শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

আনোয়ারায় ৭ একর জমিতে সূর্যমুখীর হাসি

প্রকাশিতঃ বুধবার, মার্চ ৩, ২০২১, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ

জিন্নাত আয়ুব, আনোয়ারা: চট্টগ্রামে আনোয়ারায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষক। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৫ জন কৃষক সাড়ে সাত একর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। ইতোমধ্যেই গাছে ফুল ধরতে শুরু করেছে।

আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নে এস এম মহিউদ্দীন, তৈলারদ্বীপ এলাকার মোজাম্মেল হক, বারশত ইউনিয়নে মো. কাশেম, বরুমছড়া ইউনিয়নে দিদারুল ইসলাম, বেলচূড়া গ্রামের তৌহিদুল হক ও গুয়াপঞ্চক গ্রামের মোসলেম উদ্দীনসহ উপজেলা জুড়ে ১৫ জন কৃষক সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান।

সরেজমিনে উপজেলার তৈলারদ্বীপ গিয়ে দেখা যায়, মোজাম্মেল হকের জমিতে এক একটি ফুল যেন হাসিমুখে সূর্যের আলো ছড়াচ্ছে। চারিদিকে হলুদ ফুল আর সবুজ গাছের অপরূপ দৃশ্য। এ সৌন্দর্য দেখতে আশপাশের এলাকা থেকে ভিড় জমাচ্ছেন অনেকেই। কেউ কেউ আবার ফুলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবিও তুলছেন।

বারখাইন ইউনিয়নে শোলকাটা গ্রামের এস এম মহিউদ্দীন। সামাজ সেবামূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি কৃষিকাজও করেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়ে চলতি বছরসহ আগের মৌসুমে দুই দফা গ্রামে এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। মহিউদ্দীন বলেন, এর আগের মৌসুমেও ভালো লাভ পেয়েছি, আশাকরি এবারও ভালো লাভবান হব।

আনোয়ারা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, অল্প সময়ে কম পরিশ্রমে ফুল উৎপাদন ও ভালো দাম পাওয়া যায় বলে কৃষকরা এখন সূর্যমুখী চাষ করছেন। প্রতি বিঘা জমিতে ১ কেজি বীজ দিতে হয়। দেড় ফুট অন্তর অন্তর একটি করে বীজ বপণ করতে হয়। একটি সারি থেকে আরেকটি সারির দূরত্ব রাখতে হয় দেড় ফুট। মাত্র ৮৫ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে বীজ বপণ থেকে শুরু করে বীজ উৎপাদন করা সম্ভব। সূর্যমুখীর বিঘাপ্রতি ফলন ৬ থেকে ৭ মণ। একরের হিসেবে খরচ বাদ দিয়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ হয়। যা অন্য কোনো ফসলের চেয়ে কম পরিশ্রমে ভালো আয় হয়।

কৃষক মো. কাশেম বলেন, “উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শে দেড় বিঘা জমি নিয়ে সূর্যমুখীর চাষ শুরু করেছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আশা করছি ভালো আয় হবে।”

আনোয়ারা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বলেন, “সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ছয় থেকে সাড়ে ছয় মণ সূর্যমুখী ফুলের বীজ পাওয়া যাবে। কৃষকদের স্বাবলম্বী করতেই সূর্যমুখী ফুল চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। গত বছরও আনোয়ারায় পরীক্ষামূলকভাবে সূর্যমুখী ফুল চাষে কৃষক ভালো লাভবান হয়েছে। এবার কৃষকরা নিজ উদ্যোগে এই চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এতে আমরাও উৎসাহসহ মাঠপর্যায়ে গিয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি। তবে আনোয়ারায় কৃষিক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসনও বেশ উদ্যেগী। কৃষকদের উৎসাহিত করতে ইউএনও মহোদয়ও প্রায় সময় মাঠে ছুটে যায় এবং কৃষকদের পরামর্শ দেয়।

এই প্রসঙ্গে ইউএনও শেখ জুবায়ের আহমেদ বলেন, আনোয়ারার জমি কৃষি উর্বর জমি। এখানে সকল প্রকার ফসলের ভালো ফলন হয়। এইজন্য এই নিয়ে কাজ করতেও আমি আগ্রহী। আনোয়ারায় আমরা উপজেলা প্রশাসন থেকে কৃষকদের বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করে যাচ্ছি। কৃষকরাও মাঠে ভালো করছে। এবার উপজেলায় প্রায় ২০০ একর জমিতে বিষমুক্ত সবজি চাষেও খুব ভালো করেছে আনোয়ারার কৃষকরা। সূর্যমুখী ফুল চাষে এবারসহ দুই মৌসুমে আনোয়ারায় ভালো ফলন হচ্ছে। কৃষকরাও আগ্রাহ দেখাচ্ছে তাই ভালো লাগে মাটি ও মানুষের পাশে থাকতে।