্থবির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উপলক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ও আজ শুক্রবার দুইদিনব্যাপী ব্যাপক আয়োজন করা হয়।