শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

বন্দি উধাও: চট্টগ্রাম কারাগার পরিদর্শনে সুরক্ষা সেবার সচিব

প্রকাশিতঃ রবিবার, মার্চ ৭, ২০২১, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : একজন বন্দি নিখোঁজের ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার পরিদর্শনে এসেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুজ্জামান।

আজ রোববার বিকাল চারটার দিকে তিনি কারাগারে এসে পৌঁছান। এ সময় তাকে অভ্যর্থনা জানান চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান।

এর আগে গতকাল শনিবার সকালে কারাগার থেকে নিখোঁজ হওয়া বন্দি ফরহাদ হোসেন রুবেলের হদিস পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এদিকে বন্দি নিখোঁজের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে জেলার ও একজন ডেপুটি জেলারকে প্রত্যাহার এবং দুইজন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে বন্দী রুবেল কী পালিয়ে গেল, নাকি তাকে ঘিরে কারা অভ্যন্তরে অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটেছে তা নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। অদ্ভুদ এ পরিস্থিতির মধ্যে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

কারা সূত্র জানায়, নিখোঁজের দুইদিন আগে ৪ মার্চ অন্য বন্দির সাথে মারামারিতে লিপ্ত হয় রুবেল। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে রুবেলকে শাস্তি হিসাবে কর্ণফুলী ভবনের ১৫ নম্বর ‘পানিশমেন্ট’ ওয়ার্ড’-এ ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রাখা হয়েছিল।

নিখোঁজ থাকা রুবেল গত ৯ ফেব্রুয়ারি একটি সদরঘাট থানার একটি হত্যা মামলায় কারাগারে যান।

এর আগে ২০১৮ সালে রুবেল কারাগারে গেলে সে সময় দুইবার কারাগারের ড্রেনে ও ছাদে আত্মগোপন করেন। সে সময় ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করে তাকে উদ্ধার করেছিল কারা কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার রফিকুল ইসলাম কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। এর আগে একই ঘটনা নিয়ে একই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খান।

এতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘শনিবার (৬ মার্চ) ভোর ৬টা থেকে তালামুক্ত করার পর ফরহাদ হোসেন ওরফে রুবেল নামে এক হাজতিকে পাওয়া যাচ্ছে না। যার হাজতি নম্বর ২৫৪৭/২১। তিনি গত ৯ ফেব্রুয়ারি সদরঘাট থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আসেন। তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানায়।’

কারা সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম কারাগারের ১৫ নম্বর কর্ণফুলী ভবনের ‘পানিশমেন্ট’ ওয়ার্ডে হত্যা মামলার আসামি ফরহাদ হোসেন রুবেলসহ অন্য আসামিদের রুমে তালাবদ্ধ করে দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শনিবার ভোর ৬টায় যখন আবার কক্ষের তালা খোলা হয় তখন হাজতিদের রোলকল করা হয়। তখনই সন্ধান মিলছিল না রুবেল নামের ওই হাজতির।

কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যেও তালাবদ্ধ একটা ভবন থেকে একজন হাজতির হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তোলপাড় চলছে কারা অভ্যন্তরে। কারা অভ্যন্তরেই ওই হাজতি লুকিয়ে থাকতে পারে ধারণা করে সেখানে ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি মোকাবেলায় অতিরিক্ত পুলিশও কারাগারে প্রবেশ করানো হয়েছে।

জানা গেছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে সদরঘাট থানার এসআরবি রেল গেইট এলাকায় আবুল কালাম আবু নামে এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীকে বুকে ছুরিকাঘাত করেন রুবেল। পরদিন সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কালাম হাসপাতালে মারা যান। ৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে হত্যার অভিযোগে ডবলমুরিং থানার মিস্ত্রি পাড়া থেকে ফরহাদ হোসেন রুবেলকে গ্রেপ্তার করে সদরঘাট থানা পুলিশ। ওই মামলায় ৯ ফেব্রুয়ারি আদালতের মাধ্যমে কারাগারে যান রুবেল।