শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

মোবাইল ফোন ব্যবহারে পুলিশ সদস্যদের যেসব নির্দেশনা মানতে হবে

প্রকাশিতঃ শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২১, ৮:১৩ অপরাহ্ণ


ঢাকা : ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, ইমো, ইন্সটাগ্রাম ও টুইটার ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদেরকে অন্যজনের নামে নিবন্ধন করা মোবাইল ফোনের সিম কার্ড ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সম্প্রতি, পৃথক আদেশে এসব নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। একটি আদেশে পুলিশ সদস্যদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার নির্দেশিকা অনুসরণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি আদেশ চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কতৃপক্ষ পেয়েছে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা আজ রবিবার একুশে পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পুলিশ সদস্যরস দায়িত্ব পালনকালে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা এবং ডিউটিরত অবস্থায় গেমস খেলা, ভিডিও দেখা, গান শোনা, ইউটিউব দেখা ও ফেসবুক চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. হায়দার আলী খান গণমাধ্যমকে বলেন, “দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন কালে পুলিশ সদস্যদের অনেকেই ইউটিউব দেখে বা ফেসবুক চালানো কিম্বা গান শুনে সময় পার করতে চান। এতে অনেক সময় তাদের মনঃসংযোগ অন্যদিকে চলে যায়। তাই গান শোনা, ভিডিও দেখা ও ফেসবুক চালানো থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

‘অন্যজনের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা শাস্তিমূলক অপরাধ। তাই সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পুলিশ যাতে এসব না করে সেজন্য এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো পুলিশ সদস্যের নিজ নামে নিবন্ধিত একাধিক সিম ব্যবহারে সমস্যা নেই’ বলেন পুলিশের অন্যতম শীর্ষ এ কর্মকর্তা।

সম্প্রতি জারি করা আদেশে বলা হয়, অন্যজনের নামে নিবন্ধন করা মোবাইল ফোনের সিম পুলিশ সদস্যের ব্যবহার করা অনৈতিক ও বিধিবহির্ভূত। পাশাপাশি ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, ইমো, ইন্সটাগ্রাম, টুইটার কোনো ধরনের অ্যাকাউন্ট, পেজ, গ্রুপ খোলা ও ব্যবহার করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া, লাইক দেওয়া বা কমেন্টস করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা বাঞ্ছনীয়। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ডিভাইস বা নম্বর থেকে পুলিশের কোনো ইউনিট বা অন্য সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অ্যাকাউন্ট, পেজ বা গ্রুপ খোলা যাবে না। এ বিষয়ে নিজ নিজ ইউনিট প্রধানদের অধীন সব কর্মকর্তা বা সদস্যকে পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা অনুসরণ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে আরো বলা হয়েছে, এসকর্ট ডিউটি ও ভিআইপি ডিউটিসহ সব ধরনের অপারেশনস বা ডিউটিতে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালনকালে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন না। এক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়ার সময় কোন কোন পুলিশ সদস্য মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন তার মোবাইল নম্বর নামের পাশে উল্লেখ করতে হবে। পুলিশ সদস্যদের কর্তব্যরত অবস্থায় সেলফি বা ছবি তোলা থেকে বিরত থাকতে হবে। দায়িত্বরত অবস্থায় তোলা সেলফি বা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে। দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মোবাইল ফোনে গেমস খেলা, ভিডিও দেখা, গান শোনা, ইউটিউব দেখা, ফেসবুক চালনো, অনলাইন পত্রিকা বা নিউজপোর্টাল পড়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কর্তব্যরত অবস্থায় পুলিশ সদস্যদের (অনুমোদিত পুলিশ সদস্য ব্যতীত) মোবাইল ফোন ব্যবহার দৃষ্টিগোচর হলে তা কর্তব্যে অবহেলা হিসেবে গণ্য করা হবে বলেও পুলিশ সদর দপ্তরের ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়।

পুলিশ সদস্যদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯’ অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্টস, লাইক শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। জাতীয় ঐক্য ও চেতনার পরিপন্থী কোনোরকম তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এমন বা ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা যাবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে এমন কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড করা এবং লাইক, কমেন্টস বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো সার্ভিস বা পেশাকে হেয়প্রতিপন্ন করে এমন কোনো পোস্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। লিঙ্গ বৈষম্য বা এ সংক্রান্ত বিতর্কমূলক কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা যাবে না। জনমনে অসন্তোষ বা অপ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো বিষয় লেখা, অডিও বা ভিডিও প্রকাশ করা যাবে না। ভিত্তিহীন, অসত্য ও অশ্লীল তথ্য প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্য কোনো রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য সংবলিত কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক বা শেয়ার থেকে বিরত থাকতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কন্টেন্ট ও ফ্রেন্ড নির্বাচনে সবাইকে সতর্কতা অবলম্বন এবং অপ্রয়োজনীয় ট্যাগ, রেফারেন্স বা শেয়ার করা পরিহার করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপব্যবহার বা অ্যাকাউন্টে ক্ষতিকর কন্টেন্টের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন এবং সেজন্য প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।