রুবেলের দাবি `মাছ কাদের’ই জেল থেকে পালাতে উদ্বুদ্ধ করেছেন!


মোহাম্মদ রফিক : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর আবদুল কাদেরই জেল থেকে পালাতে উদ্বুদ্ধ করেছেন বলে দাবি করেছেন জেল-পালানো ফরহাদ হোসেন রুবেল।

নরসিংদি থেকে মঙ্গলবার (৯ মার্চ) সকালে গ্রেফতারের পর একইদিন সন্ধ্যায় সিএমপির কোতোয়ালী থানা থেকে আদালতে নিতে গাড়িতে তোলার প্রাক্কালে পুলিশের উপস্থিতিতে একুশে পত্রিকার কাছে এই দাবি করেন রুবেল।

নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ভেদ করে কার সহায়তায় জেল থেকে পালিয়েছেন জানতে চাইলে ফরহাদ হোসেন রুবেল সরাসরি জবাব দেন- মাছ কাদের (সাবেক কাউন্সিলর আবদুল কাদের)। কেন? তিনি কীভাবে সহায়তা করলেন?- রুবেল বলেন, তিনি আমাকে জেল থেকে পালাতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। এসময় আবদুল কাদের তাকে জেল থেকে বের করারও আশ্বাস দেন বলে জানান।

তিনি (কাদের) হয়তো জামিন করানোর কথা বলেছিলেন, কিন্তু পালাতে তো বলেননি- এমন প্রশ্নে নিরুত্তর থাকেন রুবেল।

এর আগে তদন্ত কমিটির কাছে সিসিটিভি ফুটেজে শনিবার (৬ মার্চ) ভোর ৫টায় ফাঁসির সেলের পাশে নির্মাণাধীন ৬ তলা ভবনের ৪ তলা থেকে লাফ দিয়ে পালানোর দৃশ্য ধরা পড়ে। বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে,
৬০ ফুট উঁচু ভবন থেকে লাফ দেয়ার পরও শরীরে কোনও আঘাত পাননি রুবেল। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রুবেল বলেন, অতসব জানি না, তবে স্বাভাবিকভাবেই আমি হেঁটে রেল স্টেশনে গেছি। তবে বাম পায়ের হাঁটু পর্যন্ত ব্যান্ডেজ, মুখে আঘাত কেন-এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি তিনি।

এদিকে, সাবেক কাউন্সিলর আবদুল কাদের পালাতে উদ্বুদ্ধ করেছেন বলে রুবেল দাবি করলেও বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করছেন অনেকে। সচেতনজনদের মতে, এটা একটা হাস্যকর দাবি। আবদুল কাদের জেলে উপস্থিত থেকে পালাতে সহযোগিতা করলে সেটা হয়তো ধর্তব্য বিষয় হতে পারতো। কিন্তু আবদুল কাদের তো ২৪ ফেব্রুয়ারি কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে এসেছেন। তাছাড়া রুবেল পেশাদার ছিনতাইকারী হিসেবে পরিচিত। নগরের সদরঘাটে ভ্যানচালকে হত্যার দায়ে রুবেল কারাগারে গেছেন। এমন একজন হাজতির সঙ্গে কাদেরের সখ্যতা অতপর পালাতে উদ্বুদ্ধ করার দাবিটা খুব বেশি যৌক্তিক কিনা সেটা ভেবে দেখার বিষয়।

এর আগে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ কর্মকর্তা (এডিসি) পলাশ কান্তি নাথ সাংবাদিকদের জানান, সেদিন (৬ মার্চ) ভোর সাড়ে ৫ টায় রুবেল ৬০ ফুট উচ্চতার ভবন থেকে লাফ দিয়ে কারাগার থেকে পালিয়ে যান। সকাল দশটার ট্রেনে চড়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা চলে যান। এরপর সেখান থেকে গাড়িতে চড়ে নরসিংদী জেলার ফুফুর বাড়িতে যান। ৬০ ফুট ঊঁচু ভবন থেকে লাফ দেয়ার সাড়ে চার ঘণ্টা পর চট্টগ্রাম স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে চড়েন রুবেল।

এত ঊঁচু ভবন থেকে লাফ দেওয়ার পর কীভাবে সে রেলস্টেশনে গেল। আর মাঝখানের সাড়ে চারঘণ্টা তিনি কোথায় ছিল?

এসব প্রশ্নের উত্তরে অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) পলাশ কান্তি নাথ সাংবাদিকদের বললেন, ‘তাকে আমরা রিমান্ডে আনব। এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করব। তদন্তে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, জেল-পালানো রুবেল দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী। শারীরিকভাবে সে খুব ফিট। তাকে অন্যরা ভয় পায়। ৬০ ফুট উচ্চতার ভবন থেকে লাফ দিয়েও সে আহত হয়নি। তার পা একটু মচকে গেছে, ভাঙেনি। স্বাভাবিকভাবেই ট্রেন ধরতে সে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে গেছে।