শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

‘এলডিসি থেকে পাঁচটি দেশের বের হওয়া আর বাংলাদেশের বের হওয়া এক নয়’

প্রকাশিতঃ রবিবার, মার্চ ৭, ২০২১, ৭:১৪ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে আগে যে পাঁচটি দেশ বেরিয়ে এসেছে তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা চলে না বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর।

আজ রোববার নগরের দি কিং অব চিটাগংয়ে সিএমপির উত্তর বিভাগের পাঁচলাইশ থানা আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ ও এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশের উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, ‘এর আগে পৃথিবীতে মাত্র পাঁচটি দেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে নাম কাটাতে পেরেছে। এই পাঁচটি দেশ হচ্ছে বোতসোয়ানা, কেপ ভারদে, মালদ্বীপ, সামোয়া ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনি। মজার কথা হচ্ছে, বোতসোয়ানার জনসংখ্যা ২৩ লাখ, কেপ ভারদের জনসংখ্যা ৫ লাখ, মালদ্বীপের জনসংখ্যা ৫ লাখ, সামোয়ার জনসংখ্যা ২ লাখ, ইকুয়েটোরিয়াল গিনির জনসংখ্যা ১৩ লাখ। আর চট্টগ্রাম মহানগরীতে বসবাসকারী লোক ৭০ লাখ।’

‘অর্থ্যাৎ চট্টগ্রাম মহানগরীতে বসবাসকারী অর্ধেক মানুষের বাস ওই পাঁচটি দেশে। তাই ওই পাঁচটি দেশের এলডিসি থেকে বের হওয়া আর ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশের এলডিসি থেকে বের হওয়াকে কোনোভাবেই এক করা যায় না। এটা একটি বিশাল অর্জন।’

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের বার্ষিক মাথাপিছু গড় আয় দুই হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এটা অবিশ্বাস্য। বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দাতেও ক্রমাগতভাবেই আমাদের অগ্রগতি বাড়ছে। এই করোনার মধ্যে যে চারটি দেশের জিডিপি বেশি বেড়েছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে বাংলাদেশ। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, যদি স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।’

সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে কাজ করছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে নিয়ে আসার জন্য কাজ করছেন। এই উন্নত বাংলাদেশের জন্য আমাদের তৈরি হতে হবে। আমরা স্বপ্ন দেখি আগামী দিনের বাংলাদেশ পৃথিবীতে বিস্ময় হবে। এজন্য আমাদের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হবে। চট্টগ্রামকে ঘিরে বর্তমান সরকারের বিশাল পরিকল্পনা আছে। এজন্য আমরা চাই স্থিতিশীল চট্টগ্রাম। আমরা চাই বিনিয়োগবান্ধব চট্টগ্রাম। এজন্য আপনাদের কাছে সহযোগিতা চাই।’

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আনোয়ারুল আজিম আরিফ বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ যুগে যুগে পৃথিবীর সব স্বাধীনতাকামী জাতি-গোষ্ঠীকে অনুপ্রেরণা জোগাবে। এ কারণেই ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালে ইউনেস্কোর মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ বছর আরেকটি মাইলফলক আমরা অর্জন করেছি। সেটি হচ্ছে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরের জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। এটি জাতির একটি মহান অর্জন। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য যুব সমাজকে অনুধাবন করতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার ক্ষেত্রে যুব সমাজকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের প্রত্যেকটি শব্দ আমাদের জন্য একটি করে কাব্যগাঁথা। কোন প্রকার লেখনি ছাড়াই বঙ্গবন্ধু শব্দগুলো উচ্চারণ করেছেন একটি মঞ্চে দাঁড়িয়ে। কেউ দাবায়ে রাখতে পারবানা– এই কথাটি যিনি বলতে পারেন, তিনি জানেন এই কথাটা বলার পর তিনি গ্রেপ্তার হতে পারেন, তাকে যে কোন সময় মৃত্যুবরণও করতে হতে পারে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়েও তিনি বলেছেন কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না, এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম। এই যে স্বাধীনতার ডাক তিনি দিয়েছেন, মুক্তির পথ খুলে দিয়েছে, আমরা মুক্তির সেই পথে এগিয়ে যেতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৮ মাস কারাবরণ করেছেন বঙ্গবন্ধু। ২৪টি মামলার আসামি হয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে তিনি আমাদেরকে সংবিধান দিয়েছেন, বাংলাদেশ দিয়েছেন, পতাকা দিয়েছেন, জাতীয় সংগীত দিয়েছেন। একজন অর্থনীতিবিদ বলেছিলেন, বাংলাদেশ ধনী দেশ হলে পৃথিবীতে আর কোন গরীব দেশ থাকবে না। সেই অর্থনীতিবিদকে আমরা এখন দেখাতে চাই, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। এই প্রাাপ্তি, আপনার আমার সকলের। প্রধানমন্ত্রী আমাদের দেশকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, আমি বিশ্বাস করি তার নেতৃত্বে এগিয়ে গেলে আমরা দ্রুত উন্নত বিশ্বে পদাপর্ণ করতে পারবো।’

অনুষ্ঠানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) চট্টগ্রাম মেট্রোর বিশেষ পুলিশ সুপার শাহনেওয়াজ খালেদ, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্যসচিব অহিদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), কাউন্সিলর মোরশেদ আলম ও জেসমিন পারভীন জেসি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাশেম ভুঁইয়া।