শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

ভারতে ধর্ষিতাকে বিয়ে করে ধর্ষককে রেহাইয়ের প্রস্তাব প্রধান বিচারপতির!

প্রকাশিতঃ বুধবার, মার্চ ৩, ২০২১, ৯:৫৪ অপরাহ্ণ


ফায়সাল করিম : ধর্ষিতাকে বিয়ে করে ধর্ষককে সাজা এড়ানোর সুযোগ করে দেয়া হবে এমন প্রস্তাব দিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি শরদ অরবিন্দ ববদে। ক্ষোভের মুখে তাঁর পদত্যাগের দাবী জানিয়েছে নারী অধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন ধর্ষণবিরোধী এনজিও।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ধর্ষিতা একে তো একজন স্কুলছাত্রী তার উপর তাকে বিয়ে করে অভিযুক্ত ধর্ষককে জেলে যাওয়া এড়ানোর প্রস্তাব দেন প্রধান বিচারপতি। দেশটির বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ কর্মকর্তার এমন কান্ডে তৈরি হয়েছে তীব্র সমালোচনার ঝড়।

এই মামলার এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতি শরদ অরবিন্দ ববদে অভিযুক্ত ধর্ষককে বলেন: “আপনি যদি ধর্ষিতাকে বিয়ে করতে চান, তাহলে আমরা আপনাকে সাহায্য করতে পারি। আর যদি তা না পারেন, তবে আপনি চাকরি হারিয়ে জেলের ভাত খাবেন।”

বুধবার তার বিরুদ্ধ মাঠে নামা এক অধিকারকর্মী বাণী সুব্রামানিয়ান গণমাধ্যমে বলেন, ববদে’র মন্তব্য এক তুমুল ক্ষোভের সঞ্চার করেছে এবং নারী অধিকার কর্মীরা তার পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠি দিয়েছে।

চিঠি অনুসারে অভিযোগ, চার বছর আগে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মেয়েটিকে বেঁধে রেখে ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণের পর তাকে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে, এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার ভীতি দেখায়। পাশাপাশি মেয়েটির ভাইকে হত্যা করার হুমকিও দেয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, “নির্যাতিতা মেয়েটিকে বিয়ে করার পরামর্শ দিয়ে ধর্ষককে রেহাই দেয়ার সুযোগ করে দেয়ার প্রচেষ্টা ন্যাক্কারজনক। এর মধ্য দিয়ে প্রধান বিচারপতি আত্মহত্যার চেষ্টা করা মেয়েটিকে আজীবন ধর্ষকের হাতে ধর্ষিত হওয়ার মুখে ঠেলে দিতে চেয়েছেন।”

এর আগে সোমবার আরেকটি শুনানিতে বিবাহিত দম্পতির মধ্যে যৌন মিলনকে কখনও ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমালোচনার মুখে পড়েন ববদে।

আল জাজিরা জানায়, ২০১২ সালে নয়া দিল্লিতে একটি বাসে এক ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও হত্যার পর থেকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষোভ বেড়েছে সারা ভারতে। অভিযোগ আছে, দেশটিতে নির্যাতিতারা পুলিশ এবং আদালতের হাতে নিয়মিত যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। এছাড়া তথাকথিত সমঝোতার নামে ধর্ষিতাদের বিয়ে করে ধর্ষককে রেহাই দেয়ার প্রবণতাও আছে ভারতে।