চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় এক দোকান কর্মচারীকে হত্যার ঘটনায় দুই ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও দুই বছরের কারাদন্ডও দেয়া হয়েছে। একই রায়ে তাদের আরেক ভাইসহ দুজনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় জননিরাপত্তা ট্রাইব্যুনালের বিশেষ জজ সৈয়দা হোসনে আরা এ রায় দেন।
কারাদন্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন- রেজাউল করিম লিটন ও তার ভাই মফিজুল ইসলাম ফারুক। এদের মধ্যে রেজাউল করিম লিটন পলাতক আছেন। খালাস পাওয়া দুজন হচ্ছেন- লিটন ও ফারুকের ভাই আজাদুল আলম এবং ওই দোকানের আরেক কর্মচারি আবুল কালাম।
জননিরাপত্তা ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুইজনকে যাবজ্জীবন দন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছর করে করাদন্ড দেয়া হয়। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আজাদুল আলম ও আবুল কালাম নামে দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ১ নভেম্বর রমজান মাসে ভোররাতে সাতকানিয়ার কেরাণীহাটে ভাই ভাই ক্লথ স্টোরে আকস্মিকভাবে দোকানের ভেতর কর্মচারী দিদারুল আলমের মৃত্যু হয়। এরপর মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে, দিদারুল আলমের মাথায়, বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে। আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পিতা মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুর রহমান সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে উঠে আসে, দোকান মালিক জাফরের মেয়ের সঙ্গে দিদারুলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রেমের ঘটনা ধামাচাপা দিতে দিদারুলকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে তারা। এরপর ২০০৯ সালের ২ জুন চারজনের বিরুদ্ধে দন্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। মামলায় ২৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের পর মঙ্গলবার আদালত এ রায় দেন।
