শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

কক্সবাজারে পিস্তল ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগে ৩ পুলিশ গ্রেপ্তার

প্রকাশিতঃ মঙ্গলবার, মার্চ ২, ২০২১, ৮:০৮ অপরাহ্ণ


কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজারে বাড়িতে ঢুকে পিস্তল ঠেকিয়ে এক নারীর কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে একজন এসআইসহ তিন পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে।

পাশাপাশি তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান।

সোমবার (১ মার্চ) বিকেলে কক্সবাজার শহরের মধ্যম কুতুবদিয়া পাড়ায় রিয়াজ আহমদের স্ত্রী রোজিনা খাতুন এই ঘটনার শিকার হন।

গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্যরা হলেন, উপপরিদর্শক (এসআই) নুর-ই খোদা ছিদ্দিকী, কনস্টেবল আমিনুল মমিন ও মামুন মোল্লা। তারা তিনজনই শহর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল গিয়াস একুশে পত্রিকাকে জানান, গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্যদের মঙ্গলবার (২ মার্চ) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ সুপার জানান, সোমবার স্থানীয় দুই ব্যক্তির সহযোগিতায় শহরের মধ্যম কুতুবদিয়া পাড়ার রিয়াজ আহমদ নামের এক ব্যক্তির স্ত্রী রোজিনা খাতুনের ব্যাগভর্তি টাকা লুটের চেষ্টা করেন সাদা পোশাকে থাকা পুলিশের তিন সদস্য। ব্যাগ নিয়ে চারজন চলে যেতে পারলেও একজনকে ক্ষতিগ্রস্ত নারী ঝাপটে ধরে ফেলেন। নারীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ওই পুলিশ সদস্যকে আটকের পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ফোন করে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি জানার পরপরই দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক পুলিশ সদস্যকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় অপর সহযোগীদের নাম জেনে তাদেরও থানায় ডাকা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে তাদের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর তাদেরকে দ্রুত বিচার আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বিধানমতে মঙ্গলবার সকালে তাদের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ভুক্তভোগী রোজিনার স্বামী রিয়াজ আহমেদ বলেন, পুলিশ সদস্যদের মারধরে আমার স্ত্রী আহত হয়েছে। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।’

তবে, স্থানীয় একটি সূত্র দাবি করেছে, ভুক্তভোগী রোজিনার পরিবার মাদক কারবারে জড়িত। রোজিনা খাতুনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ আছে। এসবের মামলায় গ্রেপ্তারও হয়েছেন বেশ কয়েকবার। অপকর্ম ঢাকতে জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী নামধারী সুবিধাভোগী কিছু ব্যক্তিসহ অপরাধীদের সঙ্গে রোজিনাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। সেসব জেনেই সোর্স নামধারী দালালদের পরামর্শে পুলিশের অসাধু সদস্যরা রোজিনার বাড়িতে গিয়ে টাকা আত্মসাতের চেষ্টা চালিয়েছে।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান বলেন, আইনের চোখে সবাই এক। এ ঘটনার ভিকটিম মাদক ব্যবসায়ী হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তারাও আইনের আওতায় আসবে। তবে, গতকালের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা দোষি হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।