শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

জমজম কূপের প্রধান প্রকৌশলী ড. ইয়াহিয়া হামজা আর নেই

প্রকাশিতঃ বুধবার, মার্চ ৩, ২০২১, ৫:৪০ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক: জমজম কূপের প্রধান প্রকৌশলী ডা. ইয়াহিয়া হামজা কোসাক গত সোমবার (১ মার্চ) ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। ড. ইয়াহিয়া হমাজা কোসাক সৌদি আরবের পানি ও ড্রেনেজ কর্তৃপক্ষের সাবেক পরিচালক।

প্রকৌশলী ড. ইয়াহইয়া হামজা কোশক সৌদি আরবের প্রকৌশলীদের জনক হিসেবে পরিচিত। জমজম কূপের উন্নয়নে পরিকল্পনা অনুযায়ী অনেক উন্নয়ন কাজের জনক।

১৯৭৯ সালের জমজম কূপ পরিষ্কারকরণ প্রকল্পটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ পরিষ্কারকরণ প্রকল্প। তিনিই প্রথম জমজমের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে কূপে ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন। তিনি সৌদি আরবের ন্যাশনাল ওয়াটার কোম্পানির মহাপরিচালক ছিলেন। এছাড়া সৌদির প্রেস ও প্রকাশনা সংস্থার সদস্যও ছিলেন।

১৯৭৯ সালে তিনি এবং তার দল জম জম কূপকে অতিবেগুনী রশ্মি দিয়ে জীবাণুমুক্ত করেন। তিনি তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন, জম জম কূপের পানি চমৎকার স্বাদযুক্ত এবং রোগ প্রতিরোধক।

পবিত্র নগরী মক্কার এক সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী পরিবারে জন্ম নেন প্রকৌশলী ড. ইয়াহইয়া হামজা কোশক। তাঁর পিতা মক্কার বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর পিতা হজ মৌসুমে ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ তুর্কি থেকে আগত হজ ও ওমরা পালনকারীদের সেবা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।

ড. ইয়াহইয়া হামজার মা ছিলেন বাদশাহ ফয়সালের স্ত্রী রানী ইফফাতের ঘনিষ্ট বান্ধবী। মসজিদে হারামে দেখা-সাক্ষাতে মিলিত হতেন তারা।

বাদশাহ ফয়সাল ও তার স্ত্রীর প্রতিষ্ঠিত তায়েফ শহরের প্রথম স্কুলে ড. ইয়াহইয়া পড়ালেখা শুরু করেন। পরে তিনি মিসরের কয়রোতে প্রকৌশল বিজ্ঞানে পড়াশোনা শুরু করেন। দেশে ফিরে তিনি রাজধানী রিয়াদে প্রকৌশল বিজ্ঞানের পড়াশোনা সম্পন্ন করেন।

প্রকৌশল বিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রি ও গবেষণা করতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন। সেখানে তিনি উচ্চতর শিক্ষা ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

সৌদি আরবের ন্যাশনাল ওয়াটার কোম্পানিতে দায়িত্ব পালনকালে এবং জমজম কূপের উন্নয়নে কাজ করার সময় তিনি তার সহকর্মীদের কাছে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তাঁর মৃ;ত্যুতে সৌদি আরব গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।