শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১, ৩ বৈশাখ ১৪২৮

‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার মন্ত্র পায়’

প্রকাশিতঃ রবিবার, মার্চ ৭, ২০২১, ৮:২৩ অপরাহ্ণ


চট্টগ্রাম : একাত্তরের ৭ মার্চ যে ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, সেই ভাষণের মাধ্যমে বাঙালি স্বাধীনতার মন্ত্র পেয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. অনুপম সেন।

রোববার (৭ মার্চ) নগরের আগ্রাবাদের দাল্লা মেডিকেল সংলগ্ন মাঠে ডবলমুরিং থানা পুলিশ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ও বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রফেসর ড. অনুপম সেন বলেন, ‘গত ৫০ বছরে পুলিশকে ৭ মার্চ উদযাপন করতে আমি দেখিনি। তারা যে এ ধরণের একটা বিষয়কে উদযাপন করবে সেটাও কেউ কখনো কল্পনা করেনি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে মধ্যে ৭ মার্চ অন্যতম একটি অংশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই ভাষণটি মূলত বাঙালিকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাই পুলিশ প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিসন্দেহে প্রশংসনীয় কাজ।

ড. অনুপম সেন বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকেই আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখা শুরু হয়। ৭ মার্চের ভাষণে বাঙালি স্বাধীনতার মন্ত্র পায়। সেই মন্ত্রেই সশস্ত্র হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করে বিজয় ছিনিয়ে আনে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রতি পাড়া মহল্লায় সংগ্রাম কমিটি গঠন করতে বলেন। আমরা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ও সংগ্রাম কমিটি গঠন করি। ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিনই লালদিঘী মাঠে কমিটির কর্মসূচি পালন করা হত।

বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল বলেই এত উন্নয়ন করতে পারছে মন্তব্য করে ড. অনুপম সেন বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ এক কোটি টন শস্য উৎপাদন করত, এখন চার কোটি টন শস্য উৎপাদন করে।

‘বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বাংলাদেশ নিজ অর্থায়নে পদ্মাসেতু করেছে, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল করছে, ইকোনমিক জোন করছে, দুই হাজার ডলারের উপরে মাথাপিছু আয় হয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে- এগুলো সবই হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে। উন্নয়নের যে ধারাবাহিকতা চলছে তা অব্যাহত রাখতে পারলে ২০৫০ এর মধ্যেই আমরা উন্নত দেশে পরিণত হব।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) পশ্চিম জোনের উপ কমিশনার মো. আব্দুল ওয়ারিশ। তিনি বলেন, ‘৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু যদি জাতির উদ্দেশ্যে সেই দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ না দিতেন তাহলে আমরা নিজেদের স্বাধীনতা অর্জনে লড়াই করার সাহস পেতাম না। আমরা আজও পরাধীন থাকতাম। এমনটা হলে আমি পুলিশের দায়িত্ব পালন করতে পারতাম না, যারা সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তারা সরকারি চাকরি করতে পারতেন না।’

ডবলমুরিং থানার উপ পরিদর্শক কিশোর মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আমাদের সময় চচট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান হামিদ উল্লাহ, দৈনিক সমকাল চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সারওয়ার সুমন। ঐতিহাসিক ৭ মার্চের স্মৃতিচারণ করেন ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইউনুস।

স্বাগত বক্তব্যে ডবলমুরিং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য যেভাবে বাংলাদেশ পুলিশ রাজারবাগ থেকে প্রথম প্রতিরোধ গড়েছিল। একইভাবে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায়, মানুষের জানমাল নিরাপত্তা রক্ষায়ও বাংলাদেশ পুলিশ সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশের যে অদম্য অগ্রযাত্রা, সে অগ্রযাত্রায় সহায়ক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ পাশে থাকবে বলে মন্তব্য করেন ত আস্থাশীল।